ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
বঙ্গবন্ধু কবে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন?
- খ)(2)
মুক্তিযুদ্ধে নারীদের অবদান লেখ।
- গ)(3)
উদ্দীপকের চিত্রটি কোন ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী? ব্যাখ্যা দাও।
- ঘ)(4)
তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে উক্ত ঘটনার তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে নারীদের অবদান ছিল অনস্বীকার্য। তাঁরা মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দেওয়া, খাদ্য প্রস্তুত করা, অস্ত্র ও গোপন বার্তা পৌঁছানো এবং গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ পরোক্ষ ভূমিকা পালন করেন। এছাড়াও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা-শুশ্রূষা এবং তারামন বিবি, সেতারা বেগমের মতো বহু নারী সরাসরি অস্ত্র হাতে সম্মুখ সমরে অংশ নেন। প্রায় দুই লক্ষাধিক নারী পাকিস্তানি বাহিনীর পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্রটি ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরে রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পাকিস্তানি বাহিনীর ঐতিহাসিক আত্মসমর্পণের ঘটনার সাক্ষী।
ছবিটিতে যৌথ কমান্ডের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার সাথে পাকিস্তানি বাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এ. কে. নিয়াজীকে আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করতে দেখা যাচ্ছে। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের পর ডিসেম্বরের শুরুতে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর যৌথ আক্রমণের মুখে পাকিস্তানি বাহিনী সম্পূর্ণ কোণঠাসা হয়ে পড়ে। অবশেষে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে বাংলাদেশ শত্রুমুক্ত হয় এবং এই চিত্রটি সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তটিকেই ধারণ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নির্দেশিত পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের ঘটনাটি বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বাধিক তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। পাঠ্যবইয়ের আলোকে এর তাৎপর্য নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের চূড়ান্ত বিজয়: এই আত্মসমর্পণের মাধ্যমেই স্বাধীন সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ বিশ্ব মানচিত্রে সগৌরবে আত্মপ্রকাশ করে এবং ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।
২. দীর্ঘকালীন পাকিস্তানি শোষণ ও দুঃশাসনের অবসান: ১৯৪৭ সাল থেকে চলা পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসন, অর্থনৈতিক শোষণ, রাজনৈতিক বঞ্চনা ও সাংস্কৃতিক নিপীড়নের স্থায়ী অবসান ঘটে।
৩. শহীদের আত্মত্যাগের সার্থকতা: তিরিশ লক্ষ শহীদের রক্ত এবং দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে যে প্রতিরোধ গড়ে উঠেছিল, এই আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে তার চূড়ান্ত সার্থকতা ও স্বীকৃতি লাভ করে।
৪. আন্তর্জাতিক সামরিক ইতিহাসে বিরল দৃষ্টান্ত: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রায় ৯৩ হাজার সশস্ত্র সেনার একযোগে আত্মসমর্পণের নজির ইতিহাসে বিরল, যা যৌথবাহিনীর রণকৌশল ও বাঙালি মুক্তিবাহিনীর অপরাজেয় মনোভাবের বিজয়কে প্রমাণিত করে।সুতরাং, ১৬ ডিসেম্বরের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানটি কেবল একটি সামরিক আনুষ্ঠানিকতা ছিল না, বরং তা ছিল বাঙালির পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে নবজীবনের সূচনা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও