‍ইতিহাস ২য় পত্র • প্রথম বিশ্বযুদ্ধ এবং ভার্সাই সন্ধি ও লীগ অব নেশনস • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩

‍ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র ও চীন পাকিস্তানের পক্ষে কাজ করে। বিপরীতে ভারত ও রাশিয়া বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান নেয়। মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে দুটি পক্ষের সৃষ্টি হয় এবং দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।

  1. ক)

    প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রত্যক্ষ কারণ কোনটি?

    (1)
  2. খ)

    উগ্র জাতীয়তাবাদ বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত পরিস্থিতির সাথে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পূর্ববর্তী কোন অবস্থার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    বর্ণিত যুদ্ধে বিজয়ী শক্তির সাফল্যের কারণসমূহ বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রত্যক্ষ কারণ ছিল অস্ট্রিয়ার যুবরাজ আর্চডিউক ফ্রাঞ্জ ফার্ডিনান্দ এবং তাঁর পত্নী সোফিকে সার্বীয় সন্ত্রাসবাদী সংগঠন কর্তৃক বসনিয়ার সারায়েভো শহরে গুপ্তহত্যা।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উগ্র জাতীয়তাবাদ বলতে এমন এক অন্ধ ও চরম জাতীয়তাবাদী চেতনাকে বোঝায়, যার মূল কথা হলো 'আমার দেশ বা জাতিই শ্রেষ্ঠ এবং অন্য সকল জাতি নিকৃষ্ট'। এই ধারণায় নিজ দেশের প্রতি অহেতুক অহংকার এবং অন্যান্য দেশের প্রতি বিদ্বেষ ও শত্রুভাবাপন্ন মনোভাব পোষণ করা হয়। এই আগ্রাসী মানসিকতা বিশ্বশান্তি বিনষ্ট করে যুদ্ধের পরিবেশ সৃষ্টি করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত পরিস্থিতির সাথে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পূর্ববর্তী ইউরোপের 'গুপ্ত কূটনীতি ও পরস্পরবিরোধী সামরিক জোট ব্যবস্থা'-র সাদৃশ্য রয়েছে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে পরাশক্তিগুলো দুটি বিপরীত জোটে বিভক্ত হয়ে পড়ে—একপক্ষে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন, অন্যপক্ষে ভারত ও সোভিয়েত রাশিয়া। ফলে এক ধরনের আন্তর্জাতিক উত্তেজনা ও মেরুকরণ তৈরি হয়।

    প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পূর্বেও ইউরোপের প্রধান শক্তিগুলো ঠিক একইভাবে পারস্পরিক অবিশ্বাস ও আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে দুটি বৃহৎ সামরিক জোটে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল। ১৮৮২ সালে জার্মানি, অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি ও ইতালিকে নিয়ে গড়ে ওঠে 'ত্রিশক্তি চুক্তি' (Triple Alliance)। এর জবাবে ফ্রান্স, ব্রিটেন ও রাশিয়া ১৯০৭ সালে গঠন করে 'ত্রিশক্তি আঁতাত' (Triple Entente)। এই দ্বিদলীয় জোট ব্যবস্থা ও শক্তির ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার প্রতিযোগিতা ইউরোপে যুদ্ধাবস্থা ও তীব্র উত্তেজনা তৈরি করেছিল। উদ্দীপকে মুক্তিযুদ্ধকালীন পরাশক্তিদের মেরুকরণের ঘটনাটি প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পূর্ববর্তী এই সামরিক জোটবদ্ধতার প্রতিচ্ছবি।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রথম বিশ্বযুদ্ধে মিত্রশক্তি (Allied Powers)-র বিজয়ের পেছনে বহুবিধ সামরিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত কারণ দায়ী ছিল। নিম্নে তা বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. অর্থনৈতিক ও সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব: মিত্রশক্তির প্রধান সদস্য ছিল ব্রিটেন, ফ্রান্স, রাশিয়া (পরবর্তীতে প্রত্যাহার করে) এবং ১৯১৭ সাল থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এসব দেশের যৌথ অর্থনৈতিক ও সামরিক সামর্থ্য অক্ষশক্তি (কেন্দ্রীয় শক্তি)-র তুলনায় বহুগুণ বেশি ছিল।

    ২. নৌ-আধিপত্য ও অবরোধ: ব্রিটেনের বিশাল ও আধুনিক নৌবহর সাগরে জার্মানির ওপর কঠোর অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করে। ফলে জার্মানিতে খাদ্য, অস্ত্র তৈরির কাঁচামাল ও প্রয়োজনীয় রসদ পৌঁছানো বন্ধ হয়ে যায়, যা তাদের চরমভাবে দুর্বল করে ফেলে।

    ৩. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যোগদান: ১৯১৭ সালে মিত্রশক্তির পক্ষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে যোগদান যুদ্ধের মোড় সম্পূর্ণরূপে ঘুরিয়ে দেয়। আমেরিকার অফুরন্ত সম্পদ, সৈন্যবল এবং নতুন উদ্যম ক্লান্ত মিত্রবাহিনীকে অভাবনীয় শক্তি জোগায়।

    ৪. অক্ষশক্তির অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা: অক্ষশক্তির প্রধান অংশীদার অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি এবং অটোমান সাম্রাজ্য অভ্যন্তরীণ জাতিগত বিদ্রোহ ও বিশৃঙ্খলার কারণে অকার্যকর হয়ে পড়ে। জার্মানি প্রায় একাই যুদ্ধ চালিয়ে যেতে বাধ্য হয় এবং জনবল ও রসদের অভাবে তাদের পতন ত্বরান্বিত হয়।

    সুতরাং, সম্মিলিত সম্পদের প্রাচুর্য, নৌবাহিনীর আধিপত্য এবং বিশেষ করে আমেরিকার যোগদানই মিত্রশক্তির বিজয় নিশ্চিত করেছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন