‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৫

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

'ক' নামক রাষ্ট্রের স্বাধীনতা লাভের পর ব্যাপক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে দেশটি পরিচালনার জন্য একটি দলিল পেশ করা হয়। উক্ত দলিলটিতে সরকার ব্যবস্থা, আইনসভা, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি ও মানুষের মৌলিক অধিকারের কথা বলা হয়। পরবর্তীতে রাষ্ট্রের প্রয়োজনে উঃ দলিলের বিভিন্নভাবে পরিমার্জন ও সংযোজন করা হয়।

  1. ক)

    মুসলিম লীগ কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?

    (1)
  2. খ)

    মৌলিক অধিকার বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত রাষ্ট্রটির দলিলের সাথে কোন দেশের দলিলের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' রাষ্ট্রের দলিলে সংযোজিত উল্লেখযোগ্য সংশোধনীসমূহ বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর সর্বভারতীয় মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মৌলিক অধিকার হলো রাষ্ট্রের সংবিধান কর্তৃক স্বীকৃত ও সংরক্ষিত সেসব অপরিহার্য সুযোগ-সুবিধা ও স্বাধীনতা, যা নাগরিকের ব্যক্তিত্বের পূর্ণ বিকাশ এবং স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য অপরিহার্য। এই অধিকারগুলো রাষ্ট্রীয় আইন দ্বারা বলবৎযোগ্য এবং কোনোভাবেই ক্ষুণ্ণ করা যায় না।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত রাষ্ট্রটির দলিলের সাথে বাংলাদেশের সংবিধানের হুবহু মিল রয়েছে।

    উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রটি স্বাধীনতা লাভের পর ব্যাপক আলোচনার মাধ্যমে দেশ পরিচালনার জন্য একটি দলিল (সংবিধান) প্রণয়ন করে, যাতে সরকার ব্যবস্থা, আইনসভা, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি এবং মৌলিক অধিকার সন্নিবেশিত হয়।

    বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর গণপরিষদে দীর্ঘ আলাপ-আলোচনা ও পর্যালোচনার মাধ্যমে ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর একটি অনন্য সংবিধান গৃহীত হয় এবং তা একই বছরের ১৬ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়। এই সংবিধানে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা, এক কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা (জাতীয় সংসদ), চারটি রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি এবং নাগরিকদের তৃতীয় ভাগে মৌলিক অধিকারের সুস্পষ্ট বিবরণ লিপিবদ্ধ করা হয়। পরবর্তীকালে সময়ের প্রয়োজনে এতে নানা সংশোধনী আনা হয়। সুতরাং উদ্দীপকের দলিলটি নির্দেশ করে স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধানকে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে নির্দেশিত বাংলাদেশের সংবিধানে সময়ের চাহিদা ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কারণে বহু গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী সংযোজিত হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সংশোধনী নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. প্রথম সংশোধনী (১৯৭৩): এর মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের বিধান সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

    ২. চতুর্থ সংশোধনী (১৯৭৫): সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থার প্রবর্তন এবং সকল রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত করে একদলীয় শাসনব্যবস্থা (বাকশাল) কায়েম করা হয়।

    ৩. পঞ্চম সংশোধনী (১৯৭৯): ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের সামরিক অভ্যুত্থান পরবর্তী সকল সামরিক আইন ও ফরমানকে সাংবিধানিক বৈধতা দেওয়া হয় এবং সংবিধানের মূলনীতিতে কিছু পরিবর্তন আনা হয়।

    ৪. অষ্টম সংশোধনী (১৯৮৮): ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় এবং ঢাকার বাইরে হাইকোর্টের ছয়টি স্থায়ী বেঞ্চ স্থাপন করা হয় (যদিও বেঞ্চ সংক্রান্ত অংশটি পরে সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করে)।

    ৫. দ্বাদশ সংশোধনী (১৯৯১): ১৬ বছর পর রাষ্ট্রপতি শাসিত পদ্ধতির অবসান ঘটিয়ে পুনরায় সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা হয়, যা ছিল এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

    ৬. ত্রয়োদশ সংশোধনী (১৯৯৬): জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে সংবিধানে 'তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা' অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

    ৭. পঞ্চদশ সংশোধনী (২০১১): তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয় এবং ১৯৭২ সালের সংবিধানের চার মূলনীতি পুনর্বহালসহ জাতির পিতার প্রতিকৃতি প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়।

    পরিশেষে, এসব সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশের সংবিধান কখনো গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতায়, আবার কখনো রাজনৈতিক পরিবর্তনের আলোকে উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত ও পরিমার্জিত হয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন