যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
যুক্তিবিদ্যা কাকে বলে?
- খ)(2)
যুক্তিবিদ্যা কোন ধরনের বিজ্ঞান? বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
ধাপ-৩ যুক্তিবিদ্যার ক্রমবিকাশের কোন যুগকে তুলে ধরা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
ধাপ-১ যুক্তিবিদ্যার যে যুগকে নির্দেশ করে, সে যুগের একজন যুক্তিবিদের ধারণা পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে ব্যবহারিক বিজ্ঞান সঠিক যুক্তিপদ্ধতি বা চিন্তাপদ্ধতি এবং ভ্রান্ত যুক্তি থেকে সঠিক যুক্তিকে পৃথক করার নিয়মাবলি আলোচনা করে, তাকে যুক্তিবিদ্যা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যুক্তিবিদ্যা একটি আদর্শনিষ্ঠ ও ব্যবহারিক বিজ্ঞান।
বিজ্ঞান হিসেবে যুক্তিবিদ্যা বৈধ যুক্তিপদ্ধতির সাধারণ নিয়মাবলি আবিষ্কার ও প্রণয়ন করে। এটি কেবল বস্তু বা চিন্তার প্রকৃতি বর্ণনাই করে না, বরং সত্য অর্জনের লক্ষ্যে আমাদের চিন্তাপ্রক্রিয়া কেমন হওয়া উচিত তার একটি আদর্শ বা মানদণ্ড নির্ধারণ করে। সত্যের আদর্শকে সামনে রেখে সত্য অর্জন এবং ভুল বা ভ্রান্তি পরিহারের নিয়ম নির্দেশ করে বলে যুক্তিবিদ্যা হলো একটি আদর্শনিষ্ঠ ও আকারগত ব্যবহারিক বিজ্ঞান।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'ধাপ-৩' (যুবক) যুক্তিবিদ্যার ক্রমবিকাশের 'আধুনিক যুগ'-কে নির্দেশ করে।
মানুষের জীবনের ক্রমবিকাশের চারটি পর্যায় (শিশু, কিশোর, যুবক, বৃদ্ধ)-এর সাথে যুক্তিবিদ্যার ইতিহাসের চারটি প্রধান যুগ—প্রাচীন যুগ, মধ্যযুগ, আধুনিক যুগ এবং সাম্প্রতিক যুগকে তুলনা করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী:
১. ধাপ-১ (শিশু) = প্রাচীন যুগ
২. ধাপ-২ (কিশোর) = মধ্যযুগ
৩. ধাপ-৩ (যুবক) = আধুনিক যুগ
৪. ধাপ-৪ (বৃদ্ধ) = সাম্প্রতিক যুগযুক্তিবিদ্যার ইতিহাসে আধুনিক যুগটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও কর্মচঞ্চল। এ যুগে যুক্তিবিদ ফ্রান্সিস বেকন, রনে দেকার্ত, জন স্টুয়ার্ট মিল প্রমুখের হাত ধরে যুক্তিবিদ্যায় বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি ও আরোহ পদ্ধতির ব্যাপক প্রসার ঘটে। বেকন তাঁর 'নভাম অর্গানাম' গ্রন্থে আরোহমূলক পদ্ধতির ওপর জোর দেন এবং মিল আরোহের পরীক্ষণমূলক পদ্ধতিগুলো প্রণয়ন করেন। তারুণ্য বা যৌবন যেমন মানুষের জীবনের সবচেয়ে গতিশীল ও পরিবর্তনশীল সময়, তেমনি যুক্তিবিদ্যার আধুনিক যুগও ছিল প্রচলিত গতানুগতিকতার বাইরে নতুন দিগন্তের উন্মোচনকারী। তাই ধাপ-৩ দ্বারা যুক্তিবিদ্যার আধুনিক যুগকে তুলে ধরা হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ধাপ-১ মানুষের জীবনের 'শিশু' অবস্থাকে নির্দেশ করে, যা যুক্তিবিদ্যার ক্রমবিকাশের ধারায় 'প্রাচীন যুগ'-কে প্রতিনিধিত্ব করে। প্রাচীন যুগের সর্বশ্রেষ্ঠ এবং যুক্তিবিদ্যার জনক হলেন গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল। নিম্নে তাঁর যুক্তিবিদ্যাবিষয়ক ধারণা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. যুক্তিবিদ্যার ভিত্তি স্থাপন: এরিস্টটলই সর্বপ্রথম যুক্তিবিদ্যাকে একটি স্বতন্ত্র এবং নিয়মতান্ত্রিক শাস্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর যুক্তিবিদ্যাবিষয়ক ছয়টি প্রধান গ্রন্থকে একত্রে 'অর্গানন' (Organon) বলা হয়।
২. অবরোহ যুক্তি ও সহানুমান (Syllogism): এরিস্টটলীয় যুক্তিবিদ্যার মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো সহানুমান তত্ত্ব। তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে দুটি আশ্রয়বাক্য থেকে অনিবার্যভাবে একটি সিদ্ধান্ত নিঃসৃত হয়। যেমন:
সকল মানুষ হয় মরণশীল (প্রধান আশ্রয়বাক্য)
সক্রেটিস হন একজন মানুষ (অপ্রধান আশ্রয়বাক্য)
অতএব, সক্রেটিস হন মরণশীল (সিদ্ধান্ত)৩. চিন্তার মৌলিক নিয়মাবলি: এরিস্টটল চিন্তার মৌলিক তিনটি নিয়ম বা নীতি নির্দেশ করেন—তাড়াত্ম্য বিধি (Law of Identity), বিরোধ বিধি (Law of Contradiction), এবং মধ্যমবর্জিত বিধি (Law of Excluded Middle)। যুক্তিকে সঙ্গতিপূর্ণ রাখতে এগুলোর প্রয়োগ অপরিহার্য।
৪. সংজ্ঞার্থ ও শ্রেণিবিভাগ: তিনি পদের সঠিক ব্যবহারের জন্য শ্রেণিকরণ এবং বিধেয়কের আলোচনা সুস্পষ্ট করেন, যা যুক্তির নির্ভুলতা রক্ষায় ভূমিকা রাখে।
পরিশেষে বলা যায়, প্রাচীন যুগে এরিস্টটল যুক্তিবিদ্যার যে আকারগত কাঠামো ও অবরোহ পদ্ধতির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন, তা যুক্তিবিদ্যার ক্রমবিকাশের ক্ষেত্রে এক কালজয়ী অবদান।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও