যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৯

যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

ঘটনা ১ শিক্ষক ক্লাসে ব্লাকবোর্ডে চার বাহু পরস্পর সমান করে একটি চিত্র এঁকে বললেন, এটি বর্গক্ষেত্র। তিনি বললেন, সকল বর্গক্ষেত্রের ক্ষেত্রেই এটি সত্য।ঘটনা-২: রহিম তার ছোট ভাইকে খেলনার কতগুলো টুকরো দিল। সে টুকরোগুলোকে একত্রিত করে দেখলো যে, এটি একটি খেলনার বিড়াল।

  1. ক)

    বৈজ্ঞানিক আরোহ কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    অবৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত সব সময় সম্ভাব্য হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    ঘটনা-১ এ কোন ধরনের আরোহের প্রতিফলন ঘটেছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    ঘটনা-২ এ যে আরোহের প্রতিফলন ঘটেছে আরোহ হিসেবে তার গ্রহণযোগ্যতা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ নিয়মের ওপর ভিত্তি করে কয়েকটি বিশিষ্ট দৃষ্টান্ত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে একটি সার্বিক সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য প্রতিষ্ঠা করার পদ্ধতিকে বৈজ্ঞানিক আরোহ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অবৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত সবসময় সম্ভাব্য হয়, কারণ এটি কার্যকারণ সম্পর্কের ওপর নির্ভর করে না।

    অবৈজ্ঞানিক আরোহে কোনো কার্যকারণ নিয়ম আবিষ্কারের চেষ্টা না করে কেবল অনুকূল ও অপ্রতিহত অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে একটি সার্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। অর্থাৎ কেবল বহু দৃষ্টান্ত একরকম দেখা গেছে কিন্তু কোনো বিপরীত দৃষ্টান্ত দেখা যায়নি বলেই সিদ্ধান্ত টানা হয়। কার্যকারণ সম্বন্ধ দ্বারা সমর্থিত না হওয়ায় ভবিষ্যতে যেকোনো সময় একটিমাত্র বিপরীত দৃষ্টান্ত পাওয়া গেলেই সিদ্ধান্তটি ভুল প্রমাণিত হতে পারে। এ কারণে এর সিদ্ধান্ত নিশ্চিত নয়, বরং সম্ভাব্য হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ঘটনা-১ এ অপ্রকৃত আরোহের প্রকারভেদ হিসেবে 'যুক্তিসাম্যমূলক আরোহ' (Induction by Parity of Reasoning)-এর প্রতিফলন ঘটেছে।

    যে অনুমানে কোনো একটি বিশেষ দৃষ্টান্ত বা বিষয় সম্পর্কে যা প্রমাণ করা হয়, একই যুক্তির ওপর ভিত্তি করে সমজাতীয় সব বিষয়ের ক্ষেত্রেই তা সমানভাবে প্রযোজ্য বলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, তাকে যুক্তিসাম্যমূলক আরোহ বলে।

    উদ্দীপকের ঘটনা-১ এ দেখা যায়, শিক্ষক ব্ল্যাকবোর্ডে একটি নির্দিষ্ট চার বাহু সমান চিত্র (বর্গক্ষেত্র) এঁকে শিক্ষার্থীদের বিষয়টি বোঝান এবং বলেন যে এটি সকল বর্গক্ষেত্রের ক্ষেত্রেই সত্য। জ্যামিতিক প্রমাণের ক্ষেত্রে আমরা একটি বিশেষ চিত্রের মাধ্যমে যা প্রমাণ করি, তা অভিন্ন যুক্তির ভিত্তিতে সেই শ্রেণির অন্তর্গত সকল চিত্রের জন্যই সার্বিক সত্য হিসেবে গণ্য হয়। এখানে কোনো আরোহমূলক লম্ফ বা পর্যবেক্ষণ নেই, বরং একই যুক্তির সমান প্রয়োগ ঘটেছে। সুতরাং ঘটনা-১ এ যুক্তিসাম্যমূলক আরোহ প্রতিফলিত হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ঘটনা-২ এ অপ্রকৃত আরোহের 'ঘটনা-সংযোজন' (Colligation of Facts)-এর প্রতিফলন ঘটেছে। আরোহ হিসেবে এর যথার্থ গ্রহণযোগ্যতা নেই; অর্থাৎ এটি প্রকৃত আরোহ নয়, বরং আরোহাভাস। নিচে এর বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো:

    রহিমের ছোট ভাই খেলনার বিচ্ছিন্ন টুকরোগুলোকে একত্রিত করে দেখতে পেল যে এটি একটি খেলনার বিড়াল। এটি যুক্তিবিদ উইলিয়াম হিউয়েল বর্ণিত ঘটনা-সংযোজন পদ্ধতির অনুরূপ, যেখানে কতগুলো বিচ্ছিন্ন প্রত্যক্ষলব্ধ ঘটনাকে একটি সাধারণ ধারণার মাধ্যমে মনের মধ্যে সংযুক্ত করা হয়।

    যুক্তিবিদ জন স্টুয়ার্ট মিলের মতে, ঘটনা-সংযোজন কোনো প্রকৃত আরোহ নয়। কারণ:
    ১. আরোহমূলক লম্ফের অভাব: প্রকৃত আরোহের মূল বৈশিষ্ট্য হলো জানা থেকে অজানায় বা নিরীক্ষিত থেকে অনিরীক্ষিত তথ্যে গমন করা (আরোহমূলক লম্ফ)। কিন্তু ঘটনা-সংযোজনে কোনো আরোহমূলক লম্ফ থাকে না; খেলনার বিদ্যমান সবগুলো টুকরো প্রত্যক্ষ করেই বিড়ালের ধারণাটি তৈরি করা হয়েছে।
    ২. নতুন জ্ঞানের অনুপস্থিতি: এখানে জানা তথ্যের অতিরিক্ত কোনো সার্বিক সংশ্লেষক সত্য প্রতিষ্ঠিত হয় না, কেবল পর্যবেক্ষণকৃত বিষয়গুলোকে একত্রিত করে বর্ণনা করা হয় মাত্র।
    ৩. নিয়মের অভাব: এটি কার্যকারণ সম্পর্ক কিংবা প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়।

    সুতরাং, ঘটনা-সংযোজন কোনো সার্বিক সত্য আবিষ্কার করে না, কেবল কতগুলো জ্ঞাত তথ্যকে একটি সাধারণ ধারণার সূত্রে বাঁধে। তাই যুক্তিবিদ্যায় একে প্রকৃত আরোহ হিসেবে গ্রহণ করা যায় না, এটি কেবল একটি মানসিক বা বর্ণনামূলক প্রক্রিয়া মাত্র।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন