সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
তাজিন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। সে যে বিষয়ে অধ্যয়ন করে তা মানুষের আচার-আচরণ, সমাজবদ্ধ জীব হিসেবে বসবাস এবং অন্যান্য দিক নিয়ে আলোচনা করে। এছাড়া বিষয়টি মূল্যবোধ, নিরপেক্ষভাবে সামাজিক কার্যকলাপ, পারস্পরিক সম্পর্ক ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করে। অন্যদিকে শিহাব মনে করে যে, সমাজে বসবাস করতে হলে সামাজিক আইন-কানুন ও প্রথা, রীতিনীতি সম্পর্কে জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। এছাড়াও উন্নয়নশীল দেশের সামাজিক সমস্যা উপলব্ধি করার জন্য সমাজ সম্বন্ধে বিজ্ঞানসম্মত বিষয়ের জ্ঞান থাকা জরুরি।
- ক)(1)
অর্থশাস্ত্র কী?
- খ)(2)
“লেভি স্ট্রেসের হাত ধরেই বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞানের প্রাতিষ্ঠানিক অধ্যয়ন শুরু হয়”—ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত তাজিনের পঠিত বিষয়ের প্রয়োজনীয়তা বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
বাংলাদেশের মতো সমাজের সামাজিক সমস্যা উপলব্ধির জন্য উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়ের পাঠের গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অর্থশাস্ত্র হলো সমাজবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা, যা মানবসমাজের সীমিত সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার, উৎপাদন, বণ্টন, বিনিময় এবং ভোগ নিয়ে আলোচনা করে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৫০-এর দশকে ফরাসি নৃবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানী ক্লদ লেভি-স্ট্রসের (Claude Lévi-Strauss) ইউনেস্কোর প্রতিনিধি হিসেবে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) আগমন বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞান চর্চায় বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ বিভাগ খোলার ব্যাপারে জোরালো সুপারিশ এবং প্রাথমিক রূপরেখা প্রণয়নে সহায়তা প্রদান করেন। তাঁর সেই উদ্যোগ ও প্রচেষ্টার ফলেই ১৯৫৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক ড. এ কে নাজমুল করিমের নেতৃত্বে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়। তাই বলা হয়, লেভি-স্ট্রসের হাত ধরেই বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞানের প্রাতিষ্ঠানিক পাঠ ও অধ্যয়নের ভিত্তি রচিত হয়েছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত তাজিনের পঠিত বিষয়টি হলো 'সমাজবিজ্ঞান'। কারণ সমাজবিজ্ঞান মানুষের পারস্পরিক আচার-আচরণ, মূল্যবোধ, সামাজিক সম্পর্ক এবং সামগ্রিক সমাজব্যবস্থা নিয়ে বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা করে।
বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে সমাজবিজ্ঞান পাঠের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ, যা দ্রুত রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের গ্রামীণ ও নগর জীবনের নানা স্তর, সামাজিক প্রতিষ্ঠানসমূহ (যেমন—পরিবার, বিবাহ, জ্ঞাতি সম্পর্ক) এবং মানুষের আচার-আচরণের গতিশীলতা অনুধাবনের জন্য সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান অপরিহার্য। এছাড়া এ দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি, দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা, বেকারত্ব এবং কুসংস্কারের মতো সামাজিক সমস্যাগুলোর মূল কারণ বিশ্লেষণ ও তা সমাধানের বাস্তবমুখী পথ খুঁজে পেতে সমাজবিজ্ঞান দিকনির্দেশনা প্রদান করে। সামগ্রিকভাবে, সামাজিক পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং উন্নয়নের সঠিক রূপরেখা নির্ধারণে বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে সমাজবিজ্ঞান অধ্যয়ন অত্যন্ত জরুরি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে শিহাবের বক্তব্য এবং তাজিনের পঠিত বিষয় মূলত 'সমাজবিজ্ঞান'-এর গুরুত্বকে নির্দেশ করে। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল সমাজের বহুমুখী সামাজিক সমস্যাগুলো সঠিকভাবে চিহ্নিত ও উপলব্ধি করার ক্ষেত্রে সমাজবিজ্ঞান পাঠের গুরুত্ব অপরিসীম।
বাংলাদেশ নানা ধরনের সামাজিক সমস্যার মুখোমুখি—যেমন দারিদ্র্য, বেকারত্ব, জনসংখ্যা সমস্যা, নারী নির্যাতন, দুর্নীতি, সামাজিক বৈষম্য ও বিশৃঙ্খলা। সাধারণ দৃষ্টিতে কেবল এসব সমস্যার বাহ্যিক রূপ দেখা গেলেও, সমাজবিজ্ঞান এদের কার্যকারণ সম্পর্ক, ঐতিহাসিক পটভূমি এবং কাঠামোগত প্রভাব বৈজ্ঞানিক ও বস্তুনিষ্ঠভাবে উন্মোচন করে। যেমন—দারিদ্র্যের কারণ কেবল সম্পদের অভাব নয়, বরং সম্পদের অসম বণ্টন এবং সামাজিক কাঠামোর ত্রুটি—তা সমাজতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকেই বোঝা সম্ভব।
এছাড়া সমাজবিজ্ঞান সমাজের আইন-কানুন, প্রথা, রীতিনীতি এবং মানুষের সামাজিক আচরণ বিশ্লেষণ করে যেকোনো সামাজিক সংস্কার বা নীতিমালার সঠিক প্রয়োগ নির্ধারণে সহায়তা করে। যেকোনো কার্যকর উন্নয়ন পরিকল্পনা বা সমস্যা সমাধান নীতি প্রণয়ন করতে হলে সমাজের বাস্তব পরিস্থিতি এবং এর প্রভাবক উপাদানগুলো জানা প্রয়োজন, যা সমাজবিজ্ঞানের গবেষণার মাধ্যমে সম্ভব হয়। তাই বলা যায়, বাংলাদেশের সামাজিক সমস্যা উপলব্ধি, দূরীকরণ এবং একটি সুষম সমাজ বিনির্মাণে সমাজবিজ্ঞান পাঠের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও