উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩

উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র প্রশ্ন

আসলাম খান ২০২০ সালে "মজুমদার লেদার" নামে নিজ এলাকায় চামড়া যৎপন্ন তৈরীর কারখানায় স্থাপন করেন। কারখানায় তার বিনিয়োগের পরিমাপ ছিল ৮০,০০,০০০ টাকা। তিনি গত তিন বছরে আয় করেন যথাক্রমে ২০ লক্ষ, ১৫ লক্ষ ও ১৮ লক্ষ টাকা। কারখানাটিতে ১৫ জন বেকার লোকের কর্মসংস্থান হলেও তিনি এটি বন্ধ করার চিন্তা করছেন।

  1. ক)

    সময়গত উপযোগ কী?

    (1)
  2. খ)

    "উন্নত কার্য পরিবেশের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতার বৃদ্ধি পায়"- ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    আসলাম খান কারখানায় স্থাপনের মাধ্যমে কোন ধরনের উপযোগ সৃষ্টি করেছেন? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    কারখানা বন্ধ করার যৌক্তিকতা মূলধনের উৎপাদনশীলতার আলোকে মূল্যায়ন কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    গুদামজাতকরণের মাধ্যমে এক সময়ের উৎপাদিত পণ্য অন্য সময়ে ভোগের সুযোগ সৃষ্টির ফলে যে উপযোগ সৃষ্টি হয়, তাকে সময়গত বা কালগত উপযোগ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উন্নত ও অনুকূল কার্যপরিবেশে কর্মীরা স্বাচ্ছন্দ্যে, নিরাপদে ও সন্তুষ্টচিত্তে কাজ করতে পারেন। পর্যাপ্ত আলো-বাতাস, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা কর্মীদের কাজের প্রতি আগ্রহ, প্রেষণা এবং দক্ষতা বাড়িয়ে দেয়। কর্মীদের ক্লান্তি হ্রাস পায় ও কাজের গতি বাড়ে, ফলে নির্দিষ্ট সময়ে বেশি ও মানসম্মত উৎপাদন সম্ভব হয়। এজন্যই উন্নত কার্যপরিবেশের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আসলাম খান কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে রূপগত উপযোগ সৃষ্টি করেছেন।

    প্রকৃতিপ্রদত্ত বা কাঁচামাল হিসেবে প্রাপ্ত কোনো বস্তুর আকার, আকৃতি বা রূপ পরিবর্তন করে নতুন ব্যবহারোপযোগিতা বা নতুন পণ্য তৈরির প্রক্রিয়াকে রূপগত উপযোগ বলে। এর মাধ্যমে পণ্যের ব্যবহারের ক্ষেত্র ও গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পায়।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, আসলাম খান "মজুমদার লেদার" নামের চামড়াজাত পণ্য তৈরির কারখানায় কাঁচা চামড়াকে প্রক্রিয়াজাত করে ব্যবহারোপযোগী বিভিন্ন চামড়াজাত দ্রব্যে রূপান্তরিত করেন। কাঁচামালের আকার ও রূপ পরিবর্তন করে তিনি নতুন দ্রব্য তৈরি করায় এখানে রূপগত উপযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মূলধনের উৎপাদনশীলতার দৃষ্টিকোণ থেকে আসলাম খানের কারখানাটি পুরোপুরি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত যৌক্তিক নয়।

    মূলধনের উৎপাদনশীলতা হলো মোট উৎপাদনের মূল্য বা উপার্জিত আয় এবং ব্যবহৃত বা বিনিয়োগকৃত মূলধনের মূল্যের অনুপাত। অর্থাৎ,
    মূলধনের উৎপাদনশীলতা = মোট আয়ের মূল্য / মোট বিনিয়োগকৃত মূলধনের পরিমাণ।

    উদ্দীপক অনুযায়ী, কারখানাটিতে আসলাম খানের মূলধন বিনিয়োগের পরিমাণ ৮০,০০,০০০ টাকা (৮০ লক্ষ টাকা)।
    তিনি গত তিন বছরে আয় করেন যথাক্রমে ২০ লক্ষ, ১৫ লক্ষ এবং ১৮ লক্ষ টাকা।
    অতএব, ৩ বছরে মোট আয় = ২০ + ১৫ + ১৮ = ৫৩ লক্ষ টাকা।
    গড় বার্ষিক আয় = ৫৩ / ৩ ≈ ১৭.৬৭ লক্ষ টাকা।

    প্রথম বছরের মূলধনের উৎপাদনশীলতা = ২০,০০,০০০ / ৮০,০০,০০০ = ০.২৫ বা ২৫%
    দ্বিতীয় বছরের মূলধনের উৎপাদনশীলতা = ১৫,০০,০০০ / ৮০,০০,০০০ = ০.১৮৭৫ বা ১৮.৭৫%
    তৃতীয় বছরের মূলধনের উৎপাদনশীলতা = ১৮,০০,০০০ / ৮০,০০,০০০ = ০.২২৫ বা ২২.৫%

    দেখা যাচ্ছে, ব্যবসাটি প্রতি বছরই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ইতিবাচক আয় করছে এবং তৃতীয় বছরে উৎপাদনশীলতা আবার বৃদ্ধি পেয়েছে। তাছাড়া একটি নতুন উৎপাদনশীল প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক বছরগুলোতে আয় কিছুটা ওঠানামা করা স্বাভাবিক। পাশাপাশি কারখানাটিতে ১৫ জন স্থানীয় বেকার লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। লোকসানে না থাকা সত্ত্বেও এবং মূলধন থেকে ধারাবাহিকভাবে যুক্তিসঙ্গত আয় আসা সত্ত্বেও কারখানাটি বন্ধ করে দিলে কর্মসংস্থান নষ্ট হবে এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা বিনষ্ট হবে।

    সুতরাং, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস, ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ও বিপণন জোরদার করে উৎপাদনশীলতা আরও বৃদ্ধির চেষ্টা করা উচিত; কারখানাটি বন্ধ করার চিন্তা যৌক্তিক নয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন