যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৫
যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১: টক ফল আমাদের শরীরে ভিটামিন সি এর অভাব পূরণ করে। ভবিষ্যতেও টক ফল আমাদের ভিটামিন সি এর অভাব পূরণ করবে। কেননা ভবিষ্যৎ অতীতের মতো। দৃশ্যকল্প-২: এ বছর ধানের ফলন বৃদ্ধির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে সফিক সাহেব উন্নত বীজের ব্যবহার, যথাযথ সার ও কীটনাশক প্রয়োগ, খরা ও শিলাবৃষ্টি না হওয়ার কথা উল্লেখ করলেন।
- ক)(1)
আরোহের আকারগত ভিত্তি কাকে বলে?
- খ)(2)
প্রকৃতির নিয়ম সম্পর্কিত মিলের মতবাদকে আরোহের কুটাভাস বলা হয় কেন?
- গ)(3)
দৃশ্যকল্প-১ এ আরোহের কোন আকারগত ভিত্তির প্রকাশ ঘটেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
কারণের সদর্থক ও নঞ্চর্থক শর্তের আলোকে দৃশ্যকল্প-২ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব সার্বিক নিয়মের ওপর ভিত্তি করে আরোহ অনুমানে দৃষ্টান্ত বা তথ্যের সত্যতা অতিক্রম করে একটি সার্বিক সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং যা সিদ্ধান্তের আকারগত সত্যতা নিশ্চিত করে, সেগুলোকে আরোহের আকারগত ভিত্তি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যুক্তিবিদ জন স্টুয়ার্ট মিলের মতে, আরোহ অনুমানের মূল ভিত্তি হলো প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি; কিন্তু তিনি আবার এই নীতিকেই আরোহের মাধ্যমে প্রাপ্ত একটি সাধারণ সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অর্থাৎ, যে নিয়মের ওপর ভিত্তি করে আরোহ প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়, সেই নিয়মটিই যদি আবার আরোহের মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে চক্রক বা স্ববিরোধী পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এই তাত্ত্বিক বিভ্রান্তি বা চক্রক দোষের কারণে মিলের এই মতবাদকে 'আরোহের কূটাভাস' (Paradox of Induction) বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-১ এ আরোহের আকারগত ভিত্তি হিসেবে 'প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি'র প্রকাশ ঘটেছে।
প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি অনুসারে, প্রকৃতি সর্বদা একই অবস্থায় একই রকম আচরণ করে। অর্থাৎ, প্রাকৃতিক নিয়ম সবসময় এক ও অভিন্ন; অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতে এর কোনো ব্যত্যয় ঘটে না। এই নীতির মূল কথা হলো, ভবিষ্যৎ সবসময় অতীতের অনুরূপ হবে।
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এ বলা হয়েছে—টক ফল আমাদের শরীরে ভিটামিন সি এর অভাব পূরণ করে এবং ভবিষ্যতেও তা পূরণ করবে, কারণ 'ভবিষ্যৎ অতীতের মতো'। এখানে প্রকৃতি তার নিয়ম পরিবর্তন করবে না—এই মৌলিক বিশ্বাসের ওপর নির্ভর করেই অতীত ও বর্তমানের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সুতরাং, দৃশ্যকল্প-১ এ প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির স্পষ্ট প্রকাশ ঘটেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-২ এ কারণের সদর্থক (ইতিবাচক) ও নঞর্থক (নেতিবাচক) উভয় শর্তের কার্যকর উপস্থিতি পরিলক্ষিত হয়।
যুক্তিবিদ মিলের মতে, কোনো ঘটনার কারণ হলো তার সদর্থক ও নঞর্থক শর্তের সমষ্টি। কোনো কার্য সংঘটিত হওয়ার জন্য যেসব শর্তের উপস্থিতি প্রয়োজন, সেগুলোকে সদর্থক শর্ত বলে। অন্যদিকে, যেসব শর্ত উপস্থিত থাকলে কার্যটি বিঘ্নিত হতো এবং যাদের অনুপস্থিতির কারণে কার্যটি সম্পন্ন হতে পেরেছে, সেগুলোকে নঞর্থক শর্ত বলে।
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-২ এ সফিক সাহেব এ বছর ধানের ফলন বৃদ্ধি (কার্য)-র ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করেছেন:
১. সদর্থক শর্ত: ফলন বৃদ্ধির পেছনে উন্নত বীজের ব্যবহার, যথাযথ সার ও কীটনাশক প্রয়োগের মতো বিষয়গুলোর সরাসরি উপস্থিতি ছিল অপরিহার্য। এগুলো উপস্থিত থেকে কার্য উৎপাদনে সাহায্য করেছে বিধায় এরা সদর্থক শর্ত।
২. নঞর্থক শর্ত: খরা ও শিলাবৃষ্টি না হওয়া। খরা বা শিলাবৃষ্টি উপস্থিত থাকলে ধানের ফলন নষ্ট হয়ে যেত। অর্থাৎ এগুলোর অনুপস্থিতি ফলন বৃদ্ধির সহায়ক হয়েছে, তাই এগুলো নঞর্থক শর্ত।সুতরাং দেখা যায়, কোনো নির্দিষ্ট একক ঘটনাকে কারণ না বলে সকল সদর্থক (বীজ, সার, কীটনাশক) এবং নঞর্থক (খরা ও শিলাবৃষ্টি না থাকা) শর্তের যৌথ সমন্বয়েই ফলন বৃদ্ধিরূপ কার্যটি বাস্তবায়িত হয়েছে। অতএব, মিলের সংজ্ঞানুযায়ী দৃশ্যকল্প-২ এ কারণকে সদর্থক ও নঞর্থক শর্তের সমষ্টি হিসেবে সফলভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও