জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
প্রাণিবৈচিত্র্য কাকে বলে?
- খ)(2)
সুডোসিলোমেট প্রাণী বলতে কী বুঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের প্রাণী দুটি একই ধরনের নয় কেন? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
যুক্তিসহ R চিহ্নিত স্থানে একটি প্রাণীর নাম লেখ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পৃথিবীর জল, স্থল ও অন্তরীক্ষে বসবাসকারী সমস্ত প্রাণীর মধ্যে যে জিনগত, প্রজাতিগত ও বাস্তুতান্ত্রিক বিভিন্নতা বা ভিন্নতা দেখা যায়, তাকে প্রাণিবৈচিত্র্য বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব প্রাণীর দেহগহ্বর মেসোডার্মাল পেরিটোনিয়াম পর্দা দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকে না, বরং ব্লাস্টোসিল থেকে উদ্ভূত তরলপূর্ণ এক অপ্রকৃত গহ্বর হিসেবে অবস্থান করে, তাদের সুডোসিলোমেট (Pseudocoelomate) প্রাণী বলে।
উদাহরণস্বরূপ, নেমাটোডা (Nematoda) পর্বের প্রাণীদের (যেমন— গোলকৃমি, Ascaris lumbricoides) দেহে প্রকৃত সিলোম থাকে না, বরং মেসোডার্ম দ্বারা সম্পূর্ণরূপে আবৃত না থাকা সুডোসিলোম উপস্থিত থাকে। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রাণী দুটি হলো হাঙর এবং ইলিশ। এরা উভয়ই কর্ডাটা পর্বের অন্তর্ভুক্ত হলেও শ্রেণিবিন্যাসগত অবস্থান ও শারীরিক বৈশিষ্ট্যের কারণে ভিন্ন শ্রেণির অন্তর্গত হওয়ায় এরা একই ধরনের নয়। নিচে এদের পার্থক্যের কারণসমূহ ব্যাখ্যা করা হলো:
১. শ্রেণিগত পার্থক্য: হাঙর হলো তরুণাস্থিময় মাছ, যা কনড্রিকথিস (Chondrichthyes) শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে, ইলিশ হলো অস্থিময় রশ্মিময়-পাখনাযুক্ত মাছ, যা একটিনোপটেরিজি (Actinopterygii) শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।
২. অন্তঃকঙ্কাল: হাঙরের অন্তঃকঙ্কাল সম্পূর্ণ তরুণাস্থিময় (cartilaginous), কিন্তু ইলিশের অন্তঃকঙ্কাল প্রধানত অস্থিময় (bony)।
৩. আঁইশের ধরন: হাঙরের ত্বক আণুবীক্ষণিক প্ল্যাকয়েড (placoid) আঁইশ দ্বারা আবৃত। বিপরীতে, ইলিশের দেহ সাইক্লয়েড (cycloid) আঁইশ দ্বারা আবৃত।
৪. ফুলকারন্ধ্র ও অপারকুলাম: হাঙরে ৫–৭ জোড়া উন্মুক্ত ফুলকারন্ধ্র থাকে এবং এদের কানকো বা অপারকুলাম থাকে না। কিন্তু ইলিশে ৪ জোড়া ফুলকা থাকে, যা অপারকুলাম দ্বারা ঢাকা থাকে।
৫. পুচ্ছপাখনা: হাঙরের পুচ্ছপাখনা হেটারোসার্কাল (অসম দুটি খণ্ডবিশিষ্ট) ধরনের, কিন্তু ইলিশের পুচ্ছপাখনা হোমোসার্কাল (দুটি সমান খণ্ডবিশিষ্ট) ধরনের।
৬. পটকা (বায়ুথলি): হাঙরে কোনো পটকা বা সাঁতারথলি থাকে না, ফলে তাদের অবিরাম সাঁতার কাটতে হয়; অন্যদিকে ইলিশের দেহে বায়ুথলি বিদ্যমান, যা প্লবতা রক্ষায় সাহায্য করে।
সুতরাং, উল্লিখিত গাঠনিক ও শ্রেণিগত পার্থক্যের কারণে উদ্দীপকের প্রাণী দুটি একই ধরনের নয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের প্রবাহচিত্রটিতে কর্ডাটা পর্বের ভার্টিব্রাটা উপপর্বভুক্ত 'মাছ' হিসেবে পরিচিত প্রধান তিনটি শ্রেণির অনুক্রম নির্দেশ করা হয়েছে।
এখানে,
১ম প্রাণীটি 'হাঙর'— কনড্রিকথিস (Chondrichthyes) শ্রেণির প্রতিনিধি।
২য় প্রাণীটি 'ইলিশ'— একটিনোপটেরিজি (Actinopterygii) শ্রেণির প্রতিনিধি।
অতএব, ধারাবাহিকতা ও শ্রেণিবিন্যাসগত ক্রম অনুযায়ী ৩য় স্থান অর্থাৎ 'R' চিহ্নিত স্থানটি হবে সারকোপটেরিজি (Sarcopterygii) শ্রেণির কোনো একটি প্রাণী।সুতরাং, R চিহ্নিত স্থানের উপযুক্ত একটি প্রাণী হলো 'সিল্যাকান্থ' (বৈজ্ঞানিক নাম: Latimeria chalumnae) অথবা লাংফিশ (যেমন: Neoceratodus forsteri)।
যৌক্তিকতা:
১. শ্রেণিবিন্যাসগত ক্রম: ভার্টিব্রাটার চোয়ালযুক্ত প্রাণীদের (Gnathostomata) জলজ মৎস্য শ্রেণিসমূহকে সাধারণত তিনটি প্রধান শ্রেণিতে ভাগ করা হয়— Chondrichthyes (হাঙর), Actinopterygii (ইলিশ) এবং Sarcopterygii (সিল্যাকান্থ/লাংফিশ)। উদ্দীপকে প্রথম দুটি শ্রেণি যথাক্রমে হাঙর ও ইলিশ দ্বারা উপস্থাপন করা হয়েছে, যার ফলে পরবর্তী যৌক্তিক শ্রেণিটি হলো সারকোপটেরিজি।২. শারীরিক বৈশিষ্ট্য: Sarcopterygii শ্রেণির মাছগুলো মাংসল-পাখনাযুক্ত (lobe-finned fish)। এদের জোড় পাখনাগুলো সন্ধিযুক্ত এবং মাংসল পদসদৃশ উপাঙ্গের মতো, যা সিল্যাকান্থের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
৩. আঁইশ ও বায়ুথলি: এদের দেহে গ্যানয়েড বা কসময়েড ধরনের আঁইশ থাকে এবং এদের বায়ুথলি রক্তজালকসমৃদ্ধ হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে ফুসফুসের মতো কাজ করে (যেমন লাংফিশে)।
সুতরাং, বিবর্তনীয় ও শ্রেণিবিন্যাসগত ধারাক্রম অনুসারে R চিহ্নিত স্থানে 'সিল্যাকান্থ' (Latimeria chalumnae) বসানো যুক্তিযুক্ত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও