জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • মানব শারীরতত্ত্ব : রক্ত ও সঞ্চালন • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    আঁইশ কী?

    (1)
  2. খ)

    একচক্রী রক্ত সংবহন বলতে কী বুঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত অঙ্গটির গঠন বর্ণনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত অঙ্গটি যে প্রাণীর তাদের প্রাকৃতিক পরিবেশে সংরক্ষণে তোমার মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মাছ বা সরীসৃপ জাতীয় প্রাণীর বহিঃকঙ্কালের অংশ হিসেবে ত্বক থেকে উদ্ভূত পাতলা, চ্যাপ্টা ও শক্ত পাত সদৃশ আবরণীকে আঁইশ বা স্কেল বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে রক্ত সংবহন প্রক্রিয়ায় প্রতিটি সংবহন চক্রে রক্ত হৃৎপিণ্ডের মধ্য দিয়ে কেবল একবার প্রবাহিত হয়, তাকে একচক্রী রক্ত সংবহন বলে।
    মাছের হৃৎপিণ্ডে এ ধরনের রক্ত সংবহন দেখা যায়। মাছের হৃৎপিণ্ড কেবল ডি-অক্সিজেনেটেড (কার্বন ডাই-অক্সাইডযুক্ত) রক্ত বহন করে, যা হৃৎপিণ্ড থেকে ফুলকায় যায় এবং ফুলকা থেকে পরিশোধিত হয়ে সরাসরি সারা দেহে পরিবাহিত হয়। সারা দেহ ঘুরে রক্ত পুনরায় হৃৎপিণ্ডে ফিরে আসে, অর্থাৎ একটি সম্পূর্ণ চক্রে রক্ত হৃৎপিণ্ডের মধ্য দিয়ে মাত্র একবার প্রবেশ ও নির্গত হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে প্রদর্শিত অঙ্গটি হলো রুই মাছের হৃৎপিণ্ড।

    রুই মাছের হৃৎপিণ্ডের গঠন নিম্নরূপ:
    ১. প্রকোষ্ঠসমূহ: রুই মাছের হৃৎপিণ্ড মূলত দুটি প্রধান প্রকোষ্ঠ এবং দুটি উপ-প্রকোষ্ঠ নিয়ে গঠিত।
    (ক) সাইনাস ভেনোসাস (উপ-প্রকোষ্ঠ): এটি হৃৎপিণ্ডের পৃষ্ঠদেশে অবস্থিত একটি পাতলা প্রাচীরবিশিষ্ট উপ-প্রকোষ্ঠ। সারা দেহ থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইডযুক্ত রক্ত ডাক্টাস কুভিয়ের মাধ্যমে এখানে প্রবেশ করে। এটি সাইনো-অ্যাট্রিয়াল ছিদ্রের মাধ্যমে অলিন্দে উন্মুক্ত হয়।
    (খ) অলিন্দ (অ্যাট্রিয়াম): এটি সাইনাস ভেনোসাসের সম্মুখে অবস্থিত পাতলা প্রাচীরযুক্ত অপেক্ষাকৃত বড় একটি প্রধান প্রকোষ্ঠ। সাইনাস ভেনোসাস থেকে রক্ত এখানে আসে এবং অলিন্দ-নিলয় ছিদ্রের মাধ্যমে রক্ত নিলয়ে যায়।
    (গ) নিলয় (ভেন্ট্রিকল): এটি হৃৎপিণ্ডের সর্বাপেক্ষা পুরু ও পেশিবহুল প্রাচীরবিশিষ্ট প্রধান প্রকোষ্ঠ। এটি অলিন্দ থেকে রক্ত গ্রহণ করে সংকোচনের মাধ্যমে বাল্বাস আর্টারিওসাসে রক্ত প্রেরণ করে।
    (ঘ) বাল্বাস আর্টারিওসাস (উপ-প্রকোষ্ঠ): এটি ভেন্ট্রিকলের সম্মুখভাগ প্রসারিত হয়ে গঠিত স্ফীত অংশ। এটি ভেন্ট্রাল অ্যাওর্টায় রক্ত প্রেরণ করে।

    ২. কপাটিকা: রক্ত প্রবাহকে একমুখী রাখতে সাইনো-অ্যাট্রিয়াল, অ্যাট্রিও-ভেন্ট্রিকুলার এবং বাল্বো-ভেন্ট্রিকুলার কপাটিকা বিদ্যমান থাকে। এ হৃৎপিণ্ডে কেবল কার্বন ডাই-অক্সাইডযুক্ত রক্ত প্রবাহিত হওয়ায় একে ভেনাস হৃৎপিণ্ড বলে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত অঙ্গটি রুই মাছের (Labeo rohita) হৃৎপিণ্ড। রুই মাছের প্রাকৃতিক পরিবেশে (নদী ও প্রাকৃতিক জলাশয়) সংরক্ষণ ও এদের বংশবৃদ্ধি বজায় রাখতে নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো নেওয়া অত্যন্ত জরুরি:

    ১. প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র সংরক্ষণ: হালদা নদীসহ রুই মাছের প্রধান প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্রগুলোর নাব্যতা ও স্বাভাবিক পরিবেশ রক্ষা করতে হবে। প্রজনন মৌসুমে মা মাছ শিকার সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রাখতে হবে।
    ২. জলদূষণ প্রতিরোধ: শিল্পবর্জ্য, পয়ঃবর্জ্য এবং কৃষিতে ব্যবহৃত অতিরিক্ত কীটনাশক ও রাসায়নিক সার যেন নদী ও জলাশয়ে না মিশে, সে জন্য কঠোর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।
    ৩. অভয়াশ্রম স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ: নদীর নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলকে মাছের স্থায়ী অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষণা করে সেখানে মাছের আশ্রয় ও প্রাকৃতিক বৃদ্ধির পরিবেশ দিতে হবে।
    ৪. অপরিকল্পিত বাঁধ ও অবকাঠামো নির্মাণ নিয়ন্ত্রণ: নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বিঘ্নিত করে এমন স্লুইস গেট, বাঁধ বা ড্যাম নির্মাণ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, যাতে মাছের স্বাভাবিক মাইগ্রেশন ও ডিম পাড়া বাধাগ্রস্ত না হয়।
    ৫. মৎস্য আইনের কঠোর প্রয়োগ: নিষিদ্ধ জাল (যেমন- কারেন্ট জাল) ব্যবহার বন্ধ করা এবং প্রজনন মৌসুমে পোনা ও ডিমওয়ালা মাছ নিধন রোধে মৎস্য সংরক্ষণ আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে।
    ৬. সচেতনতা বৃদ্ধি: জেলে এবং নদীর তীরবর্তী জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে হবে যেন তারা মাছের প্রজননকালে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকে।

    উপসংহারে বলা যায়, প্রাকৃতিক জলাশয়ের বাস্তুতন্ত্র ও পরিবেশ ভারসাম্য ঠিক রাখার মাধ্যমে রুই মাছের প্রাকৃতিক সংরক্ষণ সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন