পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২১
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
'ক' নামক রাষ্ট্র দুটি অংশে বিভক্ত ছিল। পূর্ব অংশের সম্মোহনী নেতার সাথে সরকারের চরম বিরোধ শুরু হয়। সরকার জেল, জুলুম ও নির্যাতন শুরু করে। সম্মোহনী নেতা তার বক্তৃতায় জনগণকে আকৃষ্ট করে আন্দোলনে ডাক দেন। সরকার তাকে গ্রেফতার করে। পূর্ব অংশের ছাত্র, শিক্ষক, শ্রমিক, জনতা ও বিভিন্ন পেশাজীবীরা ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে স্বৈরাচারী সরকারকে উৎখাত করে স্বাধীনতা অর্জন করেন।
- ক)(1)
মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক কে ছিলেন?
- খ)(2)
অপারেশন সার্চলাইট বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত নেতার সাথে তোমার পঠিত কোন নেতার স্যামঞ্জস্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে উক্ত নেতার ভূমিকা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'অপারেশন সার্চলাইট' হলো ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী কর্তৃক বাঙালি জাতিকে নিশ্চিহ্ন এবং বাঙালির জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে চিরতরে স্তব্ধ করার লক্ষ্যে পরিচালিত পরিকল্পিত নৃশংস ও বর্বরোচিত সামরিক গণহত্যা। এ অভিযানের মাধ্যমে নির্বিচারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানা, রাজারবাগসহ ঢাকাসহ সারা দেশে নিরস্ত্র ঘুমন্ত বাঙালিদের ওপর ট্যাংক ও ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে গণহত্যা চালানো হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত নেতার সাথে আমার পঠিত বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাদৃশ্য রয়েছে।
পাকিস্তান নামক দ্বি-জাতিভিত্তিক রাষ্ট্রটি পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানে বিভক্ত ছিল। পশ্চিম পাকিস্তানের স্বৈরশাসকদের অন্যায়, জেল-জুলুম ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের অবিসংবাদিত সম্মোহনী নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রুখে দাঁড়ান। তাঁর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ এবং ঐন্দ্রজালিক নেতৃত্বে আকৃষ্ট হয়ে সমগ্র বাঙালি জাতি অধিকার আদায়ের সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে। উদ্দীপকের নেতার গ্রেফতার হওয়া, জেল-জুলুম বরণ এবং তাঁর ডাকে ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে স্বাধীনতা অর্জনের যে প্রেক্ষাপট বর্ণিত হয়েছে, তা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব ও বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সাথে সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকা ছিল প্রধান এবং অবিচ্ছেদ্য।
বঙ্গবন্ধু ১৯৪৮ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৫৮ সালের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন এবং ১৯৬৬ সালের বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ ঐতিহাসিক ৬ দফা পেশের মাধ্যমে বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যান। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে মুক্তিলাভের পর তিনি বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে।
ইয়াহিয়া খান ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা করলে বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে ঐতিহাসিক ভাষণে ঘোষণা করেন—"এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম"। ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনী আক্রমণ চালালে ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে তিনি বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তাঁর অবর্তমানে তাঁরই নাম ও আদর্শকে ধারণ করে মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় এবং ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে ১৬ই ডিসেম্বর অর্জিত হয় বাংলাদেশের চূড়ান্ত বিজয়। তাই বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকাই ছিল কেন্দ্রীয় ও মূখ্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও