জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৫

জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    জনুক্রম কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    সাইজোগনি বলতে কী বুঝায়?

    (2)
  3. গ)

    A-এর পোষক বিধ্বংসী সংখ্যা বৃদ্ধির প্রক্রিয়াটির ধাপগুলো চিত্রের সাহায্যে দেখাও।

    (3)
  4. ঘ)

    A ও B অনুজীব যে অনুজীব গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করে জীবজগতে তাদের অবস্থান নিয়ে দ্বিধার কারণ বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জীবের জীবনচক্রে হ্যাপ্লয়েড (গ্যামিটোফাইটিক) ও ডিপ্লয়েড (স্পোরোফাইটিক) দশার পর্যায়ক্রমিক আবর্তনকে জনুক্রম (Alternation of generations) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ম্যালেরিয়া পরজীবী প্লাজমোডিয়াম (Plasmodium)-এর মানবদেহে (যকৃতে ও লোহিত রক্তকণিকায়) সংঘটিত অযৌন জনন চক্রকে সাইজোগনি (Schizogony) বলে।
    এ প্রক্রিয়ায় পরজীবীর নিউক্লিয়াস বারবার মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে বহু নিউক্লিয়াসযুক্ত সাইজন্ট গঠন করে এবং পরবর্তীতে সাইজন্ট থেকে মেরোজয়েট সৃষ্টি হয়। মানবদেহে সাইজোগনি দুই ধরনের—হেপাটিক সাইজোগনি এবং এরিথ্রোসাইটিক সাইজোগনি।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের চিত্র A হলো T2T_2 ব্যাকটেরিওফাজ। ব্যাকটেরিওফাজের পোষক বিধ্বংসী সংখ্যা বৃদ্ধির প্রক্রিয়াটি হলো লাইটিক চক্র (Lytic cycle)। নিচে এর ধাপগুলো চিত্রসহ উপস্থাপন করা হলো:

    লাইটিক চক্রের প্রধান ধাপসমূহ:
    ১. স্পর্শ বা সংযুক্তি (Adsorption/Attachment): ফাজ ভাইরাস তার স্পর্শক তন্তুগুলোর সাহায্যে সংবেদনশীল পোষক ব্যাকটেরিয়া (যেমন- E. coli)-র প্রাচীরের নির্দিষ্ট রিসেপ্টর স্থানে সংযুক্ত হয়।
    ২. অনুপ্রবেশ (Penetration): ভাইরাসের লেজ থেকে লাইসোজাইম নিঃসৃত হয়ে ব্যাকটেরিয়ার প্রাচীর গলিয়ে ফেলে এবং লেজের সংকোচনশীল আবরণী সংকুচিত হয়ে ভাইরাসের DNA-টি ব্যাকটেরিয়ার অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। খালি প্রোটিন খোলসটি বাইরে থেকে যায়।
    ৩. অনুলিপন ও প্রোটিন সংশ্লেষণ (Synthesis): ব্যাকটেরিয়ার কোষে প্রবেশ করে ভাইরাল DNA ব্যাকটেরিয়ার জেনোমকে অকার্যকর করে নিজস্ব নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় এবং প্রয়োজনীয় উপাদান ব্যবহার করে প্রচুর পরিমাণে ভাইরাল DNA ও ক্যাপসিড প্রোটিন তৈরি করে।
    ৪. একত্রিত হওয়া বা নতুন ফাজ গঠন (Assembly): নবসৃষ্ট ভাইরাল DNA ও বিভিন্ন প্রোটিন অংশ (মাথা, লেজ, স্পর্শক তন্তু) একত্রিত হয়ে পূর্ণাঙ্গ নতুন ফাজ ভাইরাসে পরিণত হয়।
    ৫. ব্যাকটেরিয়ার বিগলন ও ফাজ মুক্তি (Lysis and Release): নতুন গঠিত ফাজ ভাইরাসের এনজাইমের প্রভাবে পোষক ব্যাকটেরিয়ার প্রাচীর বিদীর্ণ বা ফেটে যায় এবং প্রায় ১০০-৩০০টি নতুন মুক্ত অপত্য ফাজ বাইরে বেরিয়ে আসে।

    [পরীক্ষায় এখানে লাইটিক চক্রের ধারাবাহিক ৫টি ধাপের একটি সুস্পষ্ট পর্যায়বৃত্ত চিত্র আঁকতে হবে, যাতে সংযুক্তি, DNA প্রবেশ, প্রতিলিপন, ফাজ সংযোজন ও লাইসিস স্পষ্টভাবে চিহ্নিত থাকে।]

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের A হলো ব্যাকটেরিওফাজ এবং B হলো একটি গোলাকার ভাইরাস (যেমন- করোনাভাইরাস/এইচআইভি)। উভয় অণুজীবই 'ভাইরাস' গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করে।

    জীবজগতে ভাইরাসের অবস্থান নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে দ্বিধা ও বিতর্ক রয়েছে। এর কারণ হলো ভাইরাসের দেহে একই সাথে জীবীয় ও জড় বৈশিষ্ট্য উভয়েরই উপস্থিতি:

    ১. ভাইরাসের জড় বৈশিষ্ট্যসমূহ:

    • ভাইরাস অকোষীয়; এদের কোনো সাইটোপ্লাজম, কোষঝিল্লি ও কোষ অঙ্গাণু নেই।
    • এদের নিজস্ব কোনো বিপাকীয় এনজাইম বা বিপাক ক্রিয়া নেই।
    • পোষক কোষের বাইরে ভাইরাস সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় এবং রাসায়নিক কণার মতো আচরণ করে।
    • এদের কেলাসিকরণ (crystallization) করা সম্ভব এবং সেন্ট্রিফিউজ করা যায়।

    ২. ভাইরাসের জীবীয় বৈশিষ্ট্যসমূহ:

    • ভাইরাসের দেহে জেনেটিক বস্তু (DNA বা RNA) এবং প্রোটিন থাকে।
    • উপযুক্ত পোষক কোষের অভ্যন্তরে এরা সংখ্যাবৃদ্ধি বা বংশবৃদ্ধি করতে পারে।
    • এদের মিউটেশন (বা পরিব্যক্তি) ও প্রকরণ সৃষ্টি হতে পারে, যা জীবের বৈশিষ্ট্য।
    • এরা নির্দিষ্ট পোষক কোষে নির্দিষ্ট রোগ সৃষ্টি করতে সক্ষম এবং বংশগতীয় বৈশিষ্ট্য নতুন প্রজন্মে স্থানান্তর করে।

    উপসংহার:
    যেহেতু ভাইরাস পোষক দেহের বাইরে সম্পূর্ণ জড় বস্তুর মতো এবং পোষক দেহের ভেতরে প্রবেশের পর জীবের মতো আচরণ করে, তাই এদেরকে জীব ও জড়ের মধ্যবর্তী পর্যায়ের এক অনন্য সত্তা বলা হয়। জীব ও জড়ের এই দ্বৈত স্বভাবের কারণেই জীবজগতে এদের শ্রেণিবিন্যাসগত অবস্থান নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে দ্বিধার সৃষ্টি হয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন