‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৫

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

জনাব আসাদ এমন একটি সংগঠনের সদস্য যার উদ্দেশ্য হলো জনমত গঠনের মাধ্যমে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়া। তিনি জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে উক্ত সংগঠনের প্রতিনিধি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। অপরদিকে, জনাব সেলিম অপর একটি সংগঠনের সদস্য যার উদ্দেশ্য রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত না হয়ে গোষ্ঠী স্বার্থ আদায়ে সচেষ্ট থাকা।

  1. ক)

    তথ্য অধিকার আইন কত সালে পাস হয়?

    (1)
  2. খ)

    মানবাধিকার বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    জনাব আসাদ কোন সংগঠনের সদস্য? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    সুশাসন প্রতিষ্ঠায় জনাব সেলিমের সংগঠনের ভূমিকা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাদেশে তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ সালে পাস হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মানবাধিকার বলতে মানুষের জন্মগত, স্বাভাবিক ও সর্বজনীন সেই সমস্ত সুযোগ-সুবিধাকে বোঝায়, যা মানুষের ব্যক্তিত্বের পরিপূর্ণ বিকাশ এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনের জন্য অপরিহার্য। বর্ণ, ধর্ম, লিঙ্গ, ভাষা বা জাতীয়তা নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ এ অধিকারের সমান অধিকারী।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জনাব আসাদ 'রাজনৈতিক দল'-এর সদস্য।

    রাজনৈতিক দল হলো একটি নির্দিষ্ট আদর্শ বা কর্মসূচির ভিত্তিতে গঠিত এমন এক রাজনৈতিক সংগঠন, যার মূল লক্ষ্য থাকে জনমত গঠন ও সাংবিধানিক বা নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে রাষ্ট্রক্ষমতা লাভ করা এবং নিজ নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব আসাদ এমন একটি সংগঠনের সাথে যুক্ত যা জনমত গঠন করে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সরকার বা রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হতে চায়। তিনি জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেন। রাজনৈতিক দলের সংজ্ঞানুযায়ী, নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং বৈধ উপায়ে ক্ষমতা অর্জন করাই এর মৌলিক বৈশিষ্ট্য। সুতরাং স্পষ্টতই জনাব আসাদ একটি রাজনৈতিক দলের সদস্য।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত জনাব সেলিমের সংগঠনটি হলো 'চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী' (Interest Group বা Pressure Group), যার উদ্দেশ্য রাষ্ট্রক্ষমতা দখল না করে নিজেদের নির্দিষ্ট গোষ্ঠীগত স্বার্থ হাসিলে সরকারকে প্রভাবিত করা।

    সুশাসন প্রতিষ্ঠায় এ ধরনের চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর ভূমিকা নিম্নে বিশ্লেষণ করা হলো:

    প্রথমত, সরকারের ওপর নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা: চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী সরকারের নীতি, আইন প্রণয়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপর কড়া নজরদারি রাখে। সরকারি সিদ্ধান্তের ফলে যদি সাধারণ মানুষের বা কোনো নির্দিষ্ট অংশের স্বার্থ বিঘ্নিত হয়, তবে তারা সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে।

    দ্বিতীয়ত, বিকল্প জনমত ও তথ্য সরবরাহ: সুশাসনের একটি অন্যতম দিক হলো তথ্যের অবাধ প্রবাহ। চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী বিভিন্ন গবেষণা ও বাস্তব তথ্যের ভিত্তিতে সরকারের নীতিনির্ধারকদের তথ্য সরবরাহ করে এবং বিকল্প জনমত গঠনে সহায়তা করে। এর ফলে সরকার একতরফা বা স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে বিরত থাকে।

    তৃতীয়ত, নাগরিক স্বার্থ রক্ষা ও অংশগ্রহণ বৃদ্ধি: এ সকল সংগঠন সমাজের প্রান্তিক ও পেশাজীবী শ্রেণির স্বার্থ তুলে ধরে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে। সুশাসনের প্রধান মানদণ্ড অর্থাৎ স্বচ্ছতা, জনঅংশগ্রহণ এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এ ধরনের গঠনমূলক চাপ অত্যন্ত কার্যকর।

    অতএব, জনাব সেলিমের মতো সংগঠনের গঠনমূলক ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ড সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন