মনোবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯
মনোবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১: রিয়া বন্ধুদের সাথে আলাপকালে দক্ষিণ এশিয়ার একটি দেশ সম্পর্কে বলে, ওখানকার মানুষেরা উন্নত, অতিমাত্রায় বস্তুবাদী এবং বৃদ্ধরা রক্ষণশীল।দৃশ্যকল্প-২: লাবিবা বিশেষ একটা জনগোষ্ঠীর জীবনযাপন প্রণালি নিয়ে খবর পড়ে মন খারাপ করল। সে বিশেষ জনগোষ্ঠীর সাথে পত্রিকার খবর সমাজের বেশিরভাগ মানুষ মেশে না। তাদের স্পর্শ করা কোনো কিছু খায়। না। এমনকি ওদের শিশুদের সাথে একই সাথে স্কুলে পড়াশোনা করে না।
- ক)(1)
মনোভাবের সংজ্ঞা দাও।
- খ)(2)
অবহিতিমূলক উপাদান ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
রিয়ার ধারণাকে মনোবিজ্ঞানের ভাষায় কী বলা হয়? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
দৃশ্যকল্প-২-এ পত্রিকার খবরে কোন ধারণার প্রকাশ পেয়েছে এবং সেটি হ্রাসের ব্যাপারে তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো ব্যক্তি, বস্তু, ধারণা বা পরিস্থিতির প্রতি ইতিবাচক বা নেতিবাচকভাবে প্রতিক্রিয়া করার অপেক্ষাকৃত স্থায়ী ও অর্জিত মানসিক প্রস্তুতি বা প্রবণতাকেই মনোভাব (Attitude) বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মনোভাবের তিনটি উপাদানের মধ্যে একটি হলো অবহিতিমূলক বা জ্ঞানীয় উপাদান (Cognitive component)। মনোভাবের লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে কোনো ব্যক্তির ধারণা, বিশ্বাস, তথ্য ও জ্ঞানকে অবহিতিমূলক উপাদান বলে। যেমন— কোনো ব্যক্তি ধূমপানকে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বলে বিশ্বাস করলে তা ধূমপান সম্পর্কিত মনোভাবের অবহিতিমূলক উপাদান নির্দেশ করে। এই উপাদানের ওপর ভিত্তি করেই ব্যক্তির আবেগীয় এবং আচরণগত প্রতিক্রিয়া নির্ধারিত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রিয়ার ধারণাকে মনোবিজ্ঞানের ভাষায় ‘সংস্কারবদ্ধ ধারণা’ বা স্টিরিওটাইপ (Stereotype) বলা হয়।
কোনো নির্দিষ্ট দল, জাতি বা জনগোষ্ঠীর সকল সদস্য সম্পর্কে যাচাই-বাছাই ছাড়া সাধারণভাবে গৃহীত অপরিবর্তনশীল ও অতিসরলীকৃত স্থির বিশ্বাসকে সংস্কারবদ্ধ ধারণা বলে। এই ধারণায় একটি দলের সকল মানুষকে একই বৈশিষ্ট্যের অধিকারী মনে করা হয়।
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১-এ রিয়া দক্ষিণ এশিয়ার একটি দেশের মানুষদের ঢালাওভাবে উন্নত, অতিমাত্রায় বস্তুবাদী এবং তাদের বয়স্কদের রক্ষণশীল বলে চিহ্নিত করেছে। এটি বাস্তব তথ্যের গভীর বিশ্লেষণ ছাড়াই কোনো জাতির ক্ষেত্রে ব্যক্তিকেন্দ্রিক বা গোষ্ঠীগতভাবে প্রচলিত একটি সরলীকৃত ও অনমনীয় ধারণা, যা মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে সংস্কারবদ্ধ ধারণার স্পষ্ট প্রতিফলন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-২-এ পত্রিকার খবরে ‘কুসংস্কার’ (Prejudice) এবং এর ফলে সৃষ্ট ‘বৈষম্যমূলক আচরণ’ (Discrimination)-এর প্রকাশ ঘটেছে।
কুসংস্কার বা পক্ষপাতমূলক মনোভাব হলো কোনো দল বা জনগোষ্ঠীর প্রতি পর্যাপ্ত যুক্তি-প্রমাণ ছাড়া নেতিবাচক বা বৈরী মনোভাব পোষণ করা। উদ্দীপকে একটি বিশেষ জনগোষ্ঠীর সাথে সাধারণ মানুষ না মেশা, তাদের ছোঁয়া না খাওয়া এবং তাদের সন্তানদের সাথে স্কুলে পড়তে না দেওয়া স্পষ্ট বৈষম্যমূলক সামাজিক আচরণ।
এই কুসংস্কার ও বৈষম্য হ্রাসের ব্যাপারে আমার মতামত নিম্নে তুলে ধরা হলো:
১. সচেতনতা ও শিক্ষা বিস্তার: বিজ্ঞানসম্মত ও মানবিক শিক্ষার মাধ্যমে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন আনতে হবে।
২. প্রত্যক্ষ যোগাযোগ ও মিথস্ক্রিয়া বৃদ্ধি: অলপোর্টের ‘যোগাযোগ প্রকল্প’ (Contact Hypothesis) অনুযায়ী বিভিন্ন দলের মধ্যে ইতিবাচক মেলামেশা ও সাধারণ লক্ষ্য অর্জনে কাজ করার সুযোগ কুসংস্কার কমায়।
৩. আইনগত পদক্ষেপ ও বাস্তবায়ন: বর্ণ, ধর্ম বা জাতভিত্তিক বৈষম্য নিষিদ্ধ করে সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠা ও এর কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা।
৪. গণমাধ্যমের ভূমিকা: গণমাধ্যমে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ইতিবাচক দিক ও অধিকার তুলে ধরে কুসংস্কারমূলক ধ্যানধারণা বিলোপ করা।সুতরাং, সকলের মাঝে সমমর্যাদা ও সহমর্মিতাবোধ তৈরির মাধ্যমেই সমাজে এমন অমানবিক কুসংস্কার ও বৈষম্য দূর করা সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও