যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ • ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৫

যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন

প্রথম দৃষ্টান্ত: রওনক সাহেব মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব খুব ভালোভাবেই পালন করছেন।দ্বিতীয় দৃষ্টান্ত: কিছু মানুষ সৎ।তৃতীয় দৃষ্টান্ত: কাজী নজরুল ১৮৯৯ সালে পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।

  1. ক)

    উপলক্ষণ কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    নঞর্থক বাক্যে কেন বিধেয়ক থাকে না?

    (2)
  3. গ)

    প্রথম দৃষ্টান্তে কোন বিধেয়কের ইঙ্গিত এসেছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    দ্বিতীয় ও তৃতীয় দৃষ্টান্তে যে দুটি বিধেয়কের ইঙ্গিত আছে সেগুলোর তুলনামূলক আলোচনা কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে গুণ কোনো পদের যাত্যর্থ বা মূল লক্ষণ নয়, কিন্তু যাত্যর্থ থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত বা উৎপন্ন হয়, তাকে উপলক্ষণ বলে। যেমন— মানুষের বিচারবুদ্ধিসম্পন্নতা বা মরণশীলতা থেকে উদ্ভূত 'হাস্যপ্রিয়তা' বা 'বিজ্ঞানের অগ্রগতি সাধনের ক্ষমতা' হলো উপলক্ষণ।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সদর্থক যুক্তিবাক্যে উদ্দেশ্য ও বিধেয় পদের মধ্যকার সম্বন্ধের রূপকে বিধেয়ক বলে। অর্থাৎ, কোনো গুণ বা ধর্ম যখন উদ্দেশ্যের সাথে সম্পর্কিত হিসেবে স্বীকৃত হয়, তখনই বিধেয়ক গঠিত হয়।

    কিন্তু নঞর্থক যুক্তিবাক্যে উদ্দেশ্য ও বিধেয় পদের মধ্যে কোনো সম্পর্ক স্বীকার করা হয় না; বরং তাদের মধ্যকার সম্বন্ধকে সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার বা বিচ্ছিন্ন করা হয়। বিধেয়ক মূলত সদর্থক সম্পর্কের প্রকৃতি নির্দেশ করে বলে উদ্দেশ্য ও বিধেয়ের পারস্পরিক সম্পর্কহীন নঞর্থক বাক্যে কোনো বিধেয়ক থাকতে পারে না।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রথম দৃষ্টান্তে 'অবান্তর লক্ষণ' (বিশেষভাবে বিচ্ছিন্নযোগ্য অবান্তর লক্ষণ)-এর ইঙ্গিত এসেছে।

    যে গুণ কোনো পদের যাত্যর্থ নয় বা যাত্যর্থ থেকে নিঃসৃতও নয়, অথচ উদ্দেশ্য পদে উপস্থিত থাকে, তাকে অবান্তর লক্ষণ বলে। আবার যে অবান্তর লক্ষণকে উদ্দেশ্য থেকে সাময়িকভাবে বা স্থায়ীভাবে আলাদা করা যায়, তাকে বিচ্ছিন্নযোগ্য অবান্তর লক্ষণ বলে।

    উদ্দীপকের প্রথম দৃষ্টান্তে বলা হয়েছে, 'রওনক সাহেব মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব খুব ভালোভাবেই পালন করছেন।' এখানে মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব পালন করা রওনক সাহেবের সারলক্ষণ বা যাত্যর্থ নয়, এমনকি যাত্যর্থ নিঃসৃত কোনো গুণও নয়। এটি তাঁর একটি সাময়িক বা অতিরিক্ত গুণ, যা যে-কোনো সময় পরিবর্তন বা বিচ্ছিন্ন হতে পারে। মন্ত্রিত্ব না থাকলেও তিনি 'রওনক সাহেব' হিসেবেই বিদ্যমান থাকবেন। সুতরাং, এটি একটি ব্যক্তিগত বিচ্ছিন্নযোগ্য অবান্তর লক্ষণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের দ্বিতীয় দৃষ্টান্তে 'বিচ্ছিন্নযোগ্য অবান্তর লক্ষণ' এবং তৃতীয় দৃষ্টান্তে 'অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ'-এর ইঙ্গিত রয়েছে। নিচে এ দুটির তুলনামূলক আলোচনা করা হলো:

    দ্বিতীয় দৃষ্টান্তে বলা হয়েছে 'কিছু মানুষ সৎ।' এখানে 'সততা' মানুষের যাত্যর্থ নয় এবং সকল মানুষের মধ্যে বিদ্যমান থাকে না। আবার কোনো সৎ ব্যক্তি পরবর্তীতে অসৎ হতে পারে, অর্থাৎ এ গুণটি মানুষ থেকে আলাদা বা বিচ্ছিন্ন হতে পারে। তাই এটি বিচ্ছিন্নযোগ্য অবান্তর লক্ষণ।
    অন্যদিকে, তৃতীয় দৃষ্টান্তে বলা হয়েছে, 'কাজী নজরুল ১৮৯৯ সালে পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।' নজরুলের নির্দিষ্ট সাল ও স্থানে জন্মগ্রহণ করার গুণটি তাঁর যাত্যর্থ না হলেও এটি তাঁর সত্তা থেকে কোনোদিনই আলাদা করা সম্ভব নয়। ফলে এটি কাজী নজরুল ইসলামের ক্ষেত্রে একটি ব্যক্তিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ।

    তুলনামূলক বিশ্লেষণ:
    ১. ধারণাগত পার্থক্য: যে গুণকে উদ্দেশ্য পদ থেকে বাস্তবিক বা চিন্তা দ্বারা পৃথক করা যায়, তা হলো বিচ্ছিন্নযোগ্য অবান্তর লক্ষণ (যেমন: সততা)। পক্ষান্তরে, যে গুণকে উদ্দেশ্য থেকে কখনোই পৃথক করা যায় না, তা অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ (যেমন: জন্মস্থান ও জন্মসাল)।
    ২. স্থায়িত্ব: দ্বিতীয় দৃষ্টান্তের গুণটি (সততা) পরিবর্তনশীল ও অস্থায়ী। কিন্তু তৃতীয় দৃষ্টান্তের গুণটি (১৮৯৯ সালে পশ্চিমবঙ্গে জন্ম) চিরস্থায়ী ও অপরিবর্তনীয়।
    ৩. সাদৃশ্য: দুটি দৃষ্টান্তেই গুণগুলো কোনো পদের মৌলিক বা আবশ্যিক গুণ (যাত্যর্থ) নয় এবং যাত্যর্থ থেকেও নিঃসৃত নয়; ফলে উভয়টিই অবান্তর লক্ষণের প্রকারভেদ।

    অতএব, দ্বিতীয় ও তৃতীয় দৃষ্টান্তের বিধেয়ক দুটি যথাক্রমে পরিবর্তনশীলতা ও অপরিবর্তনীয়তার দিক থেকে অবান্তর লক্ষণের দুটি ভিন্ন রূপকে প্রকাশ করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন