যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৪

যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

দৃষ্টান্ত-১: পৃথিবী একটি গ্রহ। সূর্যের আলোতে আলোকিত হয়। সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব আছে। অপরদিকে মঙ্গলও একটি গ্রহ। সূর্যের আলোতে আলোকিত হয়। সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। সুতরাং মঙ্গলেও প্রাণের অস্তিত্ব আছে।দৃষ্টান্ত-২: আমি এ যাবৎ যত বক দেখেছি সবই সাদা। এতএব, সকল বক হয় সাদা।

  1. ক)

    অ-প্রকৃত আরোহ কী?

    (1)
  2. খ)

    বৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত সার্বিক যুক্তিবাক্য হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    দৃষ্টান্ত-২ এ নির্দেশিত আরোহের বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃষ্টান্ত-১ এ নির্দেশিত অনুমানের মূল্য ও গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে আরোহমূলক প্রক্রিয়ায় আরোহের মূল লক্ষণ বা প্রধান বৈশিষ্ট্য 'আরোহমূলক লম্ফ' অনুপস্থিত থাকে, তাকে অপ্রকৃত আরোহ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বৈজ্ঞানিক আরোহে কয়েকটি বিশেষ দৃষ্টান্তের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এবং প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ নিয়মের ওপর নির্ভর করে একটি সমজাতীয় সমগ্র শ্রেণি সম্পর্কে সাধারণ সিদ্ধান্ত স্থাপন করা হয়। যেহেতু সিদ্ধান্তটিতে সংশ্লিষ্ট শ্রেণির অন্তর্গত অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের সকল ব্যক্তি বা বস্তু সম্পর্কে একটি সাধারণ সত্য প্রকাশ পায়, তাই বৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত সবসময় একটি সার্বিক সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের দৃষ্টান্ত-২-এ অবৈজ্ঞানিক আরোহের (Unscientific Induction) প্রতিফলন ঘটেছে। অবৈজ্ঞানিক আরোহ হলো এমন এক প্রক্রিয়া যেখানে অনুকূল অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে কোনো প্রতিকূল দৃষ্টান্ত ছাড়াই কেবল অবাধ অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে একটি সার্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

    দৃষ্টান্ত-২ এ নির্দেশিত আরোহের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
    ১. অবাধ অভিজ্ঞতাভিত্তিক: কোনো বিপরীত দৃষ্টান্ত ছাড়াই এ যাবৎ দেখা সব বকের সাদা রঙের অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
    ২. আরোহমূলক লম্ফ বর্তমান: কিছু জানা বকের পর্যবেক্ষণ থেকে সকল অজানা বক সম্পর্কে সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার ক্ষেত্রে 'জানা থেকে অজানায়' উত্তরণ ঘটেছে।
    ৩. কার্যকারণ সম্পর্কের অনুপস্থিতি: বক হওয়ার সাথে সাদা রঙের কোনো অনিবার্য কার্যকারণ সম্পর্ক এখানে প্রমাণ বা অনুসন্ধান করা হয়নি।
    ৪. সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত: যেহেতু কার্যকারণ নিয়ম অনুসৃত হয়নি, তাই এর সিদ্ধান্ত নিশ্চিত নয়, বরং কেবলই সম্ভাব্য।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের দৃষ্টান্ত-১ এ 'সাদৃশ্যানুমান' (Analogy) নির্দেশিত হয়েছে। দুটি বিষয়ের (পৃথিবী ও মঙ্গল গ্রহ) মধ্যে কিছু বিষয়ে মিল দেখে তাদের কোনো একটিতে বিদ্যমান অন্য একটি গুণ (প্রাণের অস্তিত্ব) অপরটিতেও থাকতে পারে—এরূপ অনুমানই হলো সাদৃশ্যানুমান।

    সাদৃশ্যানুমানের মূল্য ও গুরুত্ব নিম্নরূপ:
    ১. বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের পথপ্রদর্শক: বিজ্ঞানীদের গবেষণায় ও নতুন নতুন আবিষ্কারের ক্ষেত্রে সাদৃশ্যানুমান প্রাথমিক দিগদর্শন হিসেবে কাজ করে। বৈজ্ঞানিক প্রকল্প প্রণয়নে এটি অত্যন্ত সহায়ক।
    ২. ব্যবহারিক জীবনের উপযোগিতা: দৈনন্দিন জীবনে আমরা অনেক সময় দুটি বিষয়ের দৃশ্যমান সাদৃশ্যের ওপর নির্ভর করে দ্রুত সিদ্ধান্তে উপনীত হই এবং সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি।
    ৩. নতুন জ্ঞান অর্জনে সহায়তা: পরিচিত বস্তুর সাথে অপরিচিত বস্তুর সাদৃশ্য লক্ষ্য করে অজ্ঞাত বিষয় সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যায়। যেমন—পৃথিবীর সাথে সাদৃশ্য বিচার করে মঙ্গল গ্রহে প্রাণের অনুসন্ধান চলছে।

    তবে সাদৃশ্যানুমানের সিদ্ধান্ত সবসময় সম্ভাব্য হয়, কখনোই নিশ্চিত সত্য হয় না। সাদৃশ্যের ভিত্তি যদি গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক গুণের ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় তবে তা সাধু সাদৃশ্যানুমান হিসেবে উচ্চমাত্রার সম্ভাব্যতার অধিকারী হয়। সার্বিকভাবে, বিজ্ঞানের অগ্রগতি ও জ্ঞানের পরিধি বিস্তারে দৃষ্টান্ত-১ এ নির্দেশিত অনুমানের গুরুত্ব অপরিসীম।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন