পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২১
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধী দলসমূহের সম্মেলনে একজন অভিসংবাদিত নেতা কর্তৃক উত্থাপিত কিছু দাবিকে বাঙালি জাতির ম্যাগনাকার্টা বলা হয়।
- ক)(1)
সামরিক শাসন কী?
- খ)(2)
১৯৫৮ সালের সামরিক শাসন যাদের দুটি কারণ বর্ণনা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত দাবি সমূহের দুটি দাবি ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে বর্ণিত দাবি সমূহের গুরুত্ব মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দেশের সংবিধান ও বেসামরিক আইন স্থগিত করে সামরিক বাহিনীর প্রধান বা কর্মকর্তাদের দ্বারা সরাসরি রাষ্ট্র পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করাকে সামরিক শাসন (Martial Law) বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি করার দুটি প্রধান কারণ হলো:
১. রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও নেতৃত্বের সংকট: ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পর থেকেই পাকিস্তানের রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, ঘন ঘন সরকার পরিবর্তন এবং দলীয় কোন্দলের কারণে তীব্র রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়।
২. সাধারণ নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র: ১৯৫৬ সালের সংবিধান অনুযায়ী ১৯৫৯ সালের শুরুতে দেশব্যাপী সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের রাজনীতিবিদরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসার ভয়ে সামরিক-বেসামরিক আমলাতন্ত্র নির্বাচন বানচাল করার উদ্দেশ্যে সামরিক শাসন জারি করে। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত ঐতিহাসিক দাবিগুলো হলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক উত্থাপিত 'ঐতিহাসিক ছয় দফা কর্মসূচি', যা বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ বা ম্যাগনাকার্টা হিসেবে পরিচিত। এর দুটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রের প্রকৃতি (১ম দফা): ১৯৪০ সালের ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পাকিস্তানকে একটি সত্যিকারের ফেডারেল রাষ্ট্র বা যুক্তরাষ্ট্র হিসেবে গঠন করতে হবে। সরকার হবে সংসদীয় পদ্ধতির এবং সার্বজনীন প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটাধিকারের ভিত্তিতে আইনসভা গঠিত হবে।
২. মুদ্রা বা অর্থ সম্বন্ধীয় ক্ষমতা (৩ম দফা): দেশের দুই অঞ্চলের জন্য দুটি পৃথক অথচ সহজে বিনিময়যোগ্য মুদ্রা থাকবে অথবা গোটা দেশের জন্য একটিই মুদ্রা থাকবে, তবে সংবিধানে এমন ব্যবস্থা রাখতে হবে যাতে পূর্ব পাকিস্তান থেকে পশ্চিম পাকিস্তানে মূলধন পাচার হতে না পারে। এ উদ্দেশ্যে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য একটি পৃথক ব্যাংকিং রিজার্ভ রাখতে হবে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে ১৯৬৬ সালের ছয় দফা কর্মসূচির গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। নিচে তা মূল্যায়ন করা হলো:
১. জাতীয় চেতনার বিকাশ: ছয় দফার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও স্বাধিকার আন্দোলনের স্পষ্ট রূপরেখা প্রণয়ন করেন। এটি ছিল পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শোষণের বিরুদ্ধে বাঙালির রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক মুক্তির প্রকৃত দাবি।
২. গণআন্দোলনের ভিত্তি: ছয় দফাকে দমন করার জন্য আইয়ুব সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে এবং শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রধান আসামি করে। এর ফলে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে তীব্র অসন্তোষের সৃষ্টি হয় এবং ১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের জন্ম দেয়, যা আইয়ুব খানের পতন নিশ্চিত করে।
৩. ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বিজয়: ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ছয় দফার ভিত্তিতে নির্বাচনে অংশ নেয় এবং পূর্ব পাকিস্তানে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। এই বিজয় প্রমাণ করে যে ছয় দফা ছিল সমগ্র বাঙালি জাতির ম্যান্ডেট।
৪. স্বাধীনতা যুদ্ধের ক্ষেত্র তৈরি: পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী এই জনরায় মেনে না নিয়ে ক্ষমতা হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানায় এবং ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ গণহত্যা শুরু করে। ফলশ্রুতিতে স্বাধিকারের আন্দোলন অনিবার্যভাবে স্বাধীনতা ও সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে রূপান্তরিত হয়।
সুতরাং, ছয় দফা ছিল মূলত বাংলাদেশের স্বাধীনতার মূল বীজ এবং এর সফল ধারাবাহিকতায় নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও