অর্থনীতি ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২১
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
বাংলাদেশে নিয়মিতভাবে গরু, ছাগল, ভেড়া ইত্যাদি পশু জবাই করা হয়। তাছাড়া ঈদ-উল-আযহার সময় কমপক্ষে ২০-২৫ লক্ষ গরু-মহিষ এবং ৪০-৪৫ লক্ষ ছাগল-ভেড়া জবাই করা হয়। দেশে এবং বিদেশে এসব চামড়ার চাহিদা অনেক বেশি। কিন্তু দুঃখের বিষয় সাম্প্রতিককালে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার কারণে মূল্যবান চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলা কিংবা নদীতে ফেলে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে।
- ক)(1)
অগ্রাধিকার শিল্পের সংজ্ঞা দাও।
- খ)(2)
PPP যৌথভাবে ঝুঁকি বহন করে কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার প্রধান তিনটি কারণ আলোচনা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত সমস্যা সমাধানের জন্য তুমি কী কী সুপারিশ করবে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব শিল্পে প্রবৃদ্ধির হার বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং দারিদ্র্য বিমোচনে বিশেষ অবদান রাখার সম্ভাবনা রয়েছে এবং যেগুলোকে সরকার নীতিগত ও আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে দ্রুত বিকশিত করতে অগ্রাধিকার দেয়, সেগুলোকে অগ্রাধিকার শিল্প (Priority Industry) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP) বা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের আওতায় বাস্তবায়িত প্রকল্পে সরকার ও বেসরকারি খাত যৌথভাবে অর্থায়ন, ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা করে। এ ধরনের বড় বড় অবকাঠামো বা উন্নয়ন প্রকল্পে আর্থিক ক্ষতি, নির্মাণজনিত বিলম্ব, কারিগরি ত্রুটি কিংবা বাজার চাহিদার পরিবর্তনজনিত যে বিভিন্ন প্রকার ঝুঁকি তৈরি হয়, তা কোনো এক পক্ষের পক্ষে এককভাবে বহন করা কঠিন। তাই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী সরকারি ও বেসরকারি পক্ষ তাদের নিজ নিজ সক্ষমতার ভিত্তিতে ঝুঁকি ভাগ করে নেয়, যার ফলে প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিরাপদ ও টেকসই হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় চামড়া শিল্পের একটি সংকটপূর্ণ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে ঈদের সময় বিপুল পরিমাণ চামড়া উৎপাদিত হলেও ন্যায্যমূল্য না পেয়ে তা নষ্ট করা হচ্ছে। উদ্দীপকে বর্ণিত চামড়ার ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার প্রধান তিনটি কারণ নিচে আলোচনা করা হলো:
১. মধ্যস্বত্বভোগী ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য: চামড়া সংগ্রহ ও বিপণনের ক্ষেত্রে ট্যানারি মালিক ও পাইকারদের শক্তিশালী সিন্ডিকেট কাজ করে। তারা যোগসাজশ করে চামড়ার দাম কৃত্রিমভাবে কমিয়ে রাখে। ফলে তৃণমূল পর্যায়ের চামড়া সংগ্রহকারী ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন।
২. চামড়া সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাব ও লবণের উচ্চমূল্য: কাঁচা চামড়া দ্রুত প্রক্রিয়াজাত বা লবণযুক্ত করে সংরক্ষণ করতে হয়। স্থানীয় পর্যায়ে পর্যাপ্ত হিমাগার বা আধুনিক সংরক্ষণ সুবিধার ঘাটতি রয়েছে। তদুপরি চামড়া সংরক্ষণের প্রধান উপাদান লবণের চড়ামূল্যের কারণে অনেকেই চামড়া সংরক্ষণ করতে পারেন না এবং দ্রুত কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হন।
৩. ট্যানারি শিল্পে মূলধন সংকট ও রপ্তানি সীমাবদ্ধতা: সাভার চামড়া শিল্প নগরীতে কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগার (CETP) পূর্ণাঙ্গ কার্যকর না থাকায় এবং আন্তর্জাতিক পরিবেশগত মানদণ্ড (যেমন- LWG সনদ) অর্জন করতে না পারায় বিশ্ববাজারে চামড়া রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে ট্যানারি মালিকরা চামড়া ক্রয়ে পর্যাপ্ত নগদ অর্থের জোগান দিতে পারেন না এবং দেশীয় বাজারে চামড়ার চাহিদা ও দাম মারাত্মকভাবে কমে যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত চামড়া নষ্ট হওয়ার মতো বিপর্যয় রোধ এবং চামড়া শিল্পের সংকট সমাধানের জন্য নিম্নে সুপারিশসমূহ ব্যাখ্যা করা হলো:
১. আন্তর্জাতিক মান অর্জন ও সিইটিপি (CETP) পুরোপুরি কার্যকর করা: সাভার চামড়া শিল্প নগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার বা সিইটিপি সম্পূর্ণ কার্যকর করে লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপ (LWG) সনদ অর্জনের ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে বিশ্ববাজারে সরাসরি চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য উচ্চমূল্যে রপ্তানি করা সম্ভব হয়।
২. সহজ শর্তে ঋণ প্রদান ও সিন্ডিকেট দমন: কাঁচা চামড়া কেনার মৌসুমে ট্যানারি মালিক এবং আড়তদারদের জন্য বিশেষ তহবিল থেকে সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণের দ্রুত ছাড় নিশ্চিত করতে হবে। একই সাথে সরকারের কঠোর বাজার তদারকির মাধ্যমে চামড়া ক্রয়ের সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে সরকার নির্ধারিত মূল্য নিশ্চিত করতে হবে।
৩. স্থানীয় পর্যায়ে আধুনিক সংরক্ষণাগার স্থাপন ও লবণের সরবরাহ সহজলভ্য করা: জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে চামড়া সংরক্ষণের ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য প্রয়োজনীয় লবণ সুলভ মূল্যে ও ভরতুকি দিয়ে সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হবে।
৪. সরাসরি রপ্তানির সুযোগ ও নতুন বাজার সৃষ্টি: স্থানীয় সিন্ডিকেট ভাঙার জন্য প্রয়োজনে ওয়েট-ব্লু বা প্রক্রিয়াজাত চামড়া সরাসরি বিদেশে রপ্তানির শর্ত শিথিল করা এবং ঐতিহ্যবাহী পশ্চিমা বাজারের পাশাপাশি এশিয়া, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে নতুন বাজার অনুসন্ধান করা উচিত।
৫. চামড়াজাত পণ্য উৎপাদনের বহুমুখীকরণ: শুধু কাঁচা বা পাকা চামড়া বিক্রির ওপর নির্ভরশীল না থেকে দেশে চামড়ার জুতা, ব্যাগ ও অন্যান্য ফিনিশড পণ্য তৈরির শিল্প গড়ে তুলে অভ্যন্তরীণ ব্যবহার ও মূল্য সংযোজন বৃদ্ধি করতে হবে।
উপর্যুক্ত পদক্ষেপসমূহ বাস্তবায়ন করা গেলে চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হবে এবং জাতীয় এই মহামূল্যবান সম্পদ নষ্ট হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেয়ে অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও