‍ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮

‍ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন

মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দল ও সামরিক জান্তা সরকার নিরীহ রোহিঙ্গাদের ওপর বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ চালায়। শত শত নারী-পুরুষ প্রণের ভয়ে পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। মানবিক প্রয়োজনে বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র খোলে। বিশ্বের অনেক দেশ ও বিভিন্ন সংস্থা তাদের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়।

  1. ক)

    মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?

    (1)
  2. খ)

    মুক্তিযুদ্ধে ব্রিটেনের ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের ঘটনাটি মুক্তিযুদ্ধের কোন দিকটিকে ইঙ্গিত করে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “মুক্তিযুদ্ধে মিত্রদেশগুলো সহায়তা না করলে স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন বিলম্বিত হতো"- উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইন্দিরা গান্ধী।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মুক্তিযুদ্ধে ব্রিটেনের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত ইতিবাচক ও গুরুত্বপূর্ণ। ব্রিটিশ সরকার সরাসরি নিরপেক্ষতার ভান করলেও তাদের জনমত এবং গণমাধ্যম বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের পক্ষে সোচ্চার ছিল। বিশেষ করে বিবিসি (BBC) বিশ্বস্ত ও নিরপেক্ষ সংবাদ প্রচার করে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চিত্র আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরে। এছাড়া ব্রিটিশ পার্লামেন্টের বহু সদস্য বাংলাদেশের গণহত্যার বিরুদ্ধে সোচ্চার হন এবং জর্জ হ্যারিসন ও পন্ডিত রবিশঙ্করের উদ্যোগে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত 'কনসার্ট ফর বাংলাদেশ' এ ব্রিটিশ সংগীতশিল্পীদের ভূমিকা বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তোলে ও তহবিল সংগ্রহে সহায়তা করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ঘটনাটি বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারত কর্তৃক বাঙালি শরণার্থীদের আশ্রয় ও মানবিক সহায়তা প্রদানের দিকটিকে ইঙ্গিত করে।

    ১৯৭১ সালে পাকিস্তান হানাদার বাহিনী বাঙালি জনগণের ওপর বর্বরোচিত গণহত্যা ('অপারেশন সার্চলাইট' ও পরবর্তী আক্রমণ) চালালে প্রাণভয়ে প্রায় এক কোটি মানুষ সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে আশ্রয় নেয়। ভারত সরকার মানবিক কারণে তাদের জন্য সীমান্ত উন্মুক্ত করে দেয় এবং বিভিন্ন স্থানে বহু আশ্রয়শিবির স্থাপন করে তাদের খাদ্য, বস্ত্র ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। উদ্দীপকে যেমন মিয়ানমারের সামরিক জান্তার নির্যাতন থেকে বাঁচতে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণ এবং সরকারের সাহায্য প্রদানের কথা বলা হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের সময় ঠিক একইভাবে ভারতের তৎকালীন সরকার ও জনগণ চরম অর্থনৈতিক সংকট সত্ত্বেও এক কোটি নিরস্ত্র ও বিপন্ন বাঙালি শরণার্থীকে আশ্রয় ও ত্রাণ দিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছিল।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “মুক্তিযুদ্ধে মিত্রদেশগুলো সহায়তা না করলে স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন বিলম্বিত হতো”- উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ ও যৌক্তিক।

    ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে নিরস্ত্র বাঙালির প্রতিরোধ যুদ্ধ আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতিতে অত্যন্ত জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিল। এ সময় প্রত্যক্ষ মিত্র হিসেবে ভারত এবং পরোক্ষভাবে সোভিয়েত ইউনিয়ন (রাশিয়া) বাংলাদেশকে যে অভূতপূর্ব সামরিক, কূটনৈতিক ও মানবিক সহায়তা দিয়েছিল, তা ছাড়া মাত্র নয় মাসে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করা প্রায় অসম্ভব ছিল।

    ভারত প্রায় এক কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় ও খাদ্য সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র, রসদ ও উন্নত সামরিক প্রশিক্ষণ দেয়। পরবর্তীতে ভারতীয় সেনাবাহিনী ও মুক্তিবাহিনী মিলে গঠিত 'মিত্রবাহিনী বা যৌথবাহিনী' পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত আক্রমণ রচনা করে। অন্যদিকে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখন পাকিস্তানের পক্ষে যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব এনে মুক্তিযুদ্ধ নস্যাতের চেষ্টা করছিল, তখন সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করে বাংলাদেশকে রক্ষা করে।

    মিত্রদেশগুলোর এ ধরনের সময়োচিত সামরিক, রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সমর্থন না থাকলে মুক্তিযুদ্ধ অনেক দীর্ঘায়িত হতো এবং বাঙালির স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন বহুলাংশে বিলম্বিত হতো।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন