জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩

জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

অণুজীব ‘A’ - অকোষীয়অণুজীব 'B' - পেপটিডোগ্লাইকান নির্মিত কোষ      প্রাচীরবিশিষ্ট।

  1. ক)

    PRSV এর পূর্ণরূপ লেখ।

    (1)
  2. খ)

    লাইসোজেনিক চক্র বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    আকারের ভিত্তিতে 'B' অণুজীব গোষ্ঠীর শ্রেণিবিন্যাস কর।

    (3)
  4. ঘ)

    রোগ সৃষ্টি ও রোগের চিকিৎসায় উদ্দীপকে নির্দেশিত 'A' অণুজীবের ভূমিকা বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    PRSV এর পূর্ণরূপ হলো Papaya Ringspot Virus।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে প্রক্রিয়ায় ফায ভাইরাসের নিউক্লিক অ্যাসিড পোষক ব্যাকটেরিয়ার কোষে প্রবেশ করার পর ব্যাকটিরিওফাজ ডিএনএ-টি ব্যাকটেরিয়ার ডিএনএ-র সাথে যুক্ত হয়ে প্রোফায হিসেবে ব্যাকটেরিয়ার সাথে প্রতিলিপিত হয় এবং পোষক কোষের ধ্বংস না ঘটিয়ে সহাবস্থান করে, তাকে লাইসোজেনিক চক্র বলে। যেমন- ল্যাম্বডা (λ) ফাযের জীবনচক্র।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের 'B' অণুজীবটি হলো ব্যাকটেরিয়া (পেপটিডোগ্লাইকান কোষ প্রাচীরবিশিষ্ট)। আকারের ভিত্তিতে ব্যাকটেরিয়ার শ্রেণিবিন্যাস নিম্নরূপ:

    ১. কক্কাস (Coccus): এরা গোলাকার ব্যাকটেরিয়া। এরা একক (মাইক্রোকক্কাস), জোড়ায় (ডিপ্লোকক্কাস), চারটিতে (টেট্রাকক্কাস), শিকলের মতো (স্ট্রেপ্টোকক্কাস) বা আঙুরের থোকার মতো (স্ট্যাফাইলোকক্কাস) থাকতে পারে। উদাহরণ: Streptococcus pneumoniae।
    ২. ব্যাসিলাস (Bacillus): এরা দণ্ডাকার ব্যাকটেরিয়া। এরা একক (মনোব্যাসিলাস), জোড়ায় (ডিপ্লোব্যাসিলাস) বা দলবদ্ধভাবে (স্ট্রেপ্টোব্যাসিলাস) থাকে। উদাহরণ: Bacillus anthracis।
    ৩. স্পাইরিলাম (Spirillum): এরা সর্পিলাকার বা পেঁচানো গঠনের হয়। উদাহরণ: Spirillum volutans।
    ৪. কমা (Comma বা Vibrio): এরা দেখতে কমার মতো বা সামান্য বাঁকানো। উদাহরণ: Vibrio cholerae।
    ৫. বহুরূপী (Pleomorphic): পরিবেশের পরিবর্তনের সাথে সাথে এরা আকার পরিবর্তন করতে পারে। উদাহরণ: Rhizobium।
    ৬. সূত্রাকার (Filamentous): এরা লম্বা সূত্র বা ফিলামেন্টের মতো হয়ে থাকে। উদাহরণ: Candidatus Savagella।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে নির্দেশিত অকোষীয় অণুজীব 'A' হলো ভাইরাস। নিচে রোগ সৃষ্টি ও রোগের চিকিৎসায় ভাইরাসের ভূমিকা বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. রোগ সৃষ্টিতে ভূমিকা:
    ক) মানবদেহে রোগ: ভাইরাস মানুষের মাঝে মারাত্মক সংক্রামক রোগ সৃষ্টি করে। যেমন— ইনফ্লুয়েঞ্জা, হাম, পক্স, পোলিও, হেপাটাইটিস, এইডস (HIV দ্বারা), ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, কোভিড-১৯ (SARS-CoV-2 দ্বারা) ইত্যাদি।
    খ) উদ্ভিদদেহে রোগ: ভাইরাস উদ্ভিদে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে; যেমন— তামাকের মোজাইক রোগ (TMV), পেঁপের রিং স্পট রোগ (PRSV), ধানের টুংরো রোগ ইত্যাদি।
    গ) অন্যান্য প্রাণিদেহে রোগ: গরু-মহিষের বসন্ত ও ফুট অ্যান্ড মাউথ রোগ, মুরগির বার্ড ফ্লু ও রানিখেত রোগ ভাইরাসের কারণে ঘটে থাকে।

    ২. রোগের চিকিৎসায় ভাইরাসের ভূমিকা:
    ক) টিকা তৈরিতে: বহু মারণঘাতী ভাইরাসের চিকিৎসায় বা প্রতিরোধে ভাইরাস থেকেই তৈরি হয় প্রতিষেধক টিকা (Vaccine)। যেমন— পোলিও, হেপাটাইটিস-বি, জলাতঙ্ক ও করোনার টিকা।
    খ) ফায থেরাপি (Phage therapy): ক্ষতিকর প্যাথোজেনিক ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে ব্যাকটিরিওফাজ ভাইরাস ব্যবহার করা হয়।
    গ) জিন থেরাপি ও ভেক্টর হিসেবে: জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও জিন থেরাপিতে ক্ষতিগ্রস্ত জিন প্রতিস্থাপন এবং কাঙ্ক্ষিত জিন কোষে স্থানান্তরের বাহক (Vector) হিসেবে নির্দোষ ভাইরাস ব্যবহার করা হয়।

    সুতরাং, ভাইরাস রোগ সৃষ্টিকারী হিসেবে মানবজাতির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হলেও আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে টিকা প্রস্তুতি ও চিকিৎসাপদ্ধতিতে এর ইতিবাচক প্রয়োগ অনস্বীকার্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন