পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২১
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
'A' রাষ্ট্রের শাসকগোষ্ঠী স্বাধীনতা লাভের পরের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ অধ্যুষিত একটি অঞ্চলের মাতৃভাষার পরিবর্তে অপর একটি ভাষাকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দেয়। এর প্রতিবাদের ছাত্র জনতা তাদের ভাষাকে রাষ্ট্রের অন্যতম সাংবিধানিক ভাষা করার দাবিতে আন্দোলন করে। কিন্তু স্বৈরাচারী সরকারের পুলিশ গুলি করে আন্দোলনরত ছাত্র জনতাকে হতাহত করে। অবশেষে অনেক রক্তের বিনিময়ে কতৃপক্ষ ভাষার দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয়।
- ক)(1)
সংবিধান কী?
- খ)(2)
শিক্ষা ক্ষেত্রে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের অবদান ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে তোমার পঠিত বইয়ের কোন ঘটনা বিবৃত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ আন্দোলনের তাৎপর্য মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সংবিধান হলো রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ও মৌলিক আইন, যার দ্বারা রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক নিয়মাবলি, সরকারের ক্ষমতা ও নাগরিকের অধিকার নির্ধারিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক বাংলার পশ্চাৎপদ ও অনগ্রসর মুসলিম সম্প্রদায়ের শিক্ষার প্রসারে অসামান্য অবদান রেখেছিলেন। তিনি ১৯৩৭ সালে অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী থাকাকালে দরিদ্র মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা বেতনে প্রাথমিক শিক্ষা আইন প্রণয়ন করেন। এ ছাড়া তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং ইসলামিয়া কলেজ (বর্তমান মওলানা আজাদ কলেজ), লেডি ব্র্যাবোর্ন কলেজ, ইডেন কলেজ, ফজলুল হক কলেজ (চাখার) সহ বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন ও পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে আমার পঠিত ১৯৫২ সালের 'ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন'-এর ঘটনা বিবৃত হয়েছে।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ (৫৬%) মানুষের মাতৃভাষা বাংলাকে উপেক্ষা করে মাত্র ৭% মানুষের ভাষা উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। এর প্রতিবাদে এ দেশের ছাত্র-বুদ্ধিজীবী ও আপামর জনতা বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। উদ্দীপকে বর্ণিত ‘A’ রাষ্ট্রের শাসকগোষ্ঠীর সংখ্যাগরিষ্ঠের ভাষাকে অবজ্ঞা করে অন্য ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা এবং ছাত্র-জনতার প্রতিবাদ ঠিক ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটকেই নির্দেশ করে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানি স্বৈরশাসকদের নির্দেশে পুলিশ মিছিলে গুলি চালালে রফিক, শফিক, বরকত, সালামসহ অনেকে শহীদ হন। রক্তের বিনিময়ে অবশেষে ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। উদ্দীপকের ঘটনা ভাষা আন্দোলনের এই বীরত্বপূর্ণ ইতিহাসকেই তুলে ধরেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ভাষা আন্দোলন ছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদের মূল ভিত্তি এবং স্বাধীনতার প্রথম সোপান; এর তাৎপর্য অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী।
ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমেই বাঙালিরা পাকিস্তান রাষ্ট্রের সাম্প্রদায়িক দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তি যে কৃত্রিম তা প্রথম উপলব্ধি করতে পারে। এ আন্দোলনের তাৎপর্য নিম্নে মূল্যায়ন করা হলো:
১. বাঙালি জাতীয়তাবাদের উন্মেষ: ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে ভাষাভিত্তিক অসাম্প্রদায়িক বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি গড়ে ওঠে।
২. রাজনৈতিক স্বাধিকারের চেতনা: এ আন্দোলন কেবল ভাষার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; এটি বাঙালির রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্বাধিকার আদায়ের আন্দোলনের প্রেরণা হিসেবে কাজ করে।
৩. পরবর্তী আন্দোলনগুলোর অনুপ্রেরণা: ভাষা আন্দোলনের সাফল্যই পরবর্তীতে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬-এর ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে।
৪. আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি: রক্তের বিনিময়ে মাতৃভাষাকে রক্ষার এই অনন্য ইতিহাস ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো কর্তৃক স্বীকৃতি লাভ করে এবং ২১ ফেব্রুয়ারি বর্তমানে বিশ্বজুড়ে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে পালিত হয়।অতএব, উদ্দীপকে বর্ণিত আন্দোলনের মতো ভাষা আন্দোলন ছিল বাঙালি জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার অর্জনের সূতিকাগার, যা শেষ পর্যন্ত স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় নিশ্চিত করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও