ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র • যোগাযোগ • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র প্রশ্ন

"ডেলটা লিঃ" এ কর্মীদের জন্য ক্লাব ও রেস্টুরেন্ট এর ব্যবস্থা রেখেছেন, যেখানে কর্মীরা অবসর সময়ে পেপার পড়েন, টিভি দেখেন, গল্প করেন এবং চা-নাস্তা করেন। কর্মীরা এ সময় প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সমস্যা নিয়েও আলোচনা করেন। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অধস্তন কর্মীদের সাথে খোলামেলা আলোচনা করেন। অধস্তনগণও নির্ভয়ে তাদের মতামত প্রকাশ করেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের ক্ষেত্রে নিয়মনীতি মেনে যোগাযোগ স্থাপন করা হয়। ফলে প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য অর্জন সহজতর হয়।

  1. ক)

    যোগাযোগ কী?

    (1)
  2. খ)

    ফলাবর্তন কী? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত যোগাযোগের কোন ধরনটি অনুসরণ করা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য অর্জনে উদ্দীপকে উল্লিখিত যোগাযোগ পদ্ধতির কার্যকারিতা মূল্যায়ন কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দুই বা ততোধিক ব্যক্তি বা পক্ষের মধ্যে তথ্য, সংবাদ, ভাব বা মতামতের পারস্পরিক বিনিময়কে যোগাযোগ বলা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রেরকের পাঠানো বার্তা বা সংবাদ পেয়ে প্রাপক তার যে প্রতিক্রিয়া বা উত্তর প্রকাশ করে বা ফেরত পাঠায়, তাকে ফলাবর্তন (Feedback) বলে।

    ফলাবর্তন হলো যোগাযোগ প্রক্রিয়ার সর্বশেষ এবং অপরিহার্য স্তর। প্রাপক বার্তাটি সঠিকভাবে বুঝতে পেরেছে কিনা তা ফলাবর্তনের মাধ্যমেই প্রেরক জানতে পারেন। ফলাবর্তন ছাড়া যোগাযোগ প্রক্রিয়া অসম্পূর্ণ থেকে যায় এবং এটি দ্বিমুখী যোগাযোগ নিশ্চিত করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ক্লাবে আলাপচারিতার ক্ষেত্রে 'অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ' এবং অভ্যন্তরীণ প্রাতিষ্ঠানিক কাজের ক্ষেত্রে 'আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ'—এই উভয় ধরনের যোগাযোগের সংমিশ্রণ অনুসরণ করা হয়েছে, যেখানে প্রধানত অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগের পরিবেশকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    প্রাতিষ্ঠানিক পদমর্যাদা, নিয়মকানুন বা কাঠামোগত বাধ্যবাধকতা না মেনে ব্যক্তিক বা সামাজিক সম্পর্কের ভিত্তিতে যে তথ্য বিনিময় ঘটে, তাকে অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ বলে। অন্যদিকে, প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত নিয়ম ও স্তরবিন্যাস মেনে যে যোগাযোগ হয়, তা হলো আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ।

    উদ্দীপকের 'ডেলটা লিঃ'-এ কর্মীদের জন্য ক্লাব ও রেস্টুরেন্টের ব্যবস্থা রয়েছে যেখানে অবসর সময়ে পেপার পড়া, চা-নাস্তা করা ও গল্পের ফাঁকে খোলামেলাভাবে প্রতিষ্ঠানের সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়। ঊর্ধ্বতন ও অধস্তনরা নির্ভয়ে পরস্পরের সাথে মতবিনিময় করেন, যা অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগের স্পষ্ট প্রতিফলন। তবে প্রাতিষ্ঠানিক আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের ক্ষেত্রে নিয়মনীতি (আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ) মেনে চলা হয়। অতএব, উদ্দীপকে মূলত সামাজিক সম্পর্কের ভিত্তিতে অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগের কার্যকর প্রয়োগ লক্ষণীয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য অর্জনে উদ্দীপকে অনুসৃত আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগের সমন্বিত পদ্ধতি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রেখেছে।

    কার্যকর যোগাযোগের জন্য শুধু কঠোর আনুষ্ঠানিক নিয়মকানুনই যথেষ্ট নয়, বরং কর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও নির্ভয়ে মতামত প্রকাশের সুযোগ দেওয়া জরুরি। উদ্দীপকের 'ডেলটা লিঃ'-এ ক্লাব ও রেস্টুরেন্টে কর্মীদের পারস্পরিক যোগাযোগ ও ঊর্ধ্বতন-অধস্তন সম্পর্ক খোলামেলা হওয়ায় প্রতিষ্ঠানের প্রতি কর্মীদের একাত্মতা বৃদ্ধি পায়। এর ফলে অধস্তনরা ঊর্ধ্বতনদের কাছে কোনো ভয়ভীতি ছাড়াই সমস্যা ও বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে পারেন।

    একই সাথে প্রতিষ্ঠানটিতে প্রাতিষ্ঠানিক অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের ক্ষেত্রে যথাযথ নিয়মকানুন (আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ) অনুসরণ করা হয়। এতে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় থাকে এবং অনানুষ্ঠানিক আলোচনার মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য নিয়মতান্ত্রিকভাবে প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্তে রূপ নেয়। ফলে তথ্যের সঠিক প্রবাহ নিশ্চিত হয়, ভুল বোঝাবুঝি কমে এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ কর্মপরিবেশ সৃষ্টি হয়।

    সুতরাং, অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগের মাধ্যমে খোলামেলা মতবিনিময় ও আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের মাধ্যমে শৃঙ্খলা রক্ষা—এই দুইয়ের সমন্বয় প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য অর্জনকে সহজতর ও সফল করেছে। তাই উল্লিখিত যোগাযোগ পদ্ধতিটি অত্যন্ত কার্যকর ও প্রশংসনীয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন