‍ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮

‍ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন

ফাল্গুন মাসের ভোরবেলা পাজামা-পাঞ্জাবি পরে খালি পায়ে বেরিয়ে গেল রাশেদ। সতীর্থদের সাথে এক হয়ে সে ধীরে ধীরে চলছে এক বেদীর দিকে। তাদের হাতে ফুল। মুখে গান- "আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো ...."।

  1. ক)

    কত সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়?

    (1)
  2. খ)

    যুক্তফ্রন্টের ব্যাখ্যা দাও।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়বস্তু পাঠ্যবইয়ের যে ঘটনাটিকে ইঙ্গিত করে তার পটভূমি ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    'বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ ঘটাতে উক্ত ঘটনা ছিল তাৎপর্যপূর্ণ'- বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৪৯ সালের ২৩শে জুন পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যুক্তফ্রন্ট হলো ১৯৫৪ সালের পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে গঠিত বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর একটি সম্মিলিত নির্বাচনি ঐক্যজোট।

    আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক-শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলাম ও গণতন্ত্রী দল—এই চারটি দল নিয়ে ১৯৫৩ সালের ৪ঠা ডিসেম্বর যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়। এই জোট বিখ্যাত ২১ দফা কর্মসূচির ভিত্তিতে নির্বাচনে অংশ নিয়ে মুসলিম লীগকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করে এক ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়বস্তু পাঠ্যবইয়ের ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত 'শহিদ দিবস' বা একুশে ফেব্রুয়ারির প্রভাতফেরি পালনের ঘটনাটিকে ইঙ্গিত করে। নিচে এর পটভূমি ব্যাখ্যা করা হলো:

    ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালির ওপর উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করে। ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বরে করাচিতে অনুষ্ঠিত শিক্ষা সম্মেলনে উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব করা হলে ঢাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ১৯৪৮ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকায় ঘোষণা করেন যে উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। এর প্রতিবাদে ছাত্রসমাজ ও বুদ্ধিজীবী মহল রাজপথে নেমে আসে।

    ১৯৫২ সালের ২৬শে জানুয়ারি খাজা নাজিমুদ্দীন পুনরায় জিন্নাহর কথার পুনরাবৃত্তি করলে আন্দোলন চরম রূপ ধারণ করে। ছাত্র-জনতা ২১শে ফেব্রুয়ারি হরতাল ও সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দেয়। সরকার ১৪৪ ধারা জারি করলেও ছাত্ররা তা ভঙ্গ করে মিছিল বের করে। মিছিলে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালালে বরকত, রফিক, জব্বার, সালামসহ অনেকে শহিদ হন। রক্ত দিয়ে মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার এই রক্তক্ষয়ী অধ্যায়ই একুশে ফেব্রুয়ারির ঐতিহাসিক পটভূমি।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ ও বিকাশে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রভাব ছিল অত্যন্ত গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ।

    ১৯৪৭ সালে দ্বি-জাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তান সৃষ্টি হলেও শুরু থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আধিপত্য বাঙালির অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। ভাষা আন্দোলন ছিল বাঙালির আত্মপরিচয় ও সংস্কৃতি রক্ষার প্রথম রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম। শহিদদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে বাঙালি বুঝতে পারে যে, শুধুমাত্র ধর্মের ভিত্তিতে একটি জাতি টিকতে পারে না; বরং ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যই জাতির মূল ভিত্তি।

    ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমেই দ্বিজাতিতত্ত্বের মোহভঙ্গ ঘটে এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদের দৃঢ় ভিত্তি স্থাপিত হয়। এই আন্দোলনের চেতনাই পরবর্তীকালে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছে। পরিশেষে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এই জাতীয়তাবাদী চেতনাই স্বাধীনতা অর্জনের প্রধান অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।

    সুতরাং, এ কথা নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে, ভাষা আন্দোলনই ছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার মূল উৎস এবং পরবর্তী সকল স্বাধিকার আন্দোলনের চালিকাশক্তি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন