পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • আইডিয়াল কলেজ, মতিঝিল • আইডিয়াল কলেজ, মতিঝিল টেস্ট পরীক্ষা ২০২৪
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি যে আন্দোলনের সূত্রপাত হয়, তাকে কেন্দ্র করে পূর্ববাংলার জনগণ দীর্ঘ সংগ্রামের পথ পাড়ি দেয়। বাঙালি জাতি ছয় দফা কর্মসূচি, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ হয়। অবশেষে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা লাভ করে।
- ক)(1)
দেশপ্রেম কী?
- খ)(2)
উগ্র জাতীয়তাবাদ কি বিশ্বশান্তির জন্য হুমকিস্বরূপ? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে জাতীয়তার কোন উপাদানটি লক্ষ করা যায়? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত উপাদানটি ছাড়া জাতীয়তার অন্যান্য উপাদানগুলোর মধ্যে যে কোনো চারটির বর্ণনা দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
স্বদেশের প্রতি গভীর ভালোবাসা, নিষ্ঠা ও শ্রদ্ধাবোধকে দেশপ্রেম বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, উগ্র জাতীয়তাবাদ বিশ্বশান্তির জন্য হুমকিস্বরূপ। উগ্র জাতীয়তাবাদ এমন এক ধরনের সংকীর্ণ ও অতিরঞ্জিত মনোভাব, যেখানে নিজের জাতিকে শ্রেষ্ঠ মনে করা হয় এবং অন্যান্য জাতিকে হীন চোখে দেখা হয়। এর ফলে জাতিগত বিদ্বেষ, সাম্রাজ্যবাদী মনোভাব ও যুদ্ধংদেহী পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অতীতে উগ্র জাতীয়তাবাদের কারণেই প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতো ধ্বংসাত্মক সংঘাত সৃষ্টি হয়েছিল। সুতরাং, পরমতসহিষ্ণুতা বিনষ্ট করে সংঘাত তৈরি করার মাধ্যমে উগ্র জাতীয়তাবাদ বিশ্বশান্তির জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে কাজ করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে জাতীয়তার 'ভাষা ও সাহিত্যগত ঐক্য' এবং 'ঐতিহাসিক বা রাজনৈতিক স্মৃতিচারণের ঐক্য' উপাদানটির প্রতিফলন লক্ষ করা যায়, যার মূল ভিত্তি ছিল 'ভাষাগত ঐক্য'। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা বাংলার দাবিতে রক্ত দিয়ে বাঙালি জাতি ভাষার ভিত্তিতে আত্মপরিচয়ের সন্ধান পায়। উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কীভাবে দীর্ঘ সংগ্রামের পথ তৈরি হয়। একই ভাষায় কথা বলা এবং একই সাহিত্যের ঐতিহ্যে লালিত জনসমষ্টির মধ্যে গভীর মানসিক ও আত্মিক ঐক্য গড়ে ওঠে। এ ভাষাগত ঐক্যই পরবর্তী সময়ে ছয় দফা, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে রাজনৈতিক ঐক্যে রূপ নেয় এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদের চূড়ান্ত বিকাশ ঘটিয়ে স্বাধীনতা এনে দেয়। সুতরাং, উদ্দীপকে মূলত ভাষাগত ও ঐতিহাসিক ঐক্যের উপাদানটি প্রতিফলিত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত উপাদানটি ছাড়া জাতীয়তার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চারটি উপাদান নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ভৌগোলিক সান্নিধ্য বা ঐক্য: একটি নির্দিষ্ট ও অখণ্ড ভৌগোলিক ভূখণ্ডে দীর্ঘকাল একসাথে বসবাস করার ফলে জনগণের মধ্যে একাত্মতা ও গভীর বন্ধন সৃষ্টি হয়। প্রাকৃতিক সীমানা এবং পরিবেশের অভিন্নতা মানুষকে পরস্পরের কাছে টেনে এনে জাতীয়তাবাদী চেতনা জোরদার করে। ২. বংশগত বা রক্তগত ঐক্য: জাতীয়তার অন্যতম প্রাচীন ও শক্তিশালী উপাদান হলো বংশগত ঐক্য। একই রক্ত কিংবা একই নৃগোষ্ঠী থেকে উদ্ভূত—এমন সাধারণ বিশ্বাস জনগণের মধ্যে গভীর সৌভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টি করে। যদিও আধুনিক যুগে কোনো জাতিই সম্পূর্ণ রক্তগতভাবে বিশুদ্ধ নয়, তবুও এই মনোভাব জাতীয়তাবোধ সৃষ্টিতে সহায়ক। ৩. ধর্মীয় ঐক্য: ধর্ম মানুষের অনুভূতিকে দারুণভাবে নাড়া দেয়। অভিন্ন ধর্মে বিশ্বাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে সামাজিক আচার-অনুষ্ঠান ও মূল্যবোধের ঐক্য দেখা যায়, যা জাতীয় ঐক্য গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ৪. অর্থনৈতিক স্বার্থের ঐক্য: অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, ব্যবসা-বাণিজ্য ও উন্নয়নের অভিন্ন স্বার্থের কারণেও মানুষের মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরশীলতা ও ঐক্য গড়ে ওঠে। যখন একটি অঞ্চলের মানুষ মনে করে যে তাদের অর্থনৈতিক মুক্তি বা স্বার্থ রক্ষায় তারা একে অপরের সাথে আবদ্ধ, তখন জাতীয়তাবাদী চেতনার ভিত মজবুত হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও