ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন
বাংলাদেশ টেলিভিশনে ঔপনিবেশিক শাসন আমলের বিষয়ে একটি নাটক সম্প্রচারিত হয়। নাটকের নায়ক মি. জ্যাক। একজন ঘোর সাম্রাজ্যবাদী ও উচ্চাভিলাষী শাসক। তিনি কয়েকটি দেশীয় রাজ্যের রাজনৈতিক অধিকার হরণ করে বাধ্যতামূলক মিত্রতায়। আবন্ধ করেন। তিনি একই উদ্দেশ্যে দুটি নীতি প্রয়োগ করে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিস্তৃতি ঘটান।
- ক)(1)
কে সতীদাহ প্রথা বিলোপ করেন?
- খ)(2)
ফরায়েজি আন্দোলন কী? ব্যাখ্যা দাও।
- গ)(3)
উদ্দীপকে পাঠ্যবইয়ের যে গভর্নর জেনারেলের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে, তার রাজ্য দখলের নীতিটি আলোচনা করো।
- ঘ)(4)
"উক্ত নীতির প্রয়োগের দ্বারা তিনি ভারতে ব্রিটিশ শক্তিকে সুসংহত করেন"- মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক ১৮২৯ সালে সতীদাহ প্রথা বিলোপ করেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ফরায়েজি আন্দোলন হলো উনিশ শতকের প্রথমার্ধে হাজী শরীয়তুল্লাহর নেতৃত্বে বাংলায় পরিচালিত একটি ইসলামি সংস্কারবাদী ও কৃষক মুক্তির আন্দোলন।
'ফরায়েজি' শব্দটি এসেছে আরবি 'ফরজ' (বাধ্যতামূলক কর্তব্য) থেকে। হাজী শরীয়তুল্লাহ তৎকালীন মুসলিম সমাজের অনৈসলামিক কুসংস্কার ও বিদআত দূর করে ইসলামের মূল অনুশাসন বা ফরজ পালনের আহ্বান জানান। পরবর্তীতে এ আন্দোলন ধর্মীয় সংস্কারের গণ্ডি পেরিয়ে জমিদার, নীলকর ও ব্রিটিশদের শোষণের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ও সামাজিক কৃষক আন্দোলনে রূপান্তরিত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে লর্ড ওয়েলেসলির প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে, যার রাজ্য বিস্তারের প্রধান নীতি ছিল 'অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি' (Subsidiary Alliance)।
লর্ড ওয়েলেসলি ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে এই নীতি প্রবর্তন করেন। এর মূল শর্তাবলি ছিল:
১. মিত্রতাবদ্ধ দেশীয় রাজ্যকে নিজস্ব সৈন্যবাহিনী ভেঙে দিয়ে তার পরিবর্তে ইংরেজ সৈন্যবাহিনী রাখতে হবে এবং তাদের ব্যয়নির্বাহের জন্য নির্দিষ্ট অর্থ বা ভূখণ্ড ছেড়ে দিতে হবে।
২. রাজ্যে একজন ব্রিটিশ রেসিডেন্ট থাকবেন, যিনি অভ্যন্তরীণ বিষয়ে পরামর্শ দেবেন।
৩. ইংরেজদের অনুমতি ছাড়া উক্ত রাজ্য অন্য কোনো শক্তির সাথে যুদ্ধ বা সন্ধি করতে পারবে না।হায়দ্রাবাদের নিজাম সর্বপ্রথম এই নীতি গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে অযোধ্যা, তাঞ্জোর ও মারাঠাদের একটি অংশ এই নীতির জালে বন্দি হয়ে সার্বভৌমত্ব হারায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি এবং যুদ্ধনীতির প্রয়োগের মাধ্যমে লর্ড ওয়েলেসলি ভারতে ব্রিটিশ শক্তিকে অত্যন্ত সুদৃঢ় ও সুসংহত করেন—উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
ওয়েলেসলি ভারতে ব্রিটিশ শক্তির একাধিপত্য প্রতিষ্ঠায় আক্রমণাত্মক সাম্রাজ্যবাদী নীতি গ্রহণ করেন। অধীনতামূলক মিত্রতা নীতির মাধ্যমে তিনি রক্তপাতহীনভাবে ভারতীয় রাজ্যগুলোকে ব্রিটিশদের নিয়ন্ত্রণে আনেন। যেসব রাজ্য এই নীতি প্রত্যাখ্যান করেছিল, তাদের বিরুদ্ধে তিনি যুদ্ধনীতি প্রয়োগ করেন। উদাহরণস্বরূপ, চতুর্থ ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধে (১৭৯৯) টিপু সুলতানকে পরাজিত ও নিহত করে মহীশূর ব্রিটিশ কর্তৃত্বে আনা হয়। দ্বিতীয় ইঙ্গ-মারাঠা যুদ্ধে মারাঠা শক্তিকে চূর্ণ করে তাদের মিত্রতা নীতি গ্রহণে বাধ্য করা হয়।
ফলে একদিকে ভারতে ফরাসি প্রভাব সম্পূর্ণরূপে নির্মূল হয় এবং অন্যদিকে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতের প্রধান রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়। সুতরাং, তাঁর অনুসৃত নীতিগুলোর সফল প্রয়োগই ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ভিত্তি পাকাপোক্ত করেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও