‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৩

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    ৩রা জুন পরিকল্পনা কী?

    (1)
  2. খ)

    প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন কেন প্রয়োজন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে '?' চিহ্নটি তোমার পাঠ্যপুস্তকের যে আইনকে নির্দেশ করে তার কার্যকারিতা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    তুমি কি মনে কর, উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত আইনটি ব্রিটিশ ভারতে গণতন্ত্র বিকাশে সহায়ক ছিল? তোমার মতের সপক্ষে যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৪৭ সালের ৩রা জুন ব্রিটিশ ভারতের শেষ ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেন ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি পৃথক স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের মাধ্যমে ভারতবর্ষ বিভক্ত করার যে পরিকল্পনা ঘোষণা করেন, তাকে ৩রা জুন পরিকল্পনা (বা মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা) বলা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন বলতে কেন্দ্রের অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ ছাড়া প্রদেশের অভ্যন্তরীণ শাসনকার্য পরিচালনার অবাধ স্বাধীনতাকে বোঝায়। বিশাল ভূখণ্ড ও বহুমুখী জাতিগোষ্ঠী বা ভাষাভাষীর দেশে স্থানীয় সমস্যা সমাধান, সুষম আঞ্চলিক উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক কৃষ্টি ও স্বকীয়তা সংরক্ষণের জন্য প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন অত্যন্ত প্রয়োজন। এর মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্র বিকশিত হয় এবং জনগণ নিজেদের প্রতিনিধি দ্বারা নিজেদের প্রদেশের শাসন পরিচালনায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের '?' চিহ্নিত ছকে 'যুক্তরাষ্ট্রীয় আদালত', 'বর্মার পৃথকীকরণ', 'কেন্দ্রীয় দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা', 'কেন্দ্রে দ্বৈত শাসন' প্রভৃতি বৈশিষ্ট্য নির্দেশ করছে ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনকে।

    এই আইনের কার্যকারিতা ছিল মিশ্র ও আংশিক। আইনটিতে ভারতে একটি অখিল ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছিল, যাতে ব্রিটিশ ভারতের প্রদেশগুলো এবং দেশীয় রাজ্যগুলো যুক্ত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দেশীয় রাজ্যগুলোর অনাগ্রহ এবং বিভিন্ন শর্তপূরণ না হওয়ায় এই আইনের যুক্তরাষ্ট্রীয় অংশটি কখনই কার্যকর হতে পারেনি। ফলে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দ্বৈত শাসনও প্রবর্তিত হয়নি। তবে ১৯৩৫ সালের আইনের সবচেয়ে কার্যকর অংশ ছিল প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন। আইন অনুযায়ী ১৯৩৭ সালে ১১টি প্রদেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে প্রাদেশিক সরকার গঠিত হয়। এ ছাড়া এ আইনের আওতায় বর্মাকে (বর্তমানে মিয়ানমার) ভারত থেকে পৃথক করা হয় এবং একটি ফেডারেল বা যুক্তরাষ্ট্রীয় আদালত প্রতিষ্ঠিত হয় যা কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করেছিল।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, আমি মনে করি উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনটি পুরোপুরি নিখুঁত না হলেও ব্রিটিশ ভারতে গণতন্ত্রের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা পালন করেছিল।

    এর সপক্ষে যুক্তিগুলো নিম্নরূপ:
    ১. ভোটাধিকার সম্প্রসারণ: এই আইনের ফলে ভারতের ভোটাধিকারের পরিধি পূর্বের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায় (জনসংখ্যার প্রায় ১৪ শতাংশ মানুষ ভোটাধিকার লাভ করে), যা জনগণের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করে।
    ২. ১৯৩৭ সালের সাধারণ নির্বাচন: এ আইনের ভিত্তিতে ১৯৩৭ সালে ১১টি প্রদেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যার মাধ্যমে ভারতীয় রাজনৈতিক দলগুলো (যেমন—কংগ্রেস, মুসলিম লীগ, কৃষক প্রজা পার্টি ইত্যাদি) নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নেয় এবং জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল সরকার গঠন করে।
    ৩. সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চা: প্রাদেশিক পর্যায়ে ভারতীয় নির্বাচিত মন্ত্রীদের হাতে শাসনভার প্রদান করায় দায়িত্বশীল সংসদীয় সরকার পরিচালনার বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জিত হয়।
    ৪. সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি: আইনটিতে কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে ক্ষমতা বণ্টন এবং যুক্তরাষ্ট্রীয় আদালতের বিধান ভারতে আধুনিক সাংবিধানিক ও আইনি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে সহায়তা করে, যা পরবর্তীকালে ভারত ও পাকিস্তানের সংবিধানের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।

    যদিও গভর্নর ও গভর্নর জেনারেলের হাতে ভেটো ও বিশেষ ক্ষমতা বহাল থাকায় স্বায়ত্তশাসন পুরোপুরি কার্যকর ছিল না, তবুও এটি ভারতীয়দের মধ্যে গণতান্ত্রিক চেতনা, দায়িত্বশীল শাসন এবং নির্বাচনী রাজনীতির যে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিল, তা ভারতে গণতন্ত্রের বিকাশে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন