পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • সরকার কাঠামো ও সরকারের অঙ্গসমূহ • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
জনাব রেদোয়ান ও সারোয়ার হোসেন একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের দুইটি স্বতন্ত্র বিভাগের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা। জনাব রেদোয়ানের বিভাগ প্রতিষ্ঠান পরিচালনা সংক্রান্ত যাবতীয় নীতিমালা প্রণয়ন করে থাকে। এসব নীতিমালার আলোকে সারোয়ার সাহেবের বিভাগ প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করে। এমনকি জনাব রেদোয়ানের বিভাগ অর্থ আয়-ব্যয় সংক্রান্ত যে বাজেট অনুমোদন করে সে অনুযায়ী সারোয়ার সাহেবের বিভাগ অর্থ ব্যয় করে।
- ক)(1)
সরকারের অঙ্গ কয়টি?
- খ)(2)
জাতীয় রাষ্ট্র বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে জনাব রেদোয়ানের বিভাগের সাথে তোমার পঠিত সরকারের যে বিভাগের মিল রয়েছে তার তিনটি কাজ ব্যাখ্যা করো। ৩
- ঘ)(4)
"বর্তমানে সারোয়ার হোসেনের বিভাগের কার্যক্রম দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে" সপক্ষে যুক্তি দাও। 8
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সরকারের অঙ্গ বা বিভাগ ৩টি (আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জাতীয় রাষ্ট্র (National State) বলতে এমন এক ধরনের রাষ্ট্রকে বোঝায় যা একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে বসবাসকারী নির্দিষ্ট জাতিসত্তা বা জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ জনসমষ্টি নিয়ে গড়ে ওঠে। আধুনিক যুগে সার্বভৌম সীমানার মধ্যে ঐক্যবদ্ধ ও স্বশাসিত জনসমষ্টির ভিত্তিতে গঠিত রাষ্ট্রই হলো জাতীয় রাষ্ট্র। এতে রাষ্ট্রের নাগরিকরা সাধারণত একই ভাষা, সংস্কৃতি বা অভিন্ন অনুভূতির সূত্রে নিজেদের একতাবদ্ধ মনে করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে জনাব রেদোয়ানের বিভাগের সাথে আমার পঠিত সরকারের 'আইন বিভাগ'-এর মিল রয়েছে। কারণ তাঁর বিভাগ প্রতিষ্ঠান পরিচালনা সংক্রান্ত যাবতীয় নীতিমালা প্রণয়ন ও বাজেট অনুমোদন করে থাকে।
আইন বিভাগের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. আইন প্রণয়ন ও সংশোধন: আইন বিভাগের প্রধান কাজ হলো রাষ্ট্রের প্রয়োজনে নতুন আইন প্রণয়ন করা, পুরোনো আইন সংশোধন করা বা বাতিল করা।
২. অর্থ সংক্রান্ত বা বাজেট অনুমোদন: রাষ্ট্রের আয়-ব্যয় নিয়ন্ত্রণ আইন বিভাগের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ। আইন বিভাগের অনুমোদন ছাড়া সরকার কোনো নতুন কর ধার্য বা অর্থ ব্যয় করতে পারে না; এটি সরকারের বার্ষিক বাজেট পাস করে।
৩. শাসন বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ: আইন বিভাগ বিভিন্ন প্রশ্ন, মূলতবি প্রস্তাব বা অনাস্থা প্রস্তাবের মাধ্যমে শাসন বিভাগের কার্যক্রম তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ করে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে সারোয়ার হোসেনের বিভাগটি সরকারের 'শাসন বিভাগ' বা 'নির্বাহী বিভাগ'-কে নির্দেশ করে। "বর্তমানে শাসন বিভাগের কার্যক্রম দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে"—উক্তিটি অত্যন্ত যথার্থ।
প্রাচীনকালে রাষ্ট্রের কাজ ছিল মূলত পুলিশি ধরনের; অর্থাৎ দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করা। কিন্তু আধুনিক রাষ্ট্র হলো 'জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র'। ফলে নাগরিকদের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সার্বিক কল্যাণে শাসন বিভাগকে বহুবিধ দায়িত্ব পালন করতে হয়।
আধুনিক যুগে শাসন বিভাগের কার্যক্রম বৃদ্ধির প্রধান কারণসমূহ:
১. জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড: শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান, যোগাযোগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে শাসন বিভাগের প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে।
২. অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও উন্নয়ন: পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা গ্রহণ, দারিদ্র্য বিমোচন, অবকাঠামো নির্মাণ ও শিল্পায়ন বাস্তবায়নের দায়িত্ব মূলত শাসন বিভাগের ওপর বর্তায়।
৩. জটিল ও প্রযুক্তিগত প্রশাসন পরিচালনা: বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে রাষ্ট্রের প্রশাসন পরিচালনা অত্যন্ত জটিল ও বৈচিত্র্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে, যা নিয়ন্ত্রণ ও তদারকিতে শাসন বিভাগের পরিধি বাড়ছে।
৪. অধস্তন আইন প্রণয়ন বা অর্পিত ক্ষমতা প্রয়োগ: সংসদীয় কাজের পরিধি বেড়ে যাওয়ায় আইন বিভাগ অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ রূপরেখা তৈরি করে খুঁটিনাটি আইন প্রণয়নের দায়িত্ব শাসন বিভাগের ওপর অর্পণ করে।অতএব, আধুনিক রাষ্ট্রের পরিবর্তিত ভূমিকা ও জনকল্যাণমূলক ধারণার প্রেক্ষিতে শাসন বিভাগের দায়িত্ব ও কাজের পরিধি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও