উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭

উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    মূল্য কী?

    (1)
  2. খ)

    ব্রেক ইভেন বলতে কী বোঝা? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    পণ্যের জীবনচক্রের কোন স্তরে বিক্রি এবং মুনাফা বাড়ে? ব্যাখ্যা করো ।

    (3)
  4. ঘ)

    পণ্যের জীবনচক্রের একেক স্তরে বিপণন কৌশল একেক রকম হওয়ার কারণ কী? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো পণ্য বা সেবা পাওয়ার জন্য ক্রেতা যে পরিমাণ অর্থ বা উপযোগ প্রদান করে, তাকে মূল্য বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ব্রেক ইভেন (বা সম-আয়-ব্যয় বিন্দু) বলতে বিক্রয়ের সেই পরিমাণ বা স্তরকে বোঝায়, যেখানে প্রতিষ্ঠানের মোট আয় এবং মোট ব্যয় সমান হয়।

    এই বিন্দুতে ব্যবসায়ের কোনো লাভ বা লোকসান কিছুই হয় না (লাভ = ০)। বিক্রয়ের পরিমাণ ব্রেক ইভেন বিন্দুর চেয়ে কম হলে প্রতিষ্ঠানে লোকসান হয় এবং বেশি হলে মুনাফা অর্জিত হয়। এটি ব্যবসায়ের ঝুঁকি ও উৎপাদন-বিক্রয় পরিকল্পনা নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আর্থিক নির্দেশক।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পণ্যের জীবনচক্রের প্রবৃদ্ধি (Growth) স্তরে বিক্রি এবং মুনাফা দুটোই দ্রুত গতিতে বাড়ে।

    উদ্দীপকের ছকে দেখা যায়, সূচনা স্তরের পর প্রবৃদ্ধি স্তরে বিক্রয় রেখা ও মুনাফা রেখা উভয়ই ঊর্ধ্বগামী হয়েছে।

    এই স্তরে পণ্যটি বাজারে পরিচিতি লাভ করে এবং গ্রাহকদের দ্বারা ব্যাপকভাবে গৃহীত হয়। ফলে নতুন ক্রেতা তৈরির পাশাপাশি পুরোনো ক্রেতারাও পণ্যটি বারবার ক্রয় করতে থাকে, যা দ্রুত বিক্রয় বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। বিক্রয় বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে বৃহৎ পরিসরে উৎপাদনের সুফল (Economies of Scale) পাওয়া যায় এবং একক প্রতি উৎপাদন ও বিপণন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পায়। ফলে এই স্তরে বিক্রয়ের পাশাপাশি সামগ্রিক মুনাফার পরিমাণও দ্রুত বৃদ্ধি পায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পণ্যের জীবনচক্রের বিভিন্ন স্তরে গ্রাহকের চাহিদা, বিক্রয়ের পরিমাণ, প্রতিযোগী পরিস্থিতি এবং ব্যয়ের প্রকৃতি ভিন্ন ভিন্ন হওয়ার কারণে বিপণন কৌশলও একেক স্তরে একেক রকম হয়।

    উদ্দীপকে প্রদর্শিত পণ্যের জীবনচক্রের স্তরগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়:

    ১. পণ্য উন্নয়ন স্তর: এই স্তরে বিক্রয় শূন্য থাকে এবং প্রচুর গবেষণা ও উন্নয়ন ব্যয় হয়। কৌশল হিসেবে পণ্যটির কার্যকর রূপদান ও বাজার উপযোগী করা প্রধান লক্ষ্য থাকে।

    ২. সূচনা স্তর: বাজারে পণ্য নতুন হওয়ায় বিক্রয় খুব ধীরগতির হয় এবং গ্রাহকদের পণ্য সম্পর্কে সচেতনতা কম থাকে। তাই বিপণনের কৌশল হয় ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে সচেতনতা তৈরি করা এবং পরীক্ষামূলক ক্রয়ে উদ্বুদ্ধ করা।

    ৩. প্রবৃদ্ধি স্তর: বিক্রয় ও চাহিদা দ্রুত বাড়তে থাকে এবং বাজারে প্রতিযোগীর আগমন ঘটে। ফলে গুণগত মান উন্নয়ন, নতুন বাজার অংশে প্রবেশ ও বণ্টন প্রণালী সম্প্রসারণের কৌশল নেওয়া হয়।

    ৪. পূর্ণতা স্তর: বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা থাকে এবং বিক্রয় সর্বোচ্চ মাত্রায় পৌঁছে প্রবৃদ্ধির হার স্থবির হয়ে পড়ে। ফলে বাজারে টিকে থাকার জন্য মূল্য হ্রাস, পণ্য বৈচিত্র্যকরণ এবং আক্রমণাত্মক প্রচারণামূলক কৌশল গ্রহণ করা হয়।

    ৫. পতন স্তর: নতুন বিকল্প পণ্যের আগমনে বিক্রয় ও মুনাফা কমতে থাকে। ফলে খরচ কমানো, পণ্য প্রত্যাহার বা সংস্কারের কৌশল নিতে হয়।

    অতএব, জীবনচক্রের প্রতিটি স্তরে পরিবেশগত পরিবর্তন ও বাজারের চ্যালেঞ্জ ভিন্ন হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য বিপণন কৌশলও একেক স্তরে আলাদা হতে বাধ্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন