কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৭
কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
শিমূলোর দাদু বন বিভাগের কর্মচারী ছিলেন। অবসর জীবনে তিনি রাঙ্গামাটি জেলায় বসবাস করেন। তার একমাত্র নাতি শিমুলের এসএসসি পরীক্ষার পর তাকে নিয়ে সুন্দরবন বেড়াতে এসেছেন। শিমুল তার এলাকার শীল কড়ই গাছের সাথে পরিচিত ছিল। এখানে সে সুন্দরি গাছসহ অনেক অপরিচিত গাছপালা ও পশুপাখি দেখে মুগ্ধ হলো। দাদু বললেন, তার ছোটবেলায় দেখা বনের গাছপালা ও পশুপাখি। এখন আর তেমন একটা চোখে পড়ে না। কারণ মানুষ আজকাল নির্বিচারে গাছপালা কাটছে।
- ক)(1)
কৃষিবন কী?
- খ)(2)
কৃষিমেলার আয়োজন করা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের আলোকে শিমুলের দেখা বন দুটির তুলনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের দাদুর ছোটবেলার দেখা বনের গাছপালা ও পশুপাখি এখন দেখা না যাওয়ার কারণ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একই জমিতে একই সময়ে বা পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন প্রকার ফসল, ফলমূল ও বনজ বৃক্ষ উৎপাদনের পাশাপাশি পশুপাখি ও মৎস্য চাষের সমন্বিত বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাকে কৃষিবন (Agroforestry) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কৃষকদের আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি, নতুন উন্নত জাতের বীজ ও ফসলের সাথে পরিচিত করানো এবং চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ করার উদ্দেশ্যে কৃষিমেলার আয়োজন করা হয়।
কৃষিমেলায় প্রদর্শনের মাধ্যমে কৃষকরা সহজে উন্নত প্রযুক্তি, বীজ, সার ও কৃষিযন্ত্রপাতি সম্পর্কে ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জন করতে পারেন। এছাড়া এ মেলা কৃষক ও কৃষিবিজ্ঞানীদের মধ্যে সরাসরি মতবিনিময়ের চমৎকার সুযোগ তৈরি করে কৃষির সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে শিমুলের পরিচিত বনটি হলো রাঙ্গামাটির পাহাড়ি বন এবং তার ভ্রমণ করা বনটি হলো সুন্দরবনের উপকূলীয় বা ম্যানগ্রোভ বন। নিচে এ দুটির তুলনামূলক আলোচনা করা হলো:
১. ভৌগোলিক অবস্থান ও পরিবেশ: রাঙ্গামাটির বন চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি বনাঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত, যার মাটি সাধারণত লালচে ও উঁচু-নিচু পাহাড়ি প্রকৃতির। পক্ষান্তরে, সুন্দরবন বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলার সমুদ্রতীরবর্তী লবণাক্ত ও কর্দমাক্ত উপকূলীয় অঞ্চলের ম্যানগ্রোভ বন।
২. উদ্ভিদ প্রজাতির ভিন্নতা: রাঙ্গামাটির পাহাড়ি বনে শীল কড়ই, গর্জন, চাপালিশ, সেগুন, বাঁশ ও বেত জাতীয় বৃক্ষ প্রধান। অন্যদিকে সুন্দরবনে জোয়ার-ভাটার লবণাক্ত পানিতে টিকে থাকার জন্য বিশেষ শ্বাসমূল (Pneumatophore) ও ঠেসমূলযুক্ত বৃক্ষ যেমন—সুন্দরী, গেওয়া, গরান, পশুর, গোলপাতা ইত্যাদি জন্মায়।
৩. জীববৈচিত্র্য: পাহাড়ি বনাঞ্চলে হাতি, বানর, হরিণ ও বিভিন্ন প্রজাতির পাহাড়ি পাখি বাস করে। বিপরীতে, সুন্দরবনে বিশ্বখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিণ, কুমির ও ম্যানগ্রোভ বনের বিশেষ প্রজাতির পশুপাখি দেখা যায়।
সুতরাং, অবস্থান, জলবায়ু, মাটি এবং গাছপালা ও প্রাণীকূলের বৈশিষ্ট্যের দিক দিয়ে বন দুটি একে অপরের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের দাদুর ছোটবেলায় দেখা বনের গাছপালা ও পশুপাখি বর্তমান সময়ে বিলুপ্ত বা হ্রাস পাওয়ার প্রধান কারণ হলো অবাধে বন উজাড় ও পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা। নিচে এর কারণগুলো বিশ্লেষণ করা হলো:
১. নির্বিচারে গাছপালা কাটা: জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে বসতবাড়ি নির্মাণ, কৃষিজমি সম্প্রসারণ, শিল্পকারখানা স্থাপন ও জ্বালানির প্রয়োজনে মানুষ অপরিকল্পিতভাবে বন নিধন করছে, যার ফলে বনের সামগ্রিক উদ্ভিদবৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে হ্রাস পাচ্ছে।
২. বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ও খাদ্যের সংকট: বন উজাড় হওয়ার কারণে পশুপাখির স্বাভাবিক বাসস্থান ধ্বংস হচ্ছে এবং খাদ্য সংকট দেখা দিচ্ছে। ফলস্বরূপ প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি ব্যাহত হয়ে বহু প্রজাতির প্রাণী দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে বা বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।
৩. অবৈধ শিকার ও চোরাচালান: অর্থলিপ্সার কারণে হরিণ, বাঘ, পাখি ও বিরল প্রজাতির প্রাণী শিকার এবং পাচার হওয়ার ফলে প্রাণীদের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে।
৪. জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ: তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বৃষ্টিপাতের অনিয়ম, সমুদ্রের লবণাক্ত পানির অনুপ্রবেশ এবং নানা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে অনেক সংবেদনশীল উদ্ভিদ ও প্রাণী বেঁচে থাকার উপযোগী পরিবেশ হারাচ্ছে।
অতএব, মানুষের লোভ ও অসচেতনতার ফলে নির্বিচারে বন ধ্বংস হওয়াই দাদুর ছোটবেলার সমৃদ্ধ বনাঞ্চল এবং পশুপাখি বর্তমানে প্রায় হারিয়ে যাওয়ার মূল কারণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও