কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৭
কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বিজয়া স্থানীয় এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে একটি দুগ্ধ খামার স্থাপন করল। সে খামারের জন্য দুগ্ধবতী গাভি নির্বাচন করার সময় গাভির পিছনের পা ও ওলানের আকার আকৃতি দেখে নিল যার কারণে খামারের দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি পেল এবং সে আর্থিকভাবে লাভবান হলো। এক সময় তার এলাকার কিছু লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হলো।
- ক)(1)
দুগ্ধ খামার কী?
- খ)(2)
কোন ধরনের খাবারকে তুমি গবাদিপশুর সুষম খাবার বলবে?
- গ)(3)
খামারটিকে অধিক উৎপাদনশীল করার লক্ষ্যে বিজয়ার পদক্ষেপ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
"সফল উদ্যোক্তা হিসেবে বিজয়ার কর্মকাণ্ড অনুকরণীয়"- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দুধ উৎপাদনের উদ্দেশ্যে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে গাভি পালন, প্রজনন ও ব্যবস্থাপনার বিশেষায়িত খামারকে দুগ্ধ খামার (Dairy Farm) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে খাদ্য তালিকায় গবাদিপশুর দৈহিক বৃদ্ধি, পুষ্টি, ক্ষয়পূরণ এবং দুধ বা মাংস উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সকল পুষ্টি উপাদান (আমিষ, শর্করা, চর্বি, খনিজ, ভিটামিন ও পানি) সঠিক অনুপাতে ও পরিমাণে উপস্থিত থাকে, তাকে গবাদিপশুর সুষম খাবার বলে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
খামারটিকে অধিক উৎপাদনশীল করার লক্ষ্যে বিজয়া উন্নত জাতের ও বেশি দুধ উৎপাদনকারী গাভি নির্বাচনের সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল।
বিজয়ার পদক্ষেপের ব্যাখ্যা:
১. গাভির পিছনের পা পর্যবেক্ষণ: দুগ্ধবতী গাভির পিছনের পা দুটি সোজা, শক্ত-সমর্থ এবং পরস্পর থেকে যথেষ্ট ফাঁকা হওয়া জরুরি, যাতে বিশাল আকারের ওলান স্বাচ্ছন্দ্যে অবস্থান করতে পারে। বিজয়া এটি নিখুঁতভাবে পরীক্ষা করে।
২. ওলানের আকার ও আকৃতি পর্যবেক্ষণ: একটি ভালো দুগ্ধবতী গাভির ওলান সুগঠিত, প্রশস্ত এবং পেটের সাথে সামনের ও পিছনের দিকে দৃঢ়ভাবে সংযুক্ত থাকে। ওলানের বাঁটগুলো সমআকৃতির ও সমদূরত্বে বিন্যস্ত থাকা অধিক দুধ উৎপাদনের পরিচায়ক।বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে এসব লক্ষণ দেখে গাভি নির্বাচন করায় বিজয়ার খামারে দুধের উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং খামারটি লাভজনক হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"সফল উদ্যোক্তা হিসেবে বিজয়ার কর্মকাণ্ড অনুকরণীয়"—বক্তব্যটি সম্পূর্ণ বাস্তবসম্মত ও যথার্থ। নিচে এর যৌক্তিক বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:
১. সঠিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ: বিজয়া যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে আধুনিক পশুপালন সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করেছে, যা যে কোনো সফল উদ্যোক্তা হওয়ার পূর্বশর্ত।
২. পরিকল্পিত অর্থায়ন: নিজের মূলধনের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও স্থানীয় এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে সময়োপযোগী অর্থসংস্থান নিশ্চিত করেছে।
৩. বিজ্ঞানসম্মত নির্বাচন ও ব্যবস্থাপনা: আবেগবশত গাভি না কিনে বিজ্ঞানসম্মতভাবে গাভির শারীরিক লক্ষণ (পা ও ওলানের গঠন) বিচার করে অধিক উৎপাদনশীল গাভি নির্বাচন করেছে।
৪. অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা: সঠিক ব্যবস্থাপনার ফলে তার খামারের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সে আর্থিকভাবে লাভবান হয়ে নিজের ভাগ্যোন্নয়ন ঘটিয়েছে।
৫. কর্মসংস্থান সৃষ্টি: সে কেবল নিজের উন্নয়ন করেনি, বরং এলাকার বেকার লোকজনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে অনন্য ভূমিকা রেখেছে।অতএব, যুবসমাজ ও বেকারদের স্বাবলম্বী হতে এবং দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে বিজয়ার উদ্যোগ ও সঠিক ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি নিঃসন্দেহে একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও