সমাজকর্ম ১ম পত্র • সমাজকর্ম সম্পর্কিত প্রত্যয়সমূহ • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬

সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    বিভারিজ রিপোর্ট কী?

    (1)
  2. খ)

    সমাজকর্মকে সাহায্যকারী পেশা বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত স্থানে ইঙ্গিতকৃত প্রত্যয়টি ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য '?' চিহ্নিত স্থানের প্রত্যয়টি কীভাবে প্রয়োগ করা যায়? বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৪২ সালে ব্রিটেনে আর্থসামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নে স্যার উইলিয়াম বিভারিজের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি যে ঐতিহাসিক সুপারিশমালা বা প্রতিবেদন পেশ করে, তাকে বিভারিজ রিপোর্ট (Beveridge Report) বলা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সমাজকর্মকে সাহায্যকারী পেশা বলা হয় কারণ এটি ব্যক্তিকে এমনভাবে সাহায্য করে যাতে সে নিজেই নিজের সমস্যার সমাধান করতে পারে।

    সমাজকর্ম কেবল তাৎক্ষণিক দান বা আর্থিক সাহায্য প্রদানে বিশ্বাসী নয়; বরং এটি বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও দক্ষতার মাধ্যমে সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তি, দল বা সমষ্টির সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটিয়ে তাদের স্বাবলম্বী এবং সক্ষম করে তোলে। অর্থাৎ, মানুষকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে সাহায্য করাই এর মূল লক্ষ্য হওয়ায় একে একটি সাহায্যকারী পেশা বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত স্থানে ইঙ্গিতকৃত প্রত্যয়টি হলো '১৬০১ সালের এলিজাবেথীয় দরিদ্র আইন' (The Elizabethan Poor Law of 1601)।

    ইংল্যান্ডের তৎকালীন ক্রমবর্ধমান দারিদ্র্য ও ভিক্ষাবৃত্তি সমস্যা দূর করার জন্য ১৬০১ সালে রানি প্রথম এলিজাবেথ ৪৩তম দরিদ্র আইন প্রবর্তন করেন। এই আইনে দরিদ্রদের কার্যকর পুনর্বাসনের লক্ষ্যে তিন শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়:
    ১. সক্ষম দরিদ্র (Able-bodied poor): যাদের কাজ করার শারীরিক ক্ষমতা ছিল, তাদের কাজের ঘরে (Workhouse) রেখে কঠোর পরিশ্রম করতে বাধ্য করা হতো।
    ২. অক্ষম দরিদ্র (Impotent poor): অন্ধ, বৃদ্ধ, পঙ্গু ও অসুস্থ ব্যক্তিরা যারা কাজ করতে অক্ষম ছিল, তাদের দরিদ্র নিবাসে (Almshouse) রেখে অভ্যন্তরীণ সাহায্য এবং প্রয়োজনে বহিস্থ সাহায্য দেওয়া হতো।
    ৩. নির্ভরশীল বালক-বালিকা (Dependent children): এতিম ও পরিত্যক্ত শিশুদের অন্য কোনো নাগরিকের তত্ত্বাবধানে শিক্ষানবিস হিসেবে বিভিন্ন পেশা বা কাজের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হতো।

    উদ্দীপকের ছকে দরিদ্রদের এই তিন শ্রেণিতে বিভক্তিকরণের সুস্পষ্ট চিত্র রয়েছে, যা ১৬০১ সালের এলিজাবেথীয় দরিদ্র আইনের মূল বৈশিষ্ট্য নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত প্রত্যয়টি হলো '১৬০১ সালের এলিজাবেথীয় দরিদ্র আইন'। বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে এই আইনের অন্তর্নিহিত নীতিমালা ও শ্রেণিভিত্তিক সহায়তা পদ্ধতি অত্যন্ত ফলপ্রসূভাবে প্রয়োগ করা যেতে পারে।

    বাংলাদেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে আইনটির বাস্তবায়ন নিম্নোক্ত উপায়ে করা সম্ভব:
    ১. সক্ষম দরিদ্রদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি: বাংলাদেশে বিপুলসংখ্যক বেকার ও কর্মক্ষম দরিদ্র মানুষ রয়েছে। এলিজাবেথীয় আইনের মতো তাদের অলস বসে থাকার সুযোগ না দিয়ে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি বা কাজের বিনিময়ে খাদ্য/টাকা কর্মসূচিতে যুক্ত করে উৎপাদনশীল খাতে রূপান্তর করা যায়।
    ২. অক্ষম দরিদ্রদের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী: দেশে বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী ও দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য পর্যাপ্ত সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। এলিজাবেথীয় দরিদ্র আইনের 'অক্ষম দরিদ্র' নীতির আলোকে সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা (যেমন: বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা) বৃদ্ধি এবং উপযুক্ত পুনর্বাসন কেন্দ্র বা সেবা প্রদান করা আবশ্যক।
    ৩. নির্ভরশীল শিশুদের উন্নয়ন ও শিক্ষা: এতিম, পথশিশু ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সুরক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তাদের মৌলিক শিক্ষা, উপযুক্ত কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং পুনর্বাসনের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করা যেতে পারে।
    ৪. প্রশাসনিক জবাবদিহি ও স্থানীয় পর্যায়ের তদারকি: আইনটিতে স্থানীয় ওভারসিয়ারদের মাধ্যমে তহবিল গঠন ও তদারকির যে ব্যবস্থা ছিল, তা স্থানীয় সরকার কাঠামোর মাধ্যমে সুষ্ঠুভাবে সমন্বয় করে প্রকৃত দরিদ্রদের তালিকা প্রণয়ন ও ত্রাণ বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব।

    পরিশেষে বলা যায়, ১৬০১ সালের এলিজাবেথীয় দরিদ্র আইনের দরিদ্রদের শ্রেণিবিন্যাস ও পুনর্বাসনমূলক দৃষ্টিভঙ্গি আধুনিকায়ন করে প্রয়োগ করা হলে তা বাংলাদেশের টেকসই দারিদ্র্য বিমোচন ও সামগ্রিক আর্থসামাজিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন