ভূগোল ২য় পত্র • দূষণ ও দুর্যোগ • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, বরিশাল, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯

ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    দুর্যোগ কী?

    (1)
  2. খ)

    পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনা উন্নয়ন নিশ্চিত করে- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের 'ক' স্থানের পর্যায়টির গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো ।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের 'খ' স্থানের পর্যায়ের সাথে সাড়াদান' এর পার্থক্য বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দুর্যোগ হলো প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট এমন এক চরম ঘটনা, যা সমাজের স্বাভাবিক কাজকর্মকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে এবং ব্যাপক জীবন, সম্পদ ও পরিবেশের ক্ষতিসাধন করে, যা নিজস্ব সম্পদ দিয়ে মোকাবেলা করা সম্ভব হয় না।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনা হলো প্রকৃতির ক্ষতি না করে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে কোনো উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা। অনিয়ন্ত্রিত উন্নয়নের ফলে বায়ু, পানি ও মাটির দূষণ ঘটে এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হয় না। কিন্তু পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনায় প্রাকৃতিক সম্পদ সঠিকভাবে ব্যবহার করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পরিবেশের স্থায়িত্ব বজায় রাখা সম্ভব হয়। এভাবে টেকসই ও ভারসাম্যপূর্ণ ভবিষ্যৎ রচিত হয় বলেই পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনা উন্নয়ন নিশ্চিত করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে প্রদর্শিত চিত্রটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র। চক্রের প্রবাহ লক্ষ্য করলে দেখা যায়, প্রতিরোধের পর 'ক' স্থানে রয়েছে 'পূর্বপ্রস্তুতি' (Preparedness)।

    দুর্যোগ মোকাবিলার ক্ষেত্রে 'পূর্বপ্রস্তুতি' অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর গুরুত্ব নিচে আলোচনা করা হলো:
    ১. জীবন ও সম্পদের ক্ষতি হ্রাস: দুর্যোগের পূর্বাভাস পেয়ে সময়মতো নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়া এবং প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে ক্ষয়ক্ষতি সর্বনিম্ন রাখা সম্ভব হয়।
    ২. মানসিক শক্তি বৃদ্ধি: দুর্যোগ আসার আগেই জনসাধারণকে সচেতন ও প্রস্তুত করা হলে তারা ভীতিমুক্ত থাকে এবং সচেতনভাবে পরিস্থিতি সামাল দিতে পারে।
    ৩. প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি: উদ্ধারকারী দল তৈরি রাখা, পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুত রাখা এবং আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখার মাধ্যমে দুর্যোগের সময় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া যায়।
    সুতরাং, দুর্যোগের সম্ভাব্য ভয়াবহতা প্রতিরোধ ও কার্যকর সাড়া দানের জন্য পূর্বপ্রস্তুতি একটি অপরিহার্য ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রের ক্রম অনুযায়ী 'খ' স্থানের পর্যায়টি হলো 'পুনরুদ্ধার/পুনর্বাসন' (Recovery)। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়ায় 'সাড়া দান' (Response) এবং 'পুনরুদ্ধার' দুটি ভিন্ন কিন্তু পরিপূরক পর্যায়। এদের মধ্যে পার্থক্যগুলো নিম্নরূপ:

    ১. ধারণাগত পার্থক্য: সাড়া দান হলো দুর্যোগ সংঘটনের সময় বা পরপরই জীবন রক্ষার্থে গৃহীত তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ। অপরদিকে, পুনরুদ্ধার হলো দুর্যোগের পর ক্ষতিগ্রস্তদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ।
    ২. সময়সীমা: সাড়া দান স্বল্পমেয়াদি এবং তাৎক্ষণিক ঘটে থাকে। কিন্তু পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াটি মধ্যমেয়াদি থেকে দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে।
    ৩. কার্যক্রম: সাড়া দানের মূল কাজ হলো মানুষকে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর, প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান এবং জরুরি ত্রাণ সরবরাহ করা। পক্ষান্তরে, পুনরুদ্ধারের কাজ হলো বিধ্বস্ত ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ, অর্থনৈতিক পুনর্বাসন এবং জীবিকা পুনঃপ্রতিষ্ঠা।
    ৪. মূল লক্ষ্য: সাড়া দানের লক্ষ্য হলো প্রাণহানি রোধ ও তাৎক্ষণিক দুর্ভোগ কমানো; অন্যদিকে পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য সমাজকে দুর্যোগের পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং ভবিষ্যতে যেন ক্ষতি কম হয় সেই সক্ষমতা তৈরি করা।

    সুতরাং, সাড়া দান হলো আপৎকালীন ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম, আর পুনরুদ্ধার হলো একটি টেকসই অবকাঠামোগত ও আর্থ-সামাজিক পুনর্গঠন কার্যক্রম।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন