ভূগোল ২য় পত্র • বাণিজ্য • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, বরিশাল, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯

ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    বাফার রাষ্ট্র কী?

    (1)
  2. খ)

    পার্বত্য চট্টগ্রামে পরিবহন ব্যয়বহুল ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের 'খ’ চিহ্নিত স্থানে ইঙ্গিতকৃত দেশটির অবস্থানিক বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের 'ক' ও 'খ' চিহ্নিত দেশদ্বয়ের মধ্যে বাণিজ্যিক ভারসাম্যের চিত্র বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দুটি পরস্পর বিরোধী বা বৃহৎ শক্তিশালী রাষ্ট্রের মধ্যবর্তী অবস্থানে অবস্থিত নিরপেক্ষ ক্ষুদ্র রাষ্ট্রকে বাফার রাষ্ট্র (Buffer State) বলা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূপ্রকৃতি অত্যন্ত বন্ধুর, খাড়া ঢালযুক্ত ও পাহাড়ি হওয়ায় সেখানে যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং বজায় রাখা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। খাড়া পাহাড় কেটে আঁকাবাঁকা সড়ক নির্মাণ করতে হয় এবং বর্ষাকালে নিয়মিত পাহাড়ধস ও ভূমিধসের কারণে রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে সড়ক নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়। এছাড়া পাহাড়ি অঞ্চলের দূরবর্তী ও দুর্গম এলাকায় যানবাহন চলাচলে জ্বালানি খরচও অপেক্ষাকৃত বেশি হয়। এসব কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামে পরিবহন ব্যবস্থা ব্যয়বহুল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের মানচিত্রে 'খ' চিহ্নিত দেশটি হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (USA)।

    যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানিক বৈশিষ্ট্যসমূহ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
    ১. ভৌগোলিক বিস্তার: দেশটি উত্তর আমেরিকা মহাদেশের মধ্যভাগে অবস্থিত। এর উত্তরে কানাডা এবং দক্ষিণে মেক্সিকো ও মেক্সিকো উপসাগর অবস্থিত।
    ২. মহাসাগরীয় অবস্থান: দেশটির পূর্ব সীমান্তে আটলান্টিক মহাসাগর এবং পশ্চিম সীমান্তে সুবিশাল প্রশান্ত মহাসাগর অবস্থিত। ফলে দেশটি দুই দিক থেকেই সমুদ্রপথে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অপার সুবিধা ভোগ করে।
    ৩. বিচ্ছিন্ন অঞ্চল: মূল ভূখণ্ডের বাইরে উত্তর-পশ্চিমে রয়েছে বরফাবৃত আলাস্কা (যা কানাডা দ্বারা মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন) এবং প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ।
    ৪. জলবায়ু ও ভূপ্রাকৃতিক বৈচিত্র্য: নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে অবস্থানের কারণে এখানকার আবহাওয়া কৃষিকাজ ও শিল্পায়নের জন্য অত্যন্ত অনুকূল। ভৌগোলিক অবস্থানের এই কৌশলগত সুবিধার ফলেই দেশটি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে বৈশ্বিক পরাশক্তিতে পরিণত হতে পেরেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের মানচিত্রে 'ক' চিহ্নিত দেশ হলো কানাডা এবং 'খ' চিহ্নিত দেশ হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এ দুটি দেশের মধ্যকার বাণিজ্যিক ভারসাম্য অত্যন্ত সুদৃঢ় এবং বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক হিসেবে পরিচিত।

    কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্যিক ভারসাম্যের মূল চিত্র নিম্নরূপ:
    ১. ভৌগোলিক নৈকট্য ও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি: উভয়ে দীর্ঘতম উন্মুক্ত সীমান্ত ভাগাভাগি করে এবং USMCA (পূর্বের NAFTA)-এর মতো মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আওতায় শুল্কমুক্ত বা স্বল্পশুল্কে বাণিজ্য পরিচালনা করে থাকে। কানাডার প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার হলো যুক্তরাষ্ট্র।
    ২. আমদানি-রপ্তানি পণ্য: কানাডা মূলত প্রাকৃতিক সম্পদ যেমন— অপরিশোধিত খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, কাঠ ও বনজ সম্পদ, মোটরগাড়ির যন্ত্রাংশ এবং বিদ্যুৎ যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র কানাডায় উচ্চ প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক দ্রব্যাদি, উড়োজাহাজ, ইলেকট্রনিক্স ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য রপ্তানি করে থাকে।
    ৩. বাণিজ্যিক ভারসাম্য (Trade Balance): সামগ্রিক বাণিজ্যে কানাডা প্রায়শই পণ্যের ক্ষেত্রে কিছুটা অনুকূল বাণিজ্য ভারসাম্য (বাণিজ্য উদ্বৃত্ত) ভোগ করে থাকে, যার বড় অংশই হলো যুক্তরাষ্ট্রে কানাডার জ্বালানি ও তেল রপ্তানি। তবে সেবামূলক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের পাল্লা ভারী থাকে।

    পরিশেষে বলা যায়, ভৌগোলিক অবস্থান ও সম্পদের পারস্পরিক পরিপূরকতার কারণে 'ক' (কানাডা) ও 'খ' (যুক্তরাষ্ট্র) দেশের মধ্যকার বাণিজ্যিক সম্পর্ক অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিক নির্ভরশীল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন