ভূগোল ২য় পত্র • কৃষি • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, বরিশাল, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯

ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন

দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম প্রধান খাদ্যশস্য, যা প্রধানত মৌসুমি অঞ্চলের ফসল। ২০১৭ সালের হিসাব অনুযায়ী ফসলটি যে দেশটিতে সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত হয় সেই দেশটিই আবার সবচেয়ে বেশি আমদানি করে থাকে।

  1. ক)

    চা-এর আদিভূমি কোন দেশ?

    (1)
  2. খ)

    হুনান প্রদেশকে পৃথিবীর চালের আধার বলা হয়- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের ফসলটি উৎপাদনের প্রাকৃতিক নিয়ামক ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের দেশটির ইঙ্গিতকৃত ফসলটি উৎপাদন ও আমদানিতে শীর্ষ হবার কারণ বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    চা-এর আদিভূমি হলো চীন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    চীনের হুনান প্রদেশ চাল উৎপাদনে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এই প্রদেশের অনুকূল জলবায়ু, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত এবং উর্বর পলিমাটির কারণে এখানে বিপুল পরিমাণ ধান উৎপাদিত হয়, যা চীনের অভ্যন্তরীণ চাহিদার সিংহভাগ পূরণ করে। এ কারণে হুনান প্রদেশকে 'পৃথিবীর চালের আধার' বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত খাদ্যশস্যটি হলো ধান (বা চাল)। ধান উৎপাদনের প্রাকৃতিক নিয়ামকগুলো নিম্নরূপ:
    ১. ভূপ্রকৃতি: ধান চাষের জন্য সাধারণত বিস্তৃত সমতল জমি প্রয়োজন, যাতে জমিতে সহজে জল ধরে রাখা যায়। নদী উপত্যকা ও বদ্বীপ অঞ্চল ধান চাষের জন্য আদর্শ।
    ২. তাপমাত্রা: ধান মূলত ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় অঞ্চলের ফসল। এর বৃদ্ধির জন্য গড়ে ২০° থেকে ৩০° সেলসিয়াস তাপমাত্রার প্রয়োজন হয়।
    ৩. বৃষ্টিপাত ও আর্দ্রতা: ধান চাষের জন্য প্রচুর পানির প্রয়োজন। সাধারণত ১০০ থেকে ২০০ সেন্টিমিটার বার্ষিক বৃষ্টিপাত ধান চাষের জন্য উপযোগী।
    ৪. মৃত্তিকা: উর্বর দোআঁশ, পলিমাটি ও এঁটেল মাটি ধান চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী, কারণ এ জাতীয় মাটি পানি ধরে রাখতে পারে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত দেশটি হলো চীন এবং ফসলটি হলো ধান/চাল। চীনের উৎপাদন ও আমদানিতে শীর্ষ হওয়ার কারণগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
    উৎপাদনে শীর্ষ হওয়ার কারণ:
    ১. প্রাকৃতিক সুবিধা: চীনের দক্ষিণাঞ্চল ও নদী উপত্যকাগুলোতে (যেমন- ইয়াংসিকিয়াং অববাহিকা) পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত, দীর্ঘ উষ্ণ গ্রীষ্মকাল এবং উর্বর পলিযুক্ত মাটি ধান চাষের জন্য অত্যন্ত অনুকূল।
    ২. আধুনিক প্রযুক্তি ও উচ্চফলনশীল জাত: চীন উচ্চফলনশীল ও সংকর (হাইব্রিড) জাতের ধানের উদ্ভাবন এবং আধুনিক সেচ ও কৃষি প্রযুক্তির ব্যাপক প্রয়োগের মাধ্যমে হেক্টর প্রতি ফলন বহুগুণ বৃদ্ধি করেছে।
    আমদানিতে শীর্ষ হওয়ার কারণ:
    ১. বিপুল জনসংখ্যা: চীন বিশ্বের অন্যতম জনবহুল দেশ। দেশটির প্রধান খাদ্য চাল হওয়ায় প্রতিদিনের অভ্যন্তরীণ খাদ্যচাহিদা অত্যন্ত বিশাল।
    ২. মজুত ও অর্থনৈতিক রূপান্তর: বিপুল জনসংখ্যার খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশটির সরকারকে প্রচুর খাদ্যশস্য মজুত রাখতে হয়। পাশাপাশি শিল্পায়ন ও নগরায়ণের ফলে আবাদি জমির পরিমাণ কিছুটা কমে যাওয়ায় দেশীয় উৎপাদনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কম মূল্যে চাল আমদানি করতে হয়।
    সুতরাং, অভ্যন্তরীণ প্রাকৃতিক ও প্রযুক্তিগত সমৃদ্ধির কারণে চীন উৎপাদনে শীর্ষে অবস্থান করলেও বিপুল অভ্যন্তরীণ চাহিদার কারণে আমদানিতেও শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন