ভূগোল ২য় পত্র • জনসংখ্যা • Combined Board • ঢাকা, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩
ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন
রাজিব ছয় সদস্যের পরিবার নিয়ে পদ্মার পাড়ের একটি গ্রামে বসবাস করতেন। পারিবারিক অসচ্ছলতার কথা চিন্তা করে তিনি বসত বাড়ি ছাড়া বাকি সামান্য জমিটুকু বিক্রয় করে বড় ছেলে রজবকে চাকরির জন্য সৌদি আরব পাঠিয়ে দেন। বিদেশ থেকে পাঠানো টাকায় তাদের সংসার ভালোই চলছিল। কয়েক বছর পর নদীভাঙনে ভিটে মাটি হারিয়ে তিনি পরিবারসহ ঢাকা শহরে এসে বসবাস শুরু করেন।
- ক)(1)
আন্তর্জাতিক অভিগমন কাকে বলে?
- খ)(2)
শক্তি সম্পদের সহজপ্রাপ্যতা শিল্প স্থাপনে সহায়ক- ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
দেশের অর্থনীতিতে উদ্দীপকে উল্লিখিত রজবের অভিগমনের প্রভাব ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত অভিগমনন্বয়ের ধরন বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নিজ দেশের ভৌগোলিক সীমারেখা অতিক্রম করে স্থায়ী বা অস্থায়ীভাবে বসবাসের উদ্দেশ্যে অন্য কোনো স্বাধীন দেশে গমন করাকে আন্তর্জাতিক অভিগমন বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শিল্পকারখানার প্রধান চালিকাশক্তি হলো জ্বালানি বা শক্তি সম্পদ। যেকোনো শিল্প পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সচল রাখতে বিদ্যুৎ, কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস বা খনিজ তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ অপরিহার্য। যেসব অঞ্চলে এসব শক্তি সম্পদ সহজে ও সুলভ মূল্যে পাওয়া যায়, সেখানে শিল্প স্থাপন করলে উৎপাদন ব্যয় অনেকাংশে হ্রাস পায় এবং উৎপাদন প্রক্রিয়া নিরবচ্ছিন্ন থাকে। তাই শক্তি সম্পদের সহজপ্রাপ্যতা শিল্প কারখানা স্থাপনের জন্য অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত রজবের সৌদি আরব গমন হলো আন্তর্জাতিক বা বহির্মুখী অভিগমন, যা দেশের অর্থনীতিতে অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
রজব বিদেশে চাকরি করে দেশে নিয়মিত অর্থ (রেমিট্যান্স) পাঠায়, যার মাধ্যমে তার পরিবারের সচ্ছলতা ফিরে আসে। জাতীয় অর্থনীতিতে এই রেমিট্যান্সের প্রভাব অপরিসীম:
১. বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি: প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার তহবিলকে শক্তিশালী করে।
২. জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন: রেমিট্যান্সের ফলে অভিবাসী পরিবারের খাদ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা ও জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়, যা অভ্যন্তরীণ বাজারে পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি করে।
৩. অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা ও বিনিয়োগ: প্রবাসীদের আয় দেশের আমদানি ব্যয় মেটাতে এবং নতুন নতুন ব্যবসা ও অবকাঠামোগত খাতে মূলধন জোগাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায় এবং সার্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে দুই ধরনের অভিগমনের চিত্র ফুটে উঠেছে—একটি আন্তর্জাতিক অভিগমন এবং অপরটি অভ্যন্তরীণ অভিগমন। নিচে এদের ধরন বিশ্লেষণ করা হলো:
১. রজবের আন্তর্জাতিক অভিগমন (বহির্গমন):
রজব পারিবারিক অসচ্ছলতা দূর করতে নিজ দেশের সীমানা পেরিয়ে সৌদি আরবে চাকরি নিয়ে গমন করে। এটি একটি আন্তর্জাতিক বা বহির্মুখী স্বেচ্ছাপ্রণোদিত অভিগমন। এর মূল চালিকাশক্তি ছিল অর্থনৈতিক সুবিধা লাভ বা উন্নত আয়ের আশা (আকর্ষক উপাদান)। এ ধরনের অভিগমনে ব্যক্তি দেশের বাইরে চলে যায় এবং তার উপার্জিত অর্থ দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।২. রাজিবের অভ্যন্তরীণ অভিগমন:
নদীভাঙনের ফলে ভিটেমাটি হারিয়ে রাজিব তাঁর পরিবারসহ গ্রাম ছেড়ে দেশের ভেতরেই ঢাকা শহরে চলে আসেন। এটি হলো গ্রাম থেকে শহরে অভ্যন্তরীণ বা বাধ্যতামূলক অভিগমন। এর মূল কারণ ছিল প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও বাস্তুচ্যুতি (বিকর্ষক উপাদান)। এখানে নিজ দেশের ভৌগোলিক সীমানা লঙ্ঘিত হয়নি, তবে এর ফলে বড় বড় শহরগুলোতে জনসংখ্যার চাপ, বস্তি সমস্যা ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়।অতএব, উদ্দীপকে রজবের অভিগমনটি অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আন্তর্জাতিক অভিগমন এবং রাজিবের পরিবারের অভিগমনটি প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত অভ্যন্তরীণ অভিগমনের দৃষ্টান্ত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও