জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
মেসোজোম কী?
- খ)(2)
Plasmodium এর জীবনচক্রে জনুঃক্রম কেন গুরুত্বপূর্ণ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে 'A' চিত্রের 'P' অংশটির রাসায়নিক পদার্থের গঠন বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের 'B', 'A' দ্বারা আক্রান্ত হলে ধ্বংস হতে পারে আবার নাও হতে পারে- বিশ্লেষণ করো ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্যাকটেরিয়ার প্লাজমামেমব্রেন ভেতরের দিকে ভাঁজ হয়ে যে থলি বা নালীসদৃশ অঙ্গাণু সৃষ্টি করে, তাকে মেসোজোম বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
Plasmodium-এর জীবনচক্রে হ্যাপ্লয়েড () ও ডিপ্লয়েড () দশার পর্যায়ক্রমিক আবর্তন ঘটে, যা জনুঃক্রম নামে পরিচিত। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ:
১. জিনগত বৈচিত্র্য সৃষ্টি: যৌন জনু (মশকীর দেহে) চলাকালে মিয়োসিস বিভাজন ও গ্যামেট মিলনের ফলে জীবে নতুন বৈশিষ্ট্যের সমন্বয় ঘটে, যা প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকতে সাহায্য করে।
২. সংখ্যাবৃদ্ধি ও বিস্তার: অযৌন জনুর (মানবদেহে) মাধ্যমে পরজীবীটি দ্রুত অসংখ্য অপত্য তৈরি করে সংখ্যাবৃদ্ধি করে এবং যৌন জনুর মাধ্যমে এক পোষক থেকে অন্য পোষকে সফলভাবে রোগ বিস্তার করে প্রজাতির ধারাবাহিকতা রক্ষা করে। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে চিত্র 'A' হলো ব্যাকটেরিওফায (ভাইরাস) এবং এর 'P' চিহ্নিত অংশটি হলো প্রোটিন নির্মিত বহিরাবরণ বা 'ক্যাপসিড'। সুতরাং, 'P' অংশটির রাসায়নিক পদার্থ হলো প্রোটিন।
প্রোটিনের রাসায়নিক গঠন:
১. প্রোটিন হলো অ্যামাইনো এসিডের পলিমার। পেপটাইড বন্ধন (-CO-NH-) দ্বারা একের পর এক অ্যামাইনো এসিড যুক্ত হয়ে পলিপেপটাইড চেইন তৈরি করে।
২. ভাইরাসটির ক্যাপসিড অসংখ্য ক্ষুদ্র প্রোটিন সাব-ইউনিট দিয়ে গঠিত, যাদের ক্যাপসোমিয়ার (Capsomere) বলে।
৩. প্রতিটি ক্যাপসোমিয়ার নির্দিষ্ট সংখ্যক ও নির্দিষ্ট ক্রমে সজ্জিত অ্যামাইনো এসিডের সমন্বয়ে তৈরি। অ্যামাইনো এসিডে সাধারণত একটি অ্যামিনো মূলক (), একটি কার্বক্সিল মূলক (), একটি হাইড্রোজেন () এবং একটি পার্শ্ব-শিকল ( গ্রুপ) থাকে।
৪. এই প্রোটিন আবরণীতে কোনো লিপিড বা কার্বোহাইড্রেট থাকে না; এটি মূলত সরল প্রোটিন দিয়ে গঠিত যা ভাইরাসের ভেতরের নিউক্লিক এসিডকে (DNA) বাহ্যিক পরিবেশ থেকে সুরক্ষা প্রদান করে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্র 'A' হলো ব্যাকটিরিওফায ভাইরাস এবং চিত্র 'B' হলো একটি ব্যাকটিরিয়াম। ব্যাকটিরিওফায দ্বারা ব্যাকটিরিয়া আক্রান্ত হলে ব্যাকটিরিয়াটি ধ্বংস হতে পারে (লাইটিক চক্রের মাধ্যমে) আবার ধ্বংস নাও হতে পারে (লাইসোজেনিক চক্রের মাধ্যমে)। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. ব্যাকটিরিয়া ধ্বংস হওয়া (লাইটিক চক্র):
যখন ব্যাকটিরিওফায তার ডিএনএ ব্যাকটিরিয়া কোষে প্রবেশ করায় এবং ব্যাকটিরিয়ার জিনোমকে অকার্যকর করে সম্পূর্ণ কোষীয় বিপাক নিজের নিয়ন্ত্রণে নেয়, তখন নতুন নতুন ফায উপাদান ও অপত্য ভাইরাস গঠিত হয়। শেষে লাইসোজাইম এনজাইমের ক্ষরণে পোষক ব্যাকটিরিয়ার প্রাচীর বিদীর্ণ বা ফেটে গিয়ে ধ্বংস হয়ে যায় (লাইসিস ঘটে) এবং নতুন ভাইরাসগুলো মুক্ত হয়। এ প্রক্রিয়ায় ব্যাকটিরিয়া ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।২. ব্যাকটিরিয়া ধ্বংস না হওয়া (লাইসোজেনিক চক্র):
অনেক ক্ষেত্রে ভাইরাসের ডিএনএ ব্যাকটিরিয়ার কোষে প্রবেশের পর পোষক ব্যাকটিরিয়াকে ধ্বংস করে না। বরং ভাইরাসের ডিএনএ পোষক ব্যাকটিরিয়ার বৃত্তাকার ডিএনএ-এর একটি নির্দিষ্ট স্থানে সংযুক্ত হয়ে 'প্রোফায' হিসেবে অবস্থান করে। ব্যাকটিরিয়াটি স্বাভাবিকভাবে জীবিত থাকে এবং দ্বি-ভাজন প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হওয়ার সাথে সাথে প্রোফায ডিএনএ-ও প্রতিলিপিত হয়। ফলে ব্যাকটিরিয়াটি ধ্বংস না হয়ে স্বাভাবিক বংশবৃদ্ধি বজায় রাখে।অতএব, ব্যাকটিরিয়া ব্যাকটিরিওফায দ্বারা আক্রান্ত হলে তা লাইটিক চক্র ঘটলে ধ্বংস হয়, কিন্তু লাইসোজেনিক চক্র ঘটলে ধ্বংস না হয়ে বেঁচে থাকে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও