সমাজকর্ম ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮
সমাজকর্ম ২য় পত্র প্রশ্ন
অর্কের বয়স ১৫ বছর। সে যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনায় অপরাধী। একটি বিশেষ আদালতে তাকে হাজির করা হলে আদালত শর্তসাপেক্ষে তাকে মুক্তি দিল।
- ক)(1)
গ্রামীণ সমাজসেবা (RSS) এর কার্যক্রম কোন মন্ত্রণালয়ের। অধীন?
- খ)(2)
শহর সমাজসেবা (USS) বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত বিশেষ আদালত কেন অর্ককে মুক্তি দিল? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
'শাস্তি নয়, সংশোধনই ইঙ্গিতকৃত বিশেষ আদালতের মূল। দর্শন।'- পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
গ্রামীণ সমাজসেবা (RSS) এর কার্যক্রম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের 'সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়'-এর অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শহর সমাজসেবা (Urban Social Service - USS) বলতে দ্রুত নগরায়ণের ফলে উদ্ভূত জটিল সমস্যা মোকাবিলায় শহরের দরিদ্র, বস্তিবাসী ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে পরিচালিত পেশাদার সেবামূলক কর্মসূচিকে বোঝায়। এ কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হলো শহরের সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, ক্ষুদ্রঋণ, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ এবং সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তাদের আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলা।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত বিশেষ আদালতটি হলো 'কিশোর আদালত' (Juvenile Court) এবং আদালতটি অর্ককে প্রবেশন আইনের আওতায় শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দিয়েছে।
কিশোর আদালতের মূল লক্ষ্য অপ্রাপ্তবয়স্ক অপরাধীদের প্রচলিত ফৌজদারি আদালতে সাধারণ দাগী অপরাধীদের মতো শাস্তি না দিয়ে তাদের সংশোধন ও পুনর্বাসনের সুযোগ প্রদান করা। বাংলাদেশে শিশু আইন অনুযায়ী ১৮ বছর বা তার কম বয়সী কোনো কিশোর অপরাধে জড়ালে তাকে কিশোর আদালতে বিবেচনা করা হয়।
উদ্দীপকে অর্কের বয়স ১৫ বছর, অর্থাৎ সে অপ্রাপ্তবয়স্ক বা কিশোর। সে যানবাহন ভাঙচুরের অপরাধে জড়ালেও কিশোর আদালত তাকে সাজা দিয়ে সাধারণ কারাগারে না পাঠিয়ে সমাজে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সুযোগ দিতে প্রবেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে বা সংশোধনমূলক শর্তে মুক্তি দিয়েছে, যাতে সে একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'শাস্তি নয়, সংশোধনই ইঙ্গিতকৃত বিশেষ আদালতের মূল দর্শন'- উক্তিটি কিশোর আদালতের সার্বিক দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত।
সাধারণ আদালতের লক্ষ্য অপরাধীকে শাস্তি দিয়ে আইনের শাসন কায়েম করা। কিন্তু কিশোরদের মন কোমল এবং তারা প্রায়ই প্রতিকূল পরিবেশ, প্ররোচনা, কৌতূহল বা আবেগের বশে অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। তাই কিশোর আদালত তাদের অপরাধী হিসেবে নয়, বরং পথভ্রষ্ট ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করে। কিশোর আদালতের বিচার পদ্ধতির প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো:
১. অনানুষ্ঠানিক পরিবেশ: এই আদালতের কার্যক্রম কোনো আনুষ্ঠানিক কাঠগড়ায় পরিচালিত হয় না; বরং একটি সহানুভূতিশীল ও ঘরোয়া পরিবেশে শিশুর ভুল শুধরে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
২. প্রবেশন অফিসারের ভূমিকা: প্রবেশন অফিসার কিশোরের পারিবারিক, সামাজিক ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা তদন্ত করে আদালতে রিপোর্ট পেশ করেন এবং সংশোধনমূলক পরামর্শ দেন।
৩. সংশোধন ও পুনর্বাসন: দাগী অপরাধীদের সংস্পর্শ এড়িয়ে কিশোরদের সংশোধন ও উন্নয়নের লক্ষ্যে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্র বা পরিবারের নিয়ন্ত্রণে রেখে প্রবেশনে দেওয়া হয়।
উদ্দীপকে অর্ককে শাস্তি না দিয়ে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্তটি প্রমাণ করে যে, আদালত তাকে শাস্তি দিয়ে অপরাধী বানাতে চায় না, বরং নিজের আচরণ শুধরে নেওয়ার সুযোগ দিয়ে সমাজের মূলধারায় পুনর্বাসন করতে চায়। তাই বলা যায়, কিশোর আদালতের মূল দর্শন শাস্তিমূলক নয়, বরং সংশোধনার্থক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও