যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩

যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    শব্দগত অর্থে ব্যাখ্যা কী?

    (1)
  2. খ)

    মিশ্র কার্য হলো পৃথকীকরণের একত্রিত ফল- ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-১-এ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার কোন রূপটি প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-২-এ প্রতিফলিত বিষয়টি পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ইংরেজি 'Explanation' শব্দটি ল্যাটিন শব্দ 'Explanare' থেকে এসেছে, যার ব্যুৎপত্তিগত বা শব্দগত অর্থ হলো কোনো দুর্বোধ্য বা জটিল বিষয়কে সহজ, স্পষ্ট ও বোধগম্য করে তোলা।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যুক্তিবিদ্যায় একাধিক কারণের পারস্পরিক ক্রিয়ার ফলে যে একটি যৌথ কার্য সৃষ্টি হয়, তাকে মিশ্র কার্য বলে। এই মিশ্র কার্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি কারণের নিজস্ব প্রভাব বা কার্য সম্মিলিত অবস্থায় বিদ্যমান থাকে। যান্ত্রিক মিশ্র কার্যের ক্ষেত্রে সম্মিলিত কার্যটি পৃথক পৃথক কারণগুলোর কার্যের যোগফলের সমান হয়। তাই পৃথক কারণসমূহের ফল একত্রে মিলিত হয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ যৌথ কার্যে রূপ নেয় বলে মিশ্র কার্যকে পৃথকীকরণের একত্রিত ফল বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-১-এ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার 'শৃঙ্খলযোজন' (সংযোজন বা মধ্যবর্তী স্তর উন্মোচন) রূপটি প্রতিফলিত হয়েছে।

    যুক্তিবিদ্যায় কোনো একটি কার্য এবং তার একটি দূরবর্তী কারণের মধ্যকার ধারাবাহিক মধ্যবর্তী স্তর বা ধাপগুলোকে আবিষ্কার ও প্রকাশ করে তাদের মধ্যকার সম্পর্ক স্পষ্ট করার প্রক্রিয়াকে শৃঙ্খলযোজন বা মধ্যবর্তী স্তর প্রদর্শন বলে। মিল-এর মতে, দুটি ঘটনার মধ্যে কার্যকারণ সম্পর্ক সরাসরি বোঝা না গেলে এদের মধ্যবর্তী স্তরগুলো উন্মোচন করে ব্যাখ্যা করা হয়।

    উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১-এ 'কলেজে ভর্তি হওয়া' হলো প্রাথমিক বা দূরবর্তী কারণ এবং 'GPA 5.00' হলো চূড়ান্ত কার্য। কিন্তু শুধুমাত্র কলেজে ভর্তি হলেই GPA 5.00 পাওয়া যায় না; এর মাঝে 'নিয়মিত পড়াশোনা' নামক একটি অপরিহার্য মধ্যবর্তী স্তর রয়েছে। মধ্যবর্তী এই স্তরটি প্রদর্শন করার মাধ্যমে কারণ ও কার্যের সম্পর্কটি স্পষ্ট ও যুক্তিযুক্তভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। সুতরাং, এটি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার শৃঙ্খলযোজন প্রক্রিয়ারই প্রতিফলন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-২-এ প্রতিফলিত বিষয়গুলো হলো 'ব্যাখ্যার সীমাবদ্ধতা'। পাঠ্যপুস্তকের যুক্তিবিদ্যা অংশের আলোকে এটি নিম্নে বিশ্লেষণ করা হলো:

    সব বিষয় বা ঘটনার ব্যাখ্যা প্রদান করা সম্ভব নয়; বৈজ্ঞানিক ও লৌকিক উভয় প্রকার ব্যাখ্যারই কিছু নিজস্ব সীমাবদ্ধতা রয়েছে। দৃশ্যকল্প-২-এ উল্লিখিত বিষয়গুলো মূলত সেই সীমাবদ্ধতার প্রধান দিকগুলো নির্দেশ করে:

    ১. সৃষ্টিকর্তা বা পরমসত্তা: সৃষ্টিকর্তা, ঈশ্বর বা আত্মা এমন কিছু অতিপ্রাকৃতিক ধারণা যা কার্যকারণ নিয়মের বাইরে এবং ইন্দ্রিয়ানুভূতির অতীত। এদের কোনো বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ বা পরীক্ষণ সম্ভব নয়। তাই সৃষ্টিকর্তার কার্য বা সত্তাকে ব্যাখ্যার আওতাভুক্ত করা যায় না।

    ২. বিশিষ্ট ব্যক্তির নিজস্ব বৈশিষ্ট্য: প্রতিটি অনন্য বা বিশিষ্ট ব্যক্তির যে অনন্য নিজস্ব বৈশিষ্ট্য (Unique qualities) থাকে, তা অন্য কোনো সাধারণ নিয়মের অধীনে এনে ব্যাখ্যা করা যায় না। কারণ ব্যাখ্যা সাধারণ নিয়ম বা শ্রেণির অন্তর্ভুক্তির ওপর নির্ভরশীল।

    ৩. মুখ্য গুণ বা জড়বস্তুর মৌলিক রূপ: বস্তুর প্রাথমিক বা মুখ্য গুণ (যেমন- বিস্তৃতি, আকার, রূপ ইত্যাদি) এবং মৌলিক অনুভূতিগুলো (যেমন- ব্যথাবোধ, মিষ্টতা ইত্যাদি) এমন মৌলিক প্রত্যয়, যাদের কোনো নিম্নতর স্তরে বিশ্লেষণ করা যায় না। এদের অন্য কোনো অধিকতর ব্যাপক নিয়মের অধীনে এনে ব্যাখ্যা করা অসম্ভব।

    সুতরাং, দৃশ্যকল্প-২-এ নির্দেশিত বিষয়গুলো প্রমাণ করে যে প্রকৃতিতে এমন কিছু মৌলিক ও পরম বিষয় রয়েছে, যাদের বৈজ্ঞানিক বা লৌকিক কোনো রূপেই ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়, যা যুক্তিবিদ্যায় ব্যাখ্যার সীমাবদ্ধতা হিসেবে স্বীকৃত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন