ইতিহাস ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৫
ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন
ষোড়শ শতাব্দীতে সংঘটিত ত্রিশ বর্ষব্যাপী যুদ্ধে ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ জড়িয়ে পড়ে। রক্তক্ষয়ী এ যুদ্ধে ব্যাপক প্রাণহানী ও সম্পদহানী ঘটে। বহুলোক পঙ্গুত্ব বরণ করে, অনেক শহর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। যুদ্ধ পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রমও অত্যন্ত ব্যয়বহুল। কোনো কোনো দেশ পুনর্বাসনের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার চেষ্টা করে ।
- ক)(1)
ভার্সাই চুক্তি কখন স্বাক্ষরিত হয়?
- খ)(2)
ত্রিশক্তি আতাঁত কেন গড়ে ওঠে?
- গ)(3)
উদ্দীপকের যুদ্ধের সাথে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির কী সাদৃশ্য রয়েছে? বর্ণনা কর ।
- ঘ)(4)
প্রথম বিশ্বযুদ্ধকে কেন্দ্র করে অর্থনৈতিক সুবিধা আদায়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা মূল্যায়ন কর ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভার্সাই চুক্তি ১৯১৯ সালের ২৮ জুন স্বাক্ষরিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জার্মানির ক্রমবর্ধমান সামরিক শক্তি ও আধিপত্য বিস্তার রোধ করে ইউরোপে শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখার উদ্দেশ্যে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও রাশিয়ার যৌথ সহযোগিতায় ১৯০৭ সালে 'ত্রিশক্তি আঁতাত' (Triple Entente) গড়ে ওঠে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত ত্রিশ বর্ষব্যাপী যুদ্ধের মতো প্রথম বিশ্বযুদ্ধেও (১৯১৪-১৯১৮) অভূতপূর্ব মাত্রায় ব্যাপক প্রাণহানি, পঙ্গুত্ব এবং মানবসভ্যতার বিপুল সম্পদের ধ্বংসযজ্ঞের সাদৃশ্য দেখতে পাওয়া যায়।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে আধুনিক মারণাস্ত্র যেমন মেশিনগান, ট্যাংক, বিষাক্ত গ্যাস ও বিমানের ব্যবহারের ফলে প্রায় দুই কোটি সামরিক ও বেসামরিক মানুষ নিহত হন এবং দুই কোটিরও বেশি মানুষ গুরুতর আহত ও চিরতরে পঙ্গু হন। উদ্দীপকে উল্লেখিত ধ্বংসস্তূপের মতোই যুদ্ধের প্রধান রণক্ষেত্র ইউরোপের বিস্তীর্ণ অঞ্চল, বিশেষ করে ফ্রান্স, বেলজিয়াম ও পূর্ব ইউরোপের শহর, সেতু, কারখানা ও কৃষিজমি সম্পূর্ণ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউরোপজুড়ে তীব্র অর্থনৈতিক মন্দা, দুর্ভিক্ষ, মুদ্রাস্ফীতি এবং দারিদ্র্য নেমে আসে। ফলে যুদ্ধোত্তর পুনর্বাসন ও পুনর্গঠন কার্যক্রম ছিল অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও দীর্ঘমেয়াদি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রথম বিশ্বযুদ্ধকে কেন্দ্র করে নিজেদের অর্থনৈতিক অবস্থান সংহতকরণ এবং বৈশ্বিক পরাশক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত কৌশলগত ও লাভজনক।
প্রথমত, যুদ্ধের সূচনালগ্নে (১৯১৪-১৯১৭) যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে নিরপেক্ষ নীতি বজায় রাখে। এ সময় তারা যুদ্ধরত ইউরোপীয় মিত্রশক্তিগুলোর (যেমন- ব্রিটেন ও ফ্রান্স) নিকট বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্য, যুদ্ধাস্ত্র ও শিল্পপণ্য রপ্তানি করে প্রচুর মুনাফা অর্জন করে। উদ্দীপকে যেমন বলা হয়েছে যুদ্ধ ও পুনর্বাসনের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কোনো কোনো দেশ অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হয়, যুক্তরাষ্ট্র ঠিক তাই করেছিল।
দ্বিতীয়ত, যুদ্ধের ব্যয়ভার মেটাতে ইউরোপীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংক ও অর্থলগ্নি প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ গ্রহণ করে। এর ফলে বিশ্ব অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু লন্ডন থেকে নিউইয়র্কের ওয়াল স্ট্রিটে স্থানান্তরিত হয় এবং ইউরোপের ঋণদাতা থেকে যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক ঋণদাতা দেশে রূপান্তরিত হয়।
তৃতীয়ত, যুদ্ধোত্তর ইউরোপের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও ক্ষয়ক্ষতি পুনর্গঠনে যুক্তরাষ্ট্র বিপুল অঙ্কের বিনিয়োগ করে এবং নিজস্ব অর্থনৈতিক আধিপত্য বজায় রাখে।
সুতরাং, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞ যখন ইউরোপীয় দেশগুলোকে দেউলিয়া করে তুলেছিল, তখন সুযোগসন্ধানী অর্থনৈতিক নীতি প্রয়োগ করে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের শীর্ষ অর্থনৈতিক পরাশক্তিতে পরিণত হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও