যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭
যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন
তিন বন্ধুর আলোচনায় সুমন বলল, “আমাদের ফুলের বাগান লাল, হলুদ, বেগুনী ও নীল রংয়ের ফুলে ভরপুর।” সুজন বলল, “মানুষই ফুলের বাগানের পরিচর্যা করে ও অন্যান্য পশুপাখির হাত থেকে রক্ষা করে । কলম কেটে ফুলের জাতগুলো উন্নতও করে। কারণ মানুষের মধ্যে বিশেষ ক্ষমতা আছে।” সফিক বলল, “এই মানুষই তাদের উদারতা ও মমতা দিয়ে বিভিন্ন পশুপাখি প্রতিপালন করে।”
- ক)(1)
বিধেয়ক কী?
- খ)(2)
কোন ধরনের যুক্তিবাক্যে বিধেয়ক থাকে না? ব্যাখ্যা কর ।
- গ)(3)
উদ্দীপকে সুমনের বক্তব্যে কোন ধরনের বিধেয়ককে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
বিধেয়কের আলোকে সুজন ও সফিকের বক্তব্যের তুলনামূলক আলোচনা কর ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো সদর্থক সাধারণ যুক্তিবাক্যে উদ্দেশ্য ও বিধেয়ের মধ্যে যে যুক্তিযুক্ত সম্বন্ধ বিরাজ করে, তাকে বিধেয়ক বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নঞর্থক যুক্তিবাক্য এবং বিশিষ্ট উদ্দেশ্যযুক্ত যুক্তিবাক্যে কোনো বিধেয়ক থাকে না।
বিধেয়ক হলো উদ্দেশ্য ও বিধেয়ের মধ্যকার এমন সম্বন্ধ যা কেবল তখনই সম্ভব যখন বিধেয় উদ্দেশ্য সম্পর্কে কোনো গুণ বা ধর্ম স্বীকার করে নেয়। নঞর্থক যুক্তিবাক্যে বিধেয় পদ উদ্দেশ্য পদ সম্পর্কে কোনো সম্পর্ক স্বীকার না করে সম্পূর্ণ অস্বীকার বা বিচ্ছিন্ন করে দেয়, তাই সেখানে বিধেয়ক সম্পর্ক গঠিত হয় না। এছাড়া উদ্দেশ্য পদ বিশিষ্ট বা একক নাম হলে বিধেয়কের শ্রেণিভুক্ত সম্বন্ধ নির্ধারণ করা যায় না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে সুমনের বক্তব্যে বিধেয়কের 'বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ' (Separable Accident) নির্দেশ করে।
যে গুণ কোনো পদের মূল জাত্যর্থের অংশ নয় এবং জাত্যর্থ থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃতও হয় না, বরং বস্তুর মধ্যে কখনো উপস্থিত থাকতে পারে আবার নাও থাকতে পারে, তাকে অবান্তর লক্ষণ বলে। আর যে অবান্তর লক্ষণ কোনো বস্তু থেকে আলাদা বা পরিবর্তিত হতে পারে, তাকে বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ বলে।
উদ্দীপকে সুমন বলেছে, "আমাদের ফুলের বাগান লাল, হলুদ, বেগুনী ও নীল রংয়ের ফুলে ভরপুর।" ফুলের ক্ষেত্রে এই বিভিন্ন রঙ কোনো জাত্যর্থ নয় এবং ফুলের অস্তিত্বের জন্য এটি অপরিহার্যও নয়। ফুল লাল বা হলুদ ছাড়াও সাদা হতে পারে বা রঙ পরিবর্তিত হতে পারে। সুতরাং, ফুলের রঙের এই পরিবর্তনশীল বৈশিষ্ট্যটি বিধেয়ক হিসেবে বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণকে নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিধেয়কের দৃষ্টিকোণ থেকে সুজন ও সফিকের বক্তব্য যথাক্রমে 'উপলক্ষণ' এবং 'অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ' নির্দেশ করে।
সুজন বলেছে, "মানুষই ফুলের বাগানের পরিচর্যা করে... কারণ মানুষের মধ্যে বিশেষ ক্ষমতা আছে।" মানুষের এই বিশেষ বুদ্ধিমত্তা বা ক্ষমতা হলো মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিরই একটি ফল। যে গুণ কোনো পদের জাত্যর্থ নয় কিন্তু জাত্যর্থ (যেমন: বুদ্ধিবৃত্তি) থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয়, তাকে 'উপলক্ষণ' বলে। মানুষের পরিচর্যা করা বা কলম তৈরি করে জাত উন্নত করার ক্ষমতা তার মূল জাত্যর্থ (জীববৃত্তি ও বুদ্ধিবৃত্তি) থেকে নিঃসৃত একটি গৌণ গুণ। ফলে সুজনের বক্তব্যটি মানুষের উপলক্ষণকে প্রকাশ করে।
অন্যদিকে, সফিক বলেছে, "এই মানুষই তাদের উদারতা ও মমতা দিয়ে বিভিন্ন পশুপাখি প্রতিপালন করে।" উদারতা ও মমতা সকল মানুষের মধ্যে সমানভাবে থাকে না এবং এটি মানুষের আবশ্যিক জাত্যর্থ বা তার থেকে সরাসরি নিঃসৃত উপলক্ষণও নয়। তবে ব্যক্তির নির্দিষ্ট মানসিক স্বভাব বা অর্জিত বৈশিষ্ট্য হিসেবে এটি একটি অবান্তর লক্ষণ। যেহেতু মানুষের সহমর্মিতা বা মমতাবোধ কোনো কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে একটি স্থায়ী ব্যক্তিগত স্বভাব, তাই এটি মানুষের 'অবান্তর লক্ষণ' (ব্যক্তিগত বিচ্ছেদ্য বা অবিচ্ছেদ্য রূপ)।
তুলনামূলকভাবে বলা যায়, সুজনের বক্তব্যে প্রকাশিত গুণটি মানুষের জাত্যর্থ থেকে যুক্তিযুক্তভাবে উদ্ভূত হওয়ায় তা উপলক্ষণের দৃষ্টান্ত, আর সফিকের বক্তব্যে বর্ণিত গুণটি সহজাত বা অর্জিত একটি অতিরিক্ত বৈশিষ্ট্য হওয়ায় তা অবান্তর লক্ষণের প্রতিফলন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও