পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
জনাব 'A' আইনসভার আস্থা অর্জন করলে রাষ্ট্রপ্রধান তাকে সরকার প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেন। 'A' তাঁর আস্থাভাজনদের মন্ত্রিপরিষদে নিয়োগ দিয়ে কেবিনেট গঠন করেন। 'A' এর সরকারকে আইনসভায় জবাবদিহি করতে হয়। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই আইনসভার আস্থা ভোটে পরাজিত হয়ে 'A' এর সরকারের পতন ঘটে। অন্যদিকে জনাব 'B' গত নির্বাচনে একটি রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে নির্বাচিত হন। তিনি তাঁর কালে সহায়তার জন্য আজ্ঞাবহ লোকদের মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন যারা তাদের কাজের জন্য জনাব 'B' এর কাজে জবাবদিহিতা করেন।
- ক)(1)
কোন প্রতিষ্ঠান সর্বপ্রথম 'সুশাসন' প্রত্যয়টি ব্যবহার করেন?
- খ)(2)
সামাজিক ন্যায়বিচার বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
জনাব 'A' এর রাষ্ট্রে কোন ধরনের 'সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত দুটি সরকার ব্যবস্থার মধ্যে তুমি কোনটিকে উত্তম বলে মনে কর? যুক্তি দাও। 8
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিশ্বব্যাংক (World Bank) ১৯৮৯ সালে সর্বপ্রথম 'সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সামাজিক ন্যায়বিচার বলতে সমাজে বসবাসকারী প্রত্যেক নাগরিকের জন্য জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ বা শ্রেণি নির্বিশেষে সমান সুযোগ-সুবিধা, সামাজিক অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করাকে বোঝায়। এটি সমাজের দুর্বল ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অধিকার সংরক্ষণ করে এবং সব ধরনের বৈষম্য, শোষণ ও বঞ্চনা দূর করে একটি সাম্যভিত্তিক মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জনাব 'A'-এর রাষ্ট্রে 'সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার' (Parliamentary Form of Government) ব্যবস্থা বিদ্যমান।
সংসদীয় সরকারব্যবস্থা এমন একটি শাসনব্যবস্থা, যেখানে প্রকৃত শাসনক্ষমতা একটি মন্ত্রিপরিষদের হাতে ন্যস্ত থাকে এবং সরকার প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী আইনসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের আস্থাভাজন হন। এ ব্যবস্থায় শাসন বিভাগ তাদের যাবতীয় কাজের জন্য আইনসভার কাছে দায়ী বা জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকে। আইনসভার আস্থা হারালে সরকারের পতন ঘটে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব 'A' আইনসভার আস্থা অর্জন করায় সরকার প্রধান নিযুক্ত হন এবং তিনি তাঁর আস্থাভাজনদের নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করেন। তাঁর সরকারকে আইনসভায় জবাবদিহি করতে হয় এবং মেয়াদ শেষের পূর্বেই অনাস্থা ভোটে তাঁর সরকারের পতন ঘটে। এই বৈশিষ্ট্যগুলো সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার ব্যবস্থার মূল প্রতিচ্ছবি। অতএব, জনাব 'A'-এর রাষ্ট্রে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত দুটি সরকার ব্যবস্থার মধ্যে জনাব 'A'-এর সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার ব্যবস্থাটি জনাব 'B'-এর রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থার চেয়ে তুলনামূলকভাবে অধিক উত্তম ও গণতান্ত্রিক বলে আমি মনে করি। নিম্নে এর সপক্ষে যুক্তি দেওয়া হলো:
১. জবাবদিহিতা ও দায়িত্বশীলতা: সংসদীয় ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভাকে আইনসভার নিকট প্রতিমুহূর্তে জবাবদিহি করতে হয়। আইনসভার সদস্যরা প্রশ্ন, সম্পূরক প্রশ্ন ও মুলতবি প্রস্তাবের মাধ্যমে সরকারকে নিয়ন্ত্রণে রাখেন। কিন্তু রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থায় জনাব 'B'-এর মতো রাষ্ট্রপ্রধানের মন্ত্রিসভা আইনসভার নিকট দায়ী থাকে না, ফলে সেখানে স্বৈরাচারী মনোভাব গড়ে ওঠার ঝুঁকি থাকে।
২. ক্ষমতার ভারসাম্য ও একনায়কতন্ত্র রোধ: সংসদীয় ব্যবস্থায় অনাস্থা প্রস্তাবের মাধ্যমে অযোগ্য বা স্বেচ্ছাচারী সরকারকে সহজে অপসারণ করা যায়, যা উদ্দীপকে 'A'-এর সরকারের পতনের মাধ্যমে দৃশ্যমান। বিপরীতে, রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করা অত্যন্ত জটিল (ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া), যা অনেক সময় এক ব্যক্তির হাতে একক ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করে।
৩. আইন ও শাসন বিভাগের সুসম্পর্ক: সংসদীয় ব্যবস্থায় আইন বিভাগ ও শাসন বিভাগের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় ও সহযোগিতা থাকে, যা রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ড দ্রুত ও ফলপ্রসূ করতে সহায়ক।
৪. জনমতের প্রতিফলন: আইনসভার সদস্যদের প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে সাধারণ জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা মন্ত্রিসভায় প্রতিফলিত হয়।যদিও রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারের স্থায়িত্ব বেশি, তথাপি গণতন্ত্রের মূল লক্ষ্য—জনগণের কাছে সরকারের জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা এবং স্বৈরাচার প্রতিরোধ—সংসদীয় ব্যবস্থাতেই সবচেয়ে কার্যকরভাবে রক্ষিত হয়। তাই সংসদীয় সরকার ব্যবস্থাই অধিক শ্রেয় ও উত্তম।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও