অর্থনীতি ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৫

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

'ক' দেশের বাণিজ্যের ক্ষেত্রে উৎপাদনের উপকরণসমূহ অত্যন্ত গতিশীল, বাণিজ্য নীতির কোন পরিবর্তন হয় না এবং মানুষের রুচি ও পছন্দেরও তেমন কোন পার্থক্য থাকে না। অন্যদিকে 'খ' দেশের বাণিজ্যের ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক সম্পদের বৈশিষ্ট্যগত যথেষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান, ভোগের পরিমাণ ও ভোগ অভ্যাস পরিবর্তিত হয় এবং মুদ্রা ও ব্যাংক ব্যবস্থার পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। তবে উভয় বাণিজ্যই যে কোনো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও মানুষের পারস্পারিক চাহিদা পূরণে অত্যাবশ্যকীয়।

  1. ক)

    বিশ্বায়ন কী?

    (1)
  2. খ)

    বিশ্বায়নের ফলে দেশিয় সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে-ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    'ক' ও 'খ' দেশের বাণিজ্যের ধরন চিহ্নিত করে সংজ্ঞায়িত করো।

    (3)
  4. ঘ)

    দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য কোন দেশের বাণিজ্য অধিক গুরুত্বপূর্ণ? তুলনামূলক আলোচনার মাধ্যমে মন্তব্য করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বিশ্বায়ন হলো সমগ্র বিশ্বকে একটি একক সমাজে রূপান্তরিত করার প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক, সামাজিক, প্রযুক্তিগত ও সাংস্কৃতিক সংযোগ ও নির্ভরশীলতা সৃষ্টি হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বিশ্বায়নের ফলে অবাধ তথ্যপ্রযুক্তি, মিডিয়া ও অবাধ বাণিজ্যের প্রসারের কারণে উন্নত ও প্রভাবশালী দেশগুলোর ভোগবাদী সংস্কৃতি, জীবনধারা ও মূল্যবোধ সহজে উন্নয়নশীল দেশে প্রবেশ করে। এর ফলে তরুণ প্রজন্ম নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি ও নৈতিক মূল্যবোধের চেয়ে ভিনদেশি সংস্কৃতিকে বেশি অনুকরণ করতে শুরু করে। নিজস্ব লোকসংস্কৃতি, আচার-অনুষ্ঠান ও ভাষা উপেক্ষিত হওয়ায় দেশিয় সংস্কৃতি ও সামাজিক মূল্যবোধ বিপর্যয়ের মুখে পড়ে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'ক' দেশের বাণিজ্য অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য এবং 'খ' দেশের বাণিজ্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে নির্দেশ করে।

    সংজ্ঞা:
    ১. অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য: একটি নির্দিষ্ট দেশের ভৌগোলিক সীমারেখার মধ্যে বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের মধ্যে যে দ্রব্য ও সেবাকর্মের ক্রয়-বিক্রয় বা লেনদেন সংঘটিত হয়, তাকে অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য বলে। 'ক' দেশের ক্ষেত্রে দেশের ভেতরে উপকরণের গতিশীলতা ও একই নীতি বিদ্যমান থাকায় এটি অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য।

    ২. আন্তর্জাতিক বাণিজ্য: দুই বা ততোধিক স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মকানুন ও চুক্তি মেনে যে দ্রব্য ও সেবার বিনিময় ঘটে, তাকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বলে। 'খ' দেশের ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক পার্থক্যের ভিত্তিতে ভিন্ন ভিন্ন মুদ্রা ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতায় লেনদেন সংঘটিত হওয়ায় এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    একটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে 'ক' দেশের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যের তুলনায় 'খ' দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অধিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিম্নে তুলনামূলক আলোচনার মাধ্যমে তা বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. সম্পদের কাম্য ব্যবহার ও বিশেষায়ন: কোনো একক দেশেই প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রাকৃতিক সম্পদ থাকে না। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মাধ্যমে একটি দেশ তার তুলনামূলক সুবিধাপ্রাপ্ত দ্রব্য উৎপাদনে বিশেষায়ন অর্জন করে উদ্বৃত্ত পণ্য রপ্তানি করে এবং ঘাটতি পণ্য আমদানি করে সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারে। অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যে দেশের ভেতরের সম্পদের সুষম বণ্টন হলেও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মতো বিদেশি দুর্লভ সম্পদ বা প্রযুক্তি আহরণ সম্ভব নয়।

    ২. বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও মূলধনি দ্রব্য আমদানি: আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মাধ্যমে পণ্য ও সেবা রপ্তানি করে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা যায়। এই বৈদেশিক মুদ্রার সাহায্যে শিল্পোন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতি, আধুনিক প্রযুক্তি ও কাঁচামাল আমদানি করা সম্ভব হয়, যা অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যে সম্ভব নয়।

    ৩. বাজার সম্প্রসারণ ও কর্মসংস্থান: আন্তর্জাতিক বাণিজ্য দেশীয় পণ্যের বাজারকে বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত করে। ফলে বৃহদায়তন উৎপাদন সম্ভব হয়, শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হয় এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়ে জাতীয় আয় বৃদ্ধি পায়।

    যদিও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদার ভারসাম্য রক্ষা ও আঞ্চলিক সুষম উন্নয়নের জন্য আবশ্যক, তবুও বিশ্বায়নের যুগে দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও স্বনির্ভরতা অর্জনের জন্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অবদান অপরিসীম। অতএব, অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করতে 'খ' দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যই অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন