বাংলা ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৫

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

জননী এগ্রোর মালিক হাবিব সাহেব। এর ব্যবস্থাপক আব্দুল কাদের প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী হলেও হাবিব সাহেব কাদেরকে নিজের সন্তানের মতোই স্নেহ করেন। তাই ব্যবসার সমস্ত ভার হাবিব সাহেব কাদেরকে দিয়ে নিশ্চিন্ত থাকেন। কিছু দিনের জন্য হাবিব সাহেব বিদেশে যান। ব্যবসার সমস্ত দায়িত্ব দিয়ে যান কাদেরকে। এদিকে কাদের হাবিব সাহেবের শত্রুদের সাথে হাত মিলিয়ে জাল দলিলপত্র করে জননী এগ্রোর মালিক বনে যায়। বিদেশ থেকে এসে হাবিব সাহেব স্তম্ভিত হয় যান। মানুষ এত বড় বিশ্বাসঘাতক হতে পারে তিনি বিশ্বাসই করতে পারেন না।

  1. ক)

    পলাশির যুদ্ধে ইংরেজদের কামানের সংখ্যা কত ছিল?

    (1)
  2. খ)

    "ঘরের লোক অবিশ্বাসী হলে বাইরের লোকের পক্ষে সবই সম্ভব।" উক্তিটির তাৎপর্য লেখ।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে আবদুল কাদেরের সাথে মির জাফর চরিত্রের সাদৃশ্য আলোচনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    ''উদ্দীপকে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের বক্তব্য পরিপূর্ণভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।"-তুমি এ মত সমর্থন কর কি? তোমার মতের পক্ষে যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পলাশির যুদ্ধে ইংরেজদের কামানের সংখ্যা ছিল দশটি।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "ঘরের লোক অবিশ্বাসী হলে বাইরের লোকের পক্ষে সবই সম্ভব"—উক্তিটির তাৎপর্য হলো অভ্যন্তরীণ বিশ্বাসঘাতকতা বাইরের শত্রুর বিজয়কে সুগম করে।

    সিকান্দার আবু জাফর রচিত 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে ঘসেটি বেগম নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে গিয়ে এই কথাটি বলেন। নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে সিংহাসনচ্যুত করতে ঘসেটি বেগম ও মীর জাফরের মতো নবাবের নিজের লোকরাই ইংরেজদের সাথে হাত মেলায়। ভেতরের আপন মানুষেরা যখন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয় ও বিশ্বাসঘাতকতা করে, তখন বহিরাগত শত্রুর পক্ষে যেকোনো অন্যায় সুবিধা আদায় করা এবং অনিষ্ট সাধন করা অত্যন্ত সহজ হয়ে ওঠে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের আব্দুল কাদেরের সাথে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের প্রধান বিশ্বাসঘাতক চরিত্র মীর জাফরের গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।

    উদ্দীপকে হাবিব সাহেব আব্দুল কাদেরকে সন্তানের মতো স্নেহ করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সব দায়িত্ব দিয়ে বিদেশে যান। কিন্তু কাদের সেই অপরিসীম বিশ্বাসের অমর্যাদা করে হাবিব সাহেবের শত্রুদের সাথে আঁতাত করে এবং জাল দলিলের মাধ্যমে জননী এগ্রোর মালিক বনে যায়। এভাবে সে চরম বিশ্বাসঘাতকতার পরিচয় দেয়।

    'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকেও দেখা যায়, নবাব সিরাজউদ্দৌলা মীর জাফরকে প্রধান সেনাপতির মর্যাদা দিয়েছিলেন এবং তাঁকে পরম শ্রদ্ধার চোখে দেখে তাঁর ওপর আস্থা রেখেছিলেন। কিন্তু মীর জাফর সেই বিশ্বাসের চরম অবমাননা করে নবাবের শত্রু ইংরেজদের সাথে গোপন চুক্তি করে মসনদে বসার লোভে লিপ্ত হন। পলাশির প্রান্তরে তিনি সৈন্যদের নিষ্ক্রিয় রেখে নবাবের পতন নিশ্চিত করেন। উদ্দীপকের কাদের যেভাবে মনিবের বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে শত্রুর সাথে হাত মিলিয়ে প্রতিষ্ঠান দখল করে, মীর জাফরও ঠিক একইভাবে নবাবের বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে ইংরেজদের সহায়তায় নবাবের সিংহাসন ছিনিয়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র করেন। অতএব, বিশ্বাসঘাতকতা ও লোভের দিক থেকে আব্দুল কাদের চরিত্রটি মীর জাফরের প্রতিরূপ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "উদ্দীপকে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের বক্তব্য পরিপূর্ণভাবে প্রতিফলিত হয়েছে"—এ মতটি আমি সমর্থন করি না। কারণ নাটকের সামগ্রিক প্রেক্ষাপট ও মূল ভাবের কেবল একটি আংশিক দিক উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে।

    উদ্দীপকে কেবল বিশ্বাসভঙ্গ ও বিশ্বাসঘাতকতার একটি চিত্র ফুটে উঠেছে। আব্দুল কাদের মালিক হাবিব সাহেবের অন্ধ বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে শত্রুদের সহায়তায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখল করে। এটি নিছক একটি ব্যক্তিকেন্দ্রিক ব্যবসায়িক প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতার কাহিনী।

    কিন্তু 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের মূল বক্তব্য কেবল ব্যক্তির সাথে বিশ্বাসভঙ্গের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এই নাটকে রয়েছে বাংলার স্বাধীনতা রক্ষা, দেশপ্রেম, সাম্রাজ্যবাদী ইংরেজদের চক্রান্ত, চাটুকারিতা, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র এবং দেশের সার্বভৌমত্ব হারানোর এক মহাবিপর্যয়ের ইতিহাস। নাটকে মীর জাফরের মতো বিশ্বাসঘাতকের পাশাপাশি যেমন মীরমদান ও মোহনলালের আত্মত্যাগী দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রয়েছে, তেমনি রয়েছে দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য নবাব সিরাজউদ্দৌলার অন্তিম সংগ্রাম ও আত্মোৎসর্গ।

    উদ্দীপকে কেবল মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতার দিকটি আব্দুল কাদেরের আচরণের মাধ্যমে আংশিকভাবে রূপায়িত হয়েছে; কিন্তু নাটকের বিশাল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, দেশপ্রেম, আত্মত্যাগ এবং স্বাধীনতা হারানোর জাতীয় সংকট উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়নি। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের সামগ্রিক বক্তব্য নয়, বরং কেবল আংশিক রূপ ফুটে উঠেছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন