বাংলা ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৫
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
উদরাজপুর একটি ছোট গ্রামীণ বাজার। ফসলের মৌসুমে মানুষের হাতে টাকা থাকে। তখন দোকানগুলোতে ভীড় থাকে। এ সময়ে ভিক্ষুকের আগা-গোনাও বেড়ে যায়। ভিখারির দল বিচিত্র কণ্ঠে গান করে ভিক্ষা চায়। মানুষের মনে দয়া জন্মায়। মানুষ টাকা-পয়সা দিয়ে সাহায্য করে। কিন্তু স্থানীয় ভিক্ষুকরা এতে বঞ্চিত হবার ভয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে বহিরাগত ভিক্ষুকদের ওপর হামলা চালায়।
- ক)(1)
"মরা মানুষ জিন্দা হয় কেমনে" উক্তিটি কার?
- খ)(2)
'যতসব শয়তানি, বেদাতি কাজ কারবার।' ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের স্থানীয় ভিক্ষুকদের সাথে 'লালসালু' উপন্যাসে বর্ণিত মজিদের অনুসারীদের তুলনা কর।
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকের ভিক্ষুক ও 'লালসালু'র পির উভয়েই ব্যক্তি স্বার্থে অন্ধ" মন্তব্যটি যাচাই কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"মরা মানুষ জিন্দা হয় কেমনে" উক্তিটি ধলা মিঞার।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'যতসব শয়তানি, বেদাতি কাজ কারবার' বলতে আওয়ালপুরের নতুন পিরের প্রচলিত ধর্মীয় রীতির বাইরের কার্যকলাপকে মজিদের ভণ্ডামি হিসেবে আখ্যায়িত করার ঘটনাকে বোঝানো হয়েছে।
'লালসালু' উপন্যাসে আওয়ালপুরে এক নতুন পিরের আগমন ঘটে। সেই পির সুর্যের আলো বা অন্ধকারের ভিত্তিতে অদ্ভুত নিয়ম জারি করে এবং ভক্তদের নানা উদ্ভট বিধান দেয়। এতে মজিদের প্রভাব ও আর্থিক আধিপত্য ক্ষুণ্ণ হওয়ার উপক্রম হয়। তাই নিজের ধর্মীয় ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে এবং প্রতিদ্বন্দ্বী পিরকে সাধারণ মানুষের চোখে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য মজিদ ক্ষুব্ধ হয়ে তার কর্মকাণ্ডকে শয়তানি ও বেদাতি কাজ বলে ধিক্কার দেয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের স্থানীয় ভিক্ষুকদের সাথে 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদের অনুসারীদের স্বজাতিপ্রীতি বা প্রভাব বলয় ধরে রাখার মানসিকতায় সাদৃশ্য রয়েছে।
'লালসালু' উপন্যাসে মজিদ মহব্বতনগর গ্রামে ভুয়া মাজার স্থাপন করে সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কারকে পুঁজি করে নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে। গ্রামবাসীকে সে তার অন্ধ ভক্তে পরিণত করে। যখন আওয়ালপুরে নতুন এক পিরের আবির্ভাব ঘটে, তখন মজিদ নিজের প্রভাব হারানোর আশঙ্কায় শঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং তার অন্ধ অনুসারীদের নিয়ে আওয়ালপুরের পিরের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় ও বিরোধে জড়ায়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, গ্রামীণ হাটে ফসলের মৌসুমে মানুষের হাতে টাকা থাকায় দূর-দূরান্ত থেকে বহিরাগত ভিক্ষুকরা গান গেয়ে মানুষের সহানুভূতি আদায় করে ভিক্ষা সংগ্রহ করতে আসে। এতে স্থানীয় ভিক্ষুকরা তাদের আয়ে টান পড়ার ভয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে বহিরাগতদের আক্রমণ করে। মজিদের অনুসারীরা যেমন প্রভাব বজায় রাখতে নতুন পিরের সমর্থকদের প্রতিপক্ষ ভেবেছিল, উদ্দীপকের স্থানীয় ভিক্ষুকরাও তেমনি স্বার্থহানির আশঙ্কায় বহিরাগতদের আক্রমণ করে। এদিক থেকে উভয়ের মধ্যেই নিজ অধিকার বা সুবিধা রক্ষার অন্ধ মনোভাবের মিল পাওয়া যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"উদ্দীপকের ভিক্ষুক ও 'লালসালু'র পির উভয়েই ব্যক্তি স্বার্থে অন্ধ"—মন্তব্যটি সম্পূর্ণ সত্য ও বাস্তবসম্মত।
'লালসালু' উপন্যাসে মজিদ কিংবা আওয়ালপুরের পির উভয়েই ধর্মকে মানুষের কল্যাণ বা আত্মিক শান্তির জন্য নয়, বরং ব্যক্তিস্বার্থ, জীবিকা ও ক্ষমতার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। মহব্বতনগরে মজিদ একটি অজ্ঞাত কবরকে মোদাচ্ছের পিরের মাজার বানিয়ে সাধারণ মানুষকে ধর্মীয় ভয়ভীতি দেখিয়ে নিজের বৈষয়িক ভিত্তি গড়ে তোলে। একইভাবে আওয়ালপুরের পিরও অলৌকিকতার ভান করে মানুষের অজ্ঞতাকে পুঁজি করে স্বার্থ হাসিল করে। ধর্ম তাদের কাছে স্বার্থসিদ্ধির ব্যবসায়িক উপায় মাত্র।
অন্যদিকে উদ্দীপকে দেখা যায়, স্থানীয় ভিক্ষুকরা ফসলের মৌসুমে যখন হাটে অতিরিক্ত অর্থ আয়ের সুযোগ তৈরি হয়, তখন নিজেদের প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে মরিয়া হয়ে ওঠে। বহিরাগত ভিক্ষুকদের আগমনে তাদের ভাগের অর্থ কমে যাওয়ার শঙ্কায় তারা লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। তাদের এই আচরণে স্পষ্ট হয় যে, তারা কেবল ব্যক্তিস্বার্থ রক্ষার্থেই এমন অমানবিক হিংস্রতা প্রদর্শন করেছে।
অতএব, উদ্দীপকের ভিক্ষুকরা যেখানে পেটের ক্ষুধা ও অর্থনৈতিক স্বার্থের জন্য হিংস্র রূপ ধারণ করে, 'লালসালু'র পিরেরা সেখানে ধর্মের মোড়কে ব্যক্তিস্বার্থ ও প্রতিপত্তি টিকিয়ে রাখতে কূটকৌশল অবলম্বন করে। উভয়ের মূল চালিকাশক্তিই হলো ব্যক্তিস্বার্থ। তাই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও