ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬

ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন

শিক্ষক ইসলাম শিক্ষার ক্লাসে পবিত্র কুরআনের একটি আয়াত উল্লেখ করেন, “এবং যখন তাদের বলা হয়, লোকেরা যেভাবে ইমান এনেছে তোমরাও সেভাবে ইমান আন। তারা বলে, আমরা কি বোকাদের মত ইমান আনব?” একজন শিক্ষার্থী বলল, স্যার, কুরআনে বলা হয়েছে, “নিশ্চয়ই আমি পৃথিবীতে খলিফা সৃষ্টি করতে চাই। তারা বলল, আপনি কি সেখানে এমন কাউকে সৃষ্টি করবেন যে সেখানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে এবং রক্তপাত করবে?”

  1. ক)

    কোন গ্রন্থে আদর্শ পরিবার গঠনের নির্দেশনা আছে?

    (1)
  2. খ)

    “তারা বোবা, বধির এবং অন্ধ”—ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে প্রথম আয়াতে উল্লিখিত ‘লোকেরা’ বলতে কাদেরকে বোঝানো হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে শিক্ষার্থীর উদ্ধৃত আয়াতে উল্লিখিত খলিফাদের দায়িত্ব ও মর্যাদা বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পবিত্র আল-কুরআনে আদর্শ পরিবার গঠনের যাবতীয় দিকনির্দেশনা রয়েছে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “তারা বোবা, বধির এবং অন্ধ”—উক্তিটি পবিত্র কুরআনে মুনাফিক ও কাফিরদের সম্পর্কে বলা হয়েছে (সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৮)।

    এর মর্মার্থ হলো, তাদের চোখ, কান ও জিহ্বা থাকা সত্ত্বেও তারা সত্য কথা বলে না, সত্য বাণী শোনে না এবং সত্য পথ দেখতে পায় না। তাদের ইন্দ্রিয়গুলো সত্য গ্রহণের যোগ্যতা হারিয়ে ফেলেছে। ফলে তারা কল্যাণ ও সঠিক পথ থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত হয়ে বিভ্রান্তিতে নিমজ্জিত রয়েছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে প্রথম আয়াতে (সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৩) উল্লিখিত ‘লোকেরা’ বলতে সাহাবায়ে কিরামকে (রা.) বোঝানো হয়েছে।

    রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি সাহাবিগণ যেভাবে নিঃশর্ত ও আন্তরিকভাবে ইমান এনেছিলেন, আল্লাহ তায়ালা সেভাবে অন্যদেরও ইমান আনতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু মুনাফিকরা ছিল অন্তরে কুফরি পোষণকারী এবং দাম্ভিক। যখন তাদেরকে সাহাবিদের মতো খাঁটি ও একনিষ্ঠভাবে ইমান আনতে বলা হতো, তখন তারা অহংকারবশত সাহাবিদের ‘নির্বোধ’ বা ‘বোকা’ বলে উপহাস করত। মূলত সাহাবিদের অবিচল নিষ্ঠা ও আত্মত্যাগের দৃষ্টান্তই ‘লোকেরা যেভাবে ইমান এনেছে’ বাক্যাংশে ব্যক্ত হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে শিক্ষার্থীর উদ্ধৃত আয়াতটি সূরা আল-বাকারার ৩০ নম্বর আয়াত, যেখানে মানুষকে পৃথিবীতে আল্লাহর খলিফা বা প্রতিনিধি হিসেবে সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে। খলিফা হিসেবে মানুষের দায়িত্ব ও মর্যাদা অপরিসীম।

    খলিফাদের দায়িত্ব:
    ১. আল্লাহর বিধান বাস্তবায়ন: পৃথিবীতে আল্লাহর একত্ববাদ প্রতিষ্ঠা করা এবং ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে তাঁর হুকুম-আহকাম মেনে চলা ও বাস্তবায়ন করা।
    ২. ন্যায়বিচার ও শান্তি প্রতিষ্ঠা: পৃথিবীতে বিশৃঙ্খলা ও রক্তপাত বন্ধ করে সমাজে সুবিচার, সততা ও মানবিক মূল্যবোধ কায়েম রাখা।
    ৩. আমানত রক্ষা: সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে আল্লাহর প্রদত্ত প্রাকৃতিক সম্পদ ও অনুগ্রহের সদ্ব্যবহার করা এবং সৃষ্টির সেবা করা।

    খলিফাদের মর্যাদা:
    আল্লাহ তায়ালা মানুষকে সৃষ্টির সেরা জীব বা ‘আশরাফুল মাখলুকাত’ হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। ফেরেশতারা যেখানে মানবজাতির রক্তপাত ও বিশৃঙ্খলার সম্ভাবনার কথা ভেবেছিল, সেখানে আল্লাহ তায়ালা হজরত আদম (আ.)-কে বিশেষ জ্ঞান দান করে ফেরেশতাদের ওপর তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেন এবং তাদের দিয়ে আদমকে সিজদা করান।

    অতএব, খেলাফতের এই গুরুদায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের মাধ্যমেই মানুষ আল্লাহর কাছে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মর্যাদায় সমাসীন হতে পারে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন