‍ইতিহাস ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩

‍ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন

একটি জাতির চিন্তা-চেতনা ও মননের গতিপ্রবাহ নির্ধারিত হয়। বুদ্ধিজীবীদের দ্বারা। বুদ্ধিজীবীরা তাঁদের অর্জিত জ্ঞান দিয়ে সহজেই সমাজে প্রচলিত বিভিন্ন বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করতে পারেন। আর সেগুলো থেকে সমাজের সকল স্তরের মানুষ প্রভাবিত হয়।

  1. ক)

    লীগ অব নেশনস এর সদর দপ্তর কোথায়?

    (1)
  2. খ)

    উড্রো উইলসনের চৌদ্দ দফা ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের বুদ্ধিজীবীদের ন্যায় ফরাসি জনমত গঠনে কাদের। ভূমিকার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    তুমি কি মনে কর, বুদ্ধিজীবীরা ফরাসি বিপ্লবের স্ফুলিঙ্গ জ্বালানোর ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন? তোমার পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    লীগ অব নেশনস এর সদর দপ্তর সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অবস্থিত।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন ১৯১৮ সালের ৮ জানুয়ারি এক ঐতিহাসিক বক্তৃতায় আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠা ও ভবিষ্যৎ যুদ্ধ প্রতিরোধের জন্য ১৪ দফা প্রস্তাব দেন। এগুলোর মধ্যে প্রধান বিষয় ছিল উন্মুক্ত কূটনীতি, সমুদ্রের স্বাধীনতা, নিরস্ত্রীকরণ, বাণিজ্য বাধা দূরীকরণ এবং জাতিসমূহের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য একটি সাধারণ আন্তর্জাতিক সংস্থা (লীগ অব নেশনস) গঠন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের বুদ্ধিজীবীদের ন্যায় ফরাসি জনমত গঠনে আঠারো শতকের ফরাসি দার্শনিক ও চিন্তাবিদদের (যেমন—ভলতেয়ার, রুশো, মন্টেস্কু) ভূমিকার সাদৃশ্য রয়েছে।

    উদ্দীপকে বলা হয়েছে বুদ্ধিজীবীরা তাঁদের মেধা দিয়ে সমাজে প্রচলিত বিষয় বিশ্লেষণ করেন এবং মানুষকে প্রভাবিত করেন। একইভাবে ১৭৮৯ সালের ফরাসি বিপ্লবের পূর্বে ফ্রান্সের দার্শনিকগণ তাঁদের লেখনীর মাধ্যমে তৎকালীন সমাজ, রাষ্ট্র ও চার্চের দুর্নীতি, কুসংস্কার এবং চরম বৈষম্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তুলে ধরেন। রুশোর 'সামাজিক চুক্তি', ভলতেয়ারের যুক্তিবাদী সমালোচনা এবং মন্টেস্কুর 'ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি' ফরাসি জনগণকে স্বৈরাচারী রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে সচেতন ও অধিকারকামী করে তুলেছিল।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, আমি মনে করি দার্শনিক ও বুদ্ধিজীবীরা ফরাসি বিপ্লবের স্ফুলিঙ্গ জ্বালানোর ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন।

    ফ্রান্সের পুরাতন ব্যবস্থা বা 'অঁসিয়া রেজিম'-এর অধীনে তৃতীয় সম্প্রদায়ের মানুষ সীমাহীন শোষণ ও বঞ্চনার শিকার হচ্ছিল, কিন্তু তারা এটিকে ভাগ্যের লিখন হিসেবে মেনে নিয়েছিল। এই স্থবির মানসিকতায় রূপান্তর ঘটান তৎকালীন বুদ্ধিজীবীরা। মন্টেস্কু তাঁর 'দ্য স্পিরিট অব লজ' গ্রন্থে রাজার ঐশ্বরিক অধিকারের অসাড়তা প্রমাণ করে ক্ষমতা বিভাজনের প্রস্তাব দেন। ভলতেয়ার চার্চের ভণ্ডামি ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তীব্র আঘাত হানেন। বিশেষ করে জঁ-জাক রুশো তাঁর 'দ্য সোশ্যাল কন্ট্রাক্ট' গ্রন্থে ঘোষণা করেন—'মানুষ স্বাধীন হয়ে জন্মায়, কিন্তু সর্বত্র সে শৃঙ্খলিত'।

    দার্শনিকদের এই বৈপ্লবিক চিন্তা জনগণের মনোজগতে আলোড়ন তোলে এবং সাম্য, মৈত্রী ও স্বাধীনতার ধারণায় তাদের উজ্জীবিত করে। ফলে তারা অন্যায় ব্যবস্থার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় এবং ১৭৮৯ সালের ফরাসি বিপ্লব সংঘটিত করে। তাই বুদ্ধিজীবীরাই ছিলেন ফরাসি বিপ্লবের প্রধান বৌদ্ধিক চালিকাশক্তি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন