সমাজকর্ম ১ম পত্র • সমাজকর্মের মূল্যবোধ ও নীতিমালা • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬

সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন

সৃজন ও সুমন দুইভাই। সৃজন জ্ঞানের একটি নির্দিষ্ট শাখায় সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জনের পর সেই জ্ঞানের উপর ভিত্তি করে জীবিকা অর্জনের পথ বেছে নিয়েছে। কিন্তু সুমন লেখাপড়া ছেড়ে পারিবারিক কাজে বাবাকে সহায়তা করে এবং ক্ষুদ্র ব্যবসা পরিচালনা করে।

  1. ক)

    মূল্যবোধ কী?

    (1)
  2. খ)

    আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    সৃজনের জীবিকা নির্বাহের উপায়টির বৈশিষ্ট্য বর্ণনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    সৃজন ও সুমনের জীবিকা নির্বাহের উপায় দুটির পার্থক্য নিরূপণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মূল্যবোধ হলো মানুষের আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ড পরিচালনাকারী এমন কিছু বিশ্বাস, আদর্শ ও মানদণ্ড যা সমাজে ভালো-মন্দ, কাঙ্ক্ষিত-অনাকাঙ্ক্ষিত নির্ধারণ করে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার সমাজকর্মের একটি মৌলিক নীতিমালা। এর অর্থ হলো প্রত্যেক সাহায্যার্থী বা ব্যক্তির নিজের সমস্যা সমাধানে নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও পছন্দ করার পূর্ণ স্বাধীনতা থাকবে। সমাজকর্মী সাহায্যার্থীর ওপর কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেন না, বরং তাকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে সৃজনের জীবিকা নির্বাহের উপায়টি হলো 'পেশা' (Profession)। সৃজন একটি নির্দিষ্ট শাখায় সর্বোচ্চ ডিগ্রি ও তাত্ত্বিক জ্ঞানের ভিত্তিতে জীবিকা নির্বাহ করছে, যা পেশার পরিচায়ক।

    পেশার প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
    ১. বিশেষায়িত জ্ঞান ও দক্ষতা: পেশার পেছনে সুনির্দিষ্ট তাত্ত্বিক জ্ঞান এবং দীর্ঘমেয়াদি উচ্চতর শিক্ষার প্রয়োজন হয়।
    ২. ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ: শুধু ডিগ্রি নয়, পেশাগত কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য যথাযথ প্রায়োগিক ও মাঠপর্যায়ের প্রশিক্ষণ থাকতে হয়।
    ৩. নৈতিক নীতিমালা ও আচরণবিধি: প্রতিটি পেশার নিজস্ব আচরণবিধি বা কোড অব এথিক্স থাকে, যা পেশাজীবীদের মেনে চলতে হয়।
    ৪. পেশাগত সংগঠন: পেশার মান নিয়ন্ত্রণ এবং পেশাজীবীদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য একটি সক্রিয় পেশাগত সংগঠন বা সংস্থা থাকে।
    ৫. জনকল্যাণমুখিতা: পেশার অন্যতম লক্ষ্য শুধু অর্থ উপার্জন নয়, বরং সমাজের কল্যাণ সাধন করা।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে সৃজনের জীবিকা নির্বাহের উপায়টি হলো 'পেশা' এবং সুমনের উপায়টি হলো 'বৃত্তি' (Occupation)। এ দুটির মধ্যে সুস্পষ্ট কিছু পার্থক্য রয়েছে:

    ১. ধারণাগত পার্থক্য: পেশা হলো বিশেষায়িত জ্ঞান, উচ্চতর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত জীবিকা নির্বাহের উপায়। অন্যদিকে, বৃত্তি হলো কোনো বিশেষ জ্ঞান বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ছাড়া জীবিকা অর্জনের যেকোনো সাধারণ কাজ।
    ২. শিক্ষাগত যোগ্যতা: সৃজনের পেশায় নিয়োজিত হওয়ার জন্য উচ্চতর প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি এবং পদ্ধতিগত তাত্ত্বিক জ্ঞান অপরিহার্য। পক্ষান্তরে, সুমনের ক্ষুদ্র ব্যবসা বা পারিবারিক কাজে কোনো নির্দিষ্ট বা উচ্চতর শিক্ষার প্রয়োজন হয় না।
    ৩. প্রশিক্ষণ: পেশার জন্য আনুষ্ঠানিক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক, কিন্তু সাধারণ বৃত্তির ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের বাধ্যবাধকতা নেই।
    ৪. পেশাগত নীতিমালা ও সংগঠন: সৃজনের পেশাগত ক্ষেত্রে স্বীকৃত আচরণবিধি ও পেশাগত সংগঠন বিদ্যমান থাকে। কিন্তু সুমনের মতো সাধারণ ব্যবসায় কোনো সুনির্দিষ্ট পেশাগত আচরণবিধি প্রযোজ্য নয়।
    ৫. দায়বদ্ধতা ও মর্যাদা: পেশার ক্ষেত্রে সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং জনকল্যাণের ব্রত থাকে বেশি, যা পেশাকে অধিক সামাজিক মর্যাদা প্রদান করে। বৃত্তির প্রধান উদ্দেশ্য ব্যক্তিস্বার্থ বা কেবল আর্থিক লাভ।

    সুতরাং, উপযুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, সকল পেশাই বৃত্তি হলেও সকল বৃত্তি পেশা নয়। সৃজন ও সুমনের কাজের ধরন এ পার্থক্যেরই প্রতিফলন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন