পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • হলি ক্রস কলেজ, ঢাকা • হলি ক্রস কলেজ, ঢাকা টেস্ট পরীক্ষা ২০২৪
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি সম্পর্কে পাঠদান করছিলেন। একজন ছাত্র দাঁড়িয়ে শিক্ষককে জিজ্ঞেস করে যে, এই নীতি কোনো রাষ্ট্রে পুরোপুরি কার্যকর রয়েছে কিনা। শিক্ষক বললেন, আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রণেতারা এই নীতি দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন। তবে সেখানেও এই নীতি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। সে দেশে প্রয়োগ করা হচ্ছে 'নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য নীতি'।
- ক)(1)
বিচারকদের নিয়োগ পদ্ধতি কয়টি ও কী কী?
- খ)(2)
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের শিক্ষকের পাঠদানের বিষয় "ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি" টি ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে দাও।
- ঘ)(4)
"আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে এমনকি পৃথিবীর কোনো রাষ্ট্রেই পূর্ণ ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি কার্যকর করা হয়নি"- উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিচারকদের নিয়োগ পদ্ধতি প্রধানত ৩টি। যথা: ১. শাসন বিভাগ কর্তৃক নিয়োগ, ২. আইন বিভাগ কর্তৃক নিয়োগ এবং ৩. জনগণ কর্তৃক সরাসরি নির্বাচন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বলতে বোঝায় বিচারকগণ আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও নির্ভীকভাবে কোনো ভয়-ভীতি বা প্রলোভনের ঊর্ধ্বে থেকে বিচারকাজ পরিচালনা করার ক্ষমতা। এতে শাসন ও আইন বিভাগের অযাচিত হস্তক্ষেপ বা চাপ থেকে বিচার বিভাগ পুরোপুরি মুক্ত থাকে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে শিক্ষকের পাঠদানের বিষয় হলো "ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি" (Doctrine of Separation of Powers)।
ফরাসি দার্শনিক মন্টেস্কু তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ 'দ্য স্পিরিট অব লজ' (The Spirit of Laws)-এ ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা প্রদান করেন। এই নীতি অনুযায়ী, সরকারের প্রধান তিনটি অঙ্গ— আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ— একে অপরের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা ও স্বতন্ত্র থাকবে। প্রতিটি বিভাগ নির্দিষ্ট পরিধির মধ্যে নিজস্ব ক্ষমতা প্রয়োগ করবে এবং এক বিভাগ অন্য বিভাগের কাজে হস্তক্ষেপ করবে না।
এর মূল উদ্দেশ্য হলো সরকারের ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করা এবং নাগরিকদের ব্যক্তি-স্বাধীনতা রক্ষা করা। উদ্দীপকের শিক্ষক এই ধারণাই শ্রেণিকক্ষে উপস্থাপন করেছেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে এমনকি পৃথিবীর কোনো রাষ্ট্রেই পূর্ণ ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি কার্যকর করা হয়নি"— উক্তিটি যথার্থ ও যৌক্তিক।
তাত্ত্বিকভাবে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি আকর্ষণীয় হলেও বাস্তবে সরকারের তিনটি বিভাগকে সম্পূর্ণ আলাদা রাখা অসম্ভব এবং অকল্যাণকর। বিভাগগুলো একে অপরের থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হলে সরকারের কাজের ধারাবাহিকতা ও পারস্পরিক সমন্বয় বিনষ্ট হয় এবং শাসনকাজে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়।
আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে এ নীতিকে গ্রহণ করার চেষ্টা করা হয়েছিল। সেখানে রাষ্ট্রপতি, কংগ্রেস ও সুপ্রিম কোর্ট স্বতন্ত্রভাবে গঠিত। কিন্তু বাস্তবে সরকারের একচ্ছত্র ক্ষমতা ও স্বৈরাচার রোধ করতে গিয়ে পূর্ণ স্বতন্ত্রীকরণের বদলে সেখানে 'নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য নীতি' (Checks and Balances) প্রবর্তন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি কংগ্রেসের আইন ভেটো দিতে পারেন, কংগ্রেস রাষ্ট্রপতির নিয়োগ ও বাজেট নিয়ন্ত্রণ করতে পারে এবং বিচার বিভাগ উভয়ের কাজকে বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার আওতায় আনতে পারে।
অতএব, সরকারের সুসমন্বিত পরিচালনা ও কার্যকারিতার স্বার্থে কোনো রাষ্ট্রেই পূর্ণ ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি বাস্তবায়িত হয়নি, বরং আপেক্ষিক স্বতন্ত্রীকরণ ও নিয়ন্ত্রণ-ভারসাম্য ব্যবস্থাপনাই সর্বত্র অনুসৃত হচ্ছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও