ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন

মালয়েশিয়ার আনোয়ার ইব্রাহিম ছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদের রনিংমেট। তথাপি সন্দেহবশত একটি তুচ্ছ ঘটনাকে অজুহাত করে মাহাথির তাকে চিরতরে ক্ষমতার বাইরে পাঠিয়ে দেন। পরবর্তীতে মাহাথিরের ক্ষমতা ও জনপ্রিয়তা লোপ পায়।

  1. ক)

    খায়জুরান কে ছিলেন?

    (1)
  2. খ)

    'বায়তুল হিকমা' কী? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের আনোয়ার ইব্রাহিমের সাথে বার্মা‌কি পরিবারের কোন সদস্যের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের আলোকে বার্মা‌কি পরিবারের পতনের কারণ মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    খায়জুরান ছিলেন আব্বাসীয় খলিফা আল-মাহদীর স্ত্রী এবং খলিফা আল-হাদী ও হারুন আল-রশিদের মা।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'বায়তুল হিকমা' শব্দের অর্থ 'জ্ঞানের গৃহ'। এটি ছিল আব্বাসীয় খলিফা আল-মামুন কর্তৃক ৮৩০ খ্রিস্টাব্দে বাগদাদে প্রতিষ্ঠিত একটি বিখ্যাত গবেষণাগার, অনুবাদ কেন্দ্র ও উন্মুক্ত গ্রন্থাগার। এখানে গ্রিক, ভারতীয়, পারসিকসহ বিভিন্ন ভাষার দর্শন, বিজ্ঞান ও চিকিৎসা বিষয়ক পাণ্ডুলিপি আরবিতে অনুবাদ করা হতো এবং এটি মধ্যযুগে জ্ঞানচর্চার শ্রেষ্ঠ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের আনোয়ার ইব্রাহিমের সাথে আব্বাসীয় খলিফা হারুন আল-রশিদের প্রধানমন্ত্রী এবং বার্মাকি পরিবারের অন্যতম সদস্য জাফর বার্মাকির মিল রয়েছে।

    খলিফা হারুন আল-রশিদের শাসনকালে বার্মাকি পরিবার, বিশেষ করে প্রধান উজির ইয়াহিয়া ও তাঁর পুত্র জাফর বার্মাকি শাসন পরিচালনায় অসীম ক্ষমতা ও প্রজ্ঞার পরিচয় দেন। জাফর ছিলেন খলিফার অত্যন্ত প্রিয়পাত্র, ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও বিশ্বস্ত সহচর। কিন্তু পরবর্তীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক সন্দেহ ও একটি তুচ্ছ ব্যক্তিগত ঘটনার (খলিফার ভগিনী আব্বাসার সাথে জাফরের গোপন সম্পর্ক/বিয়ে) সন্দেহের বশে খলিফা জাফরকে মৃত্যুদণ্ড দেন এবং বার্মাকিদের ধ্বংস করেন। উদ্দীপকে যেমন মাহাথিরের ঘনিষ্ঠ রানিংমেট আনোয়ার ইব্রাহিমকে সন্দেহের বশে দূরে ঠেলে দেওয়া হয়, তেমনি খলিফাও তাঁর বিশ্বস্ত সঙ্গী জাফরকে ক্ষমতাচ্যুত ও হত্যা করেন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের আলোকে বার্মাকি পরিবারের পতনের কারণগুলো অত্যন্ত স্পষ্ট ও তাৎপর্যপূর্ণ।

    আব্বাসীয় খলিফা হারুন আল-রশিদের আমলে বার্মাকিদের প্রভাব-প্রতিপত্তি, অর্থবিত্ত এবং জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী হয়ে ওঠে। উদ্দীপকে যেমন একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাহাথির তাঁর আস্থাভাজনকে বরখাস্ত করেন, বার্মাকিদের পতনের পেছনেও প্রত্যক্ষ উপলক্ষ হিসেবে খলিফার বোন আব্বাসার সাথে জাফরের সম্পর্কের অভিযোগ তোলা হয়েছিল।

    তবে মূল কারণগুলো ছিল রাজনৈতিক ও মানসিক:
    ১. অতিরিক্ত ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি: বার্মাকিরা সাম্রাজ্যের প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও অর্থ ব্যবস্থার ওপর একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিল, যা খলিফার জন্য সার্বভৌমত্বের হুমকি মনে হয়েছিল।
    ২. অর্থ অপচয় ও প্রদর্শন: তাদের বিপুল দানশীলতা ও জাঁকজমক খলিফার মর্যাদাকে ম্লান করে দিচ্ছিল।
    ৩. অনারব বনাম আরব দ্বন্দ্ব: বার্মাকিদের পারসিক জাতীয়তাবাদের প্রাধান্য আরব দরবারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও ষড়যন্ত্রের সৃষ্টি করে।
    ৪. খলিফার সন্দেহ ও ভয়: হারুন আল-রশিদ আশঙ্কা করেছিলেন যে বার্মাকিরা যেকোনো সময় আব্বাসীয় সিংহাসন দখল করে নিতে পারে।

    পরিশেষে, জাফরকে হত্যা ও পুরো বার্মাকি পরিবারকে সমূলে ধ্বংস করার পর হারুন আল-রশিদের শাসনযন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়েছিল, ঠিক যেমন উদ্দীপকে মাহাথিরের জনপ্রিয়তা হ্রাসের কথা বলা হয়েছে। সুতরাং বার্মাকিদের অতি-ক্ষমতাকেন্দ্রীকরণ এবং খলিফার সন্দেহবাতিক মানসিকতাই তাদের পতনের প্রধান কারণ ছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন