সমাজকর্ম ১ম পত্র • সামাজিক নীতি ও পরিকল্পনা এবং সমাজকর্ম • Combined Board • রাজশাহী, বরিশাল বোর্ড ২০১৭
সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন
বাংলাদেশ সরকারের যুগান্তকারী পদক্ষেপের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মানবতার বিকাশ, জনমুখী উন্নয়ন ও প্রগতিতে নেতৃত্বদানকারী মননশীল, যুক্তিবাদী, দেশপ্রেমিক, কর্মকুশল নাগরিক গড়ে তোলা। সেই লক্ষ্যে সরকার শিক্ষাক্রম, পাঠ্যসূচি প্রণয়ন, শিক্ষণ, শিক্ষা পদ্ধতির পরিবর্তনসমূহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যার ফলে বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ায় সাফল্য অর্জন করেছে।
- ক)(1)
জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি কত সালে প্রণীত হয়?
- খ)(2)
নগরমুখিতা নিরুৎসাহিত করা ও পরিকল্পিত নগরায়ণ বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লেখিত সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ কোন সামাজিক নীতির অন্তর্ভুক্ত? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লেখিত পদক্ষেপ কীভাবে যুগোপযোগী দক্ষ মানব সম্পদ উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে? পাঠ্যপুস্তকের আলোকে মতামত দাও।.
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি প্রথম ১৯৯৭ সালে প্রণীত হয় (এবং পরবর্তীতে সর্বশেষ ২০১১ সালে সংশোধিত হয়)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নগরমুখিতা নিরুৎসাহিত করা বলতে গ্রাম বা প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে মানুষের শহরমুখী হওয়ার প্রবণতা হ্রাস করার লক্ষ্যে গ্রামীণ এলাকায় জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণকে বোঝায়। আর পরিকল্পিত নগরায়ণ বলতে ভবিষ্যৎ জনসংখ্যা, পরিবেশ, যান চলাচল ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধার সঠিক ভারসাম্য বজায় রেখে একটি আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই শহর গড়ে তোলার প্রক্রিয়াকে বোঝায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ সামাজিক নীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ 'জাতীয় শিক্ষানীতি'র অন্তর্ভুক্ত।
একটি দেশের সার্বিক উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হলো মানবসম্পদ, আর মানবসম্পদ তৈরির প্রধানতম মাধ্যম হলো শিক্ষা। শিক্ষানীতি হলো শিক্ষাব্যবস্থার লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, পাঠ্যক্রম এবং পরিচালনা সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, সরকার মননশীল, যুক্তিবাদী, দেশপ্রেমিক ও কর্মকুশল নাগরিক গড়ে তোলার লক্ষ্যে শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচি প্রণয়ন, শিক্ষণ ও শিক্ষা পদ্ধতির আধুনিকীকরণ করছে, যার ফলে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব হয়েছে। এই লক্ষ্য ও পদক্ষেপগুলো ২০১০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতির মূল উদ্দেশ্যের সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ। অতএব, সরকারের গৃহীত এসব পদক্ষেপ 'জাতীয় শিক্ষানীতি'র আওতাভুক্ত।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত পদক্ষেপসমূহ যুগোপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পাঠ্যপুস্তকের আলোকে নিম্নে মতামত দেওয়া হলো:
প্রথমত, আধুনিক ও বাস্তবসম্মত শিক্ষাক্রম এবং পাঠ্যসূচি শিক্ষার্থীদের কেবল তাত্ত্বিক জ্ঞানে সীমাবদ্ধ না রেখে বিজ্ঞানমনস্ক, প্রযুক্তিবান্ধব ও বাস্তবমুখী জ্ঞানের সাথে পরিচিত করায়। এর ফলে শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের উপযোগী দক্ষতা অর্জন করতে পারে।
দ্বিতীয়ত, আধুনিক শিক্ষা পদ্ধতির প্রয়োগের ফলে মুখস্থবিদ্যার পরিবর্তে যুক্তিবাদী, সৃজনশীল ও সমস্যা সমাধানে দক্ষ জনশক্তি গড়ে ওঠে, যা যেকোনো দেশের শিল্প ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির পূর্বশর্ত।
তৃতীয়ত, ডিজিটাল শিক্ষার সম্প্রসারণের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ জনশক্তি তৈরি হচ্ছে, যারা ফ্রিল্যান্সিং, তথ্যপ্রযুক্তি খাত এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনা শিল্পে নেতৃত্ব দিতে পারছে। এতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায়।
চতুর্থত, নৈতিকতা ও দেশপ্রেমের সমন্বয়ে গঠিত শিক্ষা একজন নাগরিককে শুধু দক্ষ কর্মীই করে তোলে না, বরং দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে, যা টেকসই উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।
সুতরাং বলা যায়, শিক্ষাক্রম ও শিক্ষা পদ্ধতির আধুনিকীকরণ এবং তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি দক্ষ, উৎপাদনশীল ও যুগোপযোগী মানবসম্পদে রূপান্তর ঘটাতে সক্ষম।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও